Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাসিকের বর্ধিত ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে হরতালের ডাক– বিস্তারিত....
  • রোহিঙ্গা সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুষলেন সু চি– বিস্তারিত....
  • লক্ষ্মীপুরে ভাটা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার– বিস্তারিত....
  • ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং হাসপাতালে– বিস্তারিত....
  • ফেসবুক ও টুইটারে শাহরুখের পারিবারিক ছবি– বিস্তারিত....

সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে ব্যাপক চাঁদাবাজি, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

নভেম্বর ৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে বিটের নামে গরু-মহিষ থেকে চাঁদা আদায় হচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীদেরকে গরু-মহিষ প্রতি অতিরিক্ত ১৬০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভারতীয় গরু-মহিষ সীমান্ত এলাকায় আসার পর সুলতানগঞ্জ কাস্টমসে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা  জমা দিয়ে রাজস্ব ছাড়পত্র  সংগ্রহ করতে হয়। এসব গরু-মহিষ সুলতানগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করার পর দেশের অভ্যন্তরে চলে যায়। কিন্তু গত রোববার থেকে ভারতীয় গরু-মহিষ জোর করে সুলতানগঞ্জের মুন্টুর বিটে ঢোকাচ্ছে।

এ নিয়ে সুলতানগঞ্জ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা গরু-মহিষ  নিয়ে তাদের পছন্দের বিটে যেতে চাইলে মন্টুর লোকজন ব্যবসায়ীদের মারধর করছেন।

মন্টু বিটের নামে গরু-মহিষ প্রতি ১১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, মন্টুর লোকজনকে এই কাজে সহযোগীতা করছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সুলতানগঞ্জ মন্টুর বিটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মন্টুর লোকজনকে তাদের কাজে পুলিশের সহযোগীতা করার বিষয়টি সঠিক নয়।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

সাইফুদ্দীন নামে এক গরু ব্যবসায়ী জানান, ১৯৯৪ সালে সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোর চালুর পর থেকে তারা নিজের জায়গা ভাড়া করে গরু-মহিষ রেখে আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে গরু-মহিষ আসা কমে যাওয়ায় অনেকেই ব্যবসায় ছেড়ে দেন। নতুন করে গত কয়েক মাস থেকে আবারও গরু-মহিষ আসা শুরু হয়েছে। পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী সুলতানগঞ্জ করিডোরে গরু মহিষের ব্যবসা করে আসলেও হঠাৎ করে বিটের নামে চাঁদা আদায় হচ্ছে। অথচ মন্টুর মত সুলতানগঞ্জ এলাকায় শতাধিক বিট রয়েছে।

একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কাস্টমসে ৫০০ টাকা রাজস্ব দেওয়ার পরও অতিরিক্ত ১৬০ টাকা করে দিতে হয়। এর মধ্যে মন্টু বিট বাবদ ১১০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন,  এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের নামে।

এদিকে সীমান্ত পার হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বগচর  ও বাখের আলীতে সরকার অনুমোদিত বিটে গরু-মহিষ প্রতি ২০০ টাকা দিতে হয়। সীমান্ত থেকে সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে গরু-মহিষ  আসা পর্যন্ত গরু-মহিষ প্রতি চরের বিট ২০০ টাকা, খেওয়া ঘাটে ইজারা বাবদ ১০০ টাকা, নৌকা ভাড়া বাবদ ১০০ টাকা, সুলতানগঞ্জ মন্টুর বিটসহ  ১৬০ চাঁদা বাবদ  টাকা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের একটি গরু-মহিষে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ৫৬০ টাকা। এতো চাঁদার পরেও পশুর প্রতি ট্রাক থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করছেন তথাকথিত ট্রাক শ্রমিকেরা।

এতে গরু-মহিষ ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে ৫ থেকে ১০ হাজার গরু-মহিষ আসে।