Ad Space

তাৎক্ষণিক

শেষ হলো ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র উৎসব

নভেম্বর ৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও নেপালের ৩০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শণীর মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহীতে শেষ হলো ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৬। গত শনিবার থেকে রাজশাহীতে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শণী শুরু হয়।

এর আগের দিন শুক্রবার উপমহাদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে দুই বাংলার পাঁচ চলচ্চিত্রকার ও গবেষককে ঋত্বিক ঘটক সম্মাননা পদক দেয়ার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হয়। রাজশাহীর ‘ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি’ এই পদক দেয়।

চার দিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শণীতে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর পদ্মাপাড়ে লালন মঞ্চ ও বড়কুঠি মুক্ত মঞ্চে চলচ্চিত্র প্রদর্শণ করা হয়। প্রদর্শণীর প্রথম দিন শনিবার লালন মঞ্চে প্রদর্শিত হয় ভারতের বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘আনওয়ার কা আজাব কিশ্সা’। এ দিন বড়কুঠি মুক্ত মঞ্চে দেখানো হয় মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘অনিল বাগচির একদিন’।

দ্বিতীয় দিন রোববার বড়কুঠি মুক্ত মঞ্চে প্রদর্শিত হয় রাজশাহীর তাওকীর ইসলাম পরিচালিত ‘আয়না’, এমআই মুন্না পরিচালিত কপি, বসন্ত বাশার পরিচালিত ‘লাভ ইউ সাকিব’, শ্রীলংকার কৈশলা প্যাথিরানা পরিচালিত ‘গড মাস্ট বি ডিফ’ ও ভারতের শ্রীশাতা দাসের ‘বিটউইন’।

এ দিন লালন মঞ্চে দেখানো হয় নেপালের অরুণ দিও জসি পরিচালিত ‘দ্য স্টেইভ’, ভারতের পায়া শেঠি পরিচালিত ‘লিচিস’, রাজশাহীর মাহমুদ হোসেন মুরাদের ‘আলোর দেখা’ ও আহসান কবীর লিটনের ‘নিরবতার স্বপ্ন’।

rajshahi-rittik-ghotok-film-festival-photo-1
তৃতীয় দিন সোমবার বড়কুঠি মঞ্চে দেখানো হয় রাজশাহীর শাহারিয়ার চয়নের ‘ফানুস’, মাহফুজ আহমেদের ‘লাভ বোথ সাইড’, অমিত রুদ্রের ‘অন্য কোথাও চল’, আরিফুল রহমান আরিফের ‘কুকুরের প্রতি’, আরিফ হোসেন হৃদয়ের ‘মুখোশ’, মোস্তাহাব হোসেনের ‘দুরন্ত’, ড. সাজ্জাদ বকুলের ‘দাবানল’ ও ভারতের শতরুপা স্যানালের ‘অপালা’।

ওই দিন লালন মঞ্চে দেখানো হয় ভারতের ক্রিস্ট টমি পরিচালিত ‘সুইটহার্ট’, গিরিস কুমার পরিচালিত ‘টু নোটস’, বিজু তপ্পু পরিচালিত ‘দ্য হান্ট’, ইন্দ্রনীল কশাপ পরিচালিত ‘কুলা’, ময়ুরী ওয়ালক পরিচালিত ‘দ্য ইমপাসে’ ও শ্রীলংকার সুদাথ আবে শিরিওয়ারাদাহ পরিচালিত ‘ডাইং ড্রিমস’।

উৎসবের শেষ দিন মঙ্গলবার লালন মঞ্চে প্রদর্শিত হয় রাজশাহীর সীমান্ত রাজনের ‘ইন দ্য ডার্ক’, এমআই মুন্নার ‘যদি সে জানতো’, শাহারিয়ার চয়নের ‘সহানুভূতি’ ও ভারতের এসডি পুভানিন্দ্রামের ‘মারাভান’। আর বড়কুঠি মঞ্চে দেখানো হয় রাজশাহীর আহসান কবীর লিটনের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘প্রত্যাবর্তন’।

rajshahi-rittik-ghotok-film-festival-photo-2
গত চার দিনের এই চলচ্চিত্র প্রদর্শণীতে পদ্মাপাড়ে ঢল নামে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। উৎসবের আমেজ বয়ে যায় ওই দুই মঞ্চে। আগ্রহের সঙ্গে চলচ্চিত্র দেখতে আসায় উৎসবের শেষ দিন বড়কুঠি মঞ্চে দর্শকদের ধন্যবাদ জানান ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ।

এর আগে শুক্রবার উৎসবের প্রথম দিন রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মিলনায়তনে ঋত্বিক সম্মাননা পদক বিতরণ করা হয়। এবার এ পদক পান চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (ভারত), মোরশেদুল ইসলাম (বাংলাদেশ), চলচ্চিত্র গবেষক প্রেমেন্দ্র মজুমদার (ভারত), অনুপম হায়াৎ (বাংলাদেশ) ও আলোকসম্পাতক আবু তাহের (বাংলাদেশ)। ২০০৯ সাল থেকে এ পদক দিয়ে আসছে ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি।

বর্তমানের রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজটিই চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈত্রিক নিবাস। ঋত্বিক ঘটক চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষ করেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে। ১৯৪৬ সালে আইএ পরীক্ষা দেন রাজশাহী কলেজ থেকে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরপরই পরিবারের সঙ্গে চলে যান ভারতে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো এখনও দর্শকদের বিমোহিত করে।