Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

মমতার প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় জঙ্গি নেতাদের প্রতি!

নভেম্বর ৮, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবাংলা। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মনন আর উত্তরাধিকারে বিভিন্ন। তেমনি অভিন্ন জঙ্গিবাদী ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশ নিষিদ্ধ জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) পশ্চিমবাংলায় অস্ত্র কারখানা তৈরি করে সেখানে ঘাঁটি গেড়ে বাংলাদেশে সেই অস্ত্রেও মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এ ধরনের একাধিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কলকাতায় গ্রেফতার হয়েছে জেএমবি’র জঙ্গি সদস্য ফারুক ওরফে আনওয়ার হোসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ এবং বাংলাদেশের র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার অস্ত্রও পশ্চিমবাংলা থেকেই বাংলাদেশে এসেছে বলে এনআইএ জানিয়েছে।

সূত্র জানাচ্ছে, এনআইএন ও র‌্যাবের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ফারুক জানিয়েছে এর আগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভারি অস্ত্রেও কারখানা গড়ে তুলে সেখানে অস্ত্র ও গ্রেনেড উৎপাদন করে বাংলদেশে এনে হামলার পরিকল্পনা নিয়েই কেবল এগোচ্ছিলো জেএমবিসহ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। কিন্তু দুই বছর আগে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু জঙ্গি সদস্য ধরা পড়ায় তারা কৌশল কিছুটা বদলায়। এখন তারা ভারতে অস্ত্র তৈরি করে সুযোগ বুঝে অল্প অল্প করে বাংলাদেশে আনছে। তারপর বাংলাদেশ সেই অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলে সুযোগ বুঝে আবার হামলার পরিকল্পনা করছে। জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা থেকে বাদ নেই পশ্চিমবাংলা তথা ভারতেও। জঙ্গিরা সেখানেও তাদের কার্যক্রম বিস্তার করছে। এ কাজে বাংলাদেশের জামাতে ইসলামের মতো জেএমবি’র স্থানীয় সঙ্গি ভারতের মৌলবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো।

এ সকল গোষ্ঠীর সাথে আবার পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটা প্রকট বা প্রচ্ছিন্ন ঐক্য আছে, যেমন আছে বাংলাদেশের বিএনপি’র সাথে। এ ধরনের একাধিক ইসলামী নেতা মমতা ব্যানার্জীর মন্ত্রীসভায়ও আছেন। মমতার মন্ত্রীসভার সদস্য সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বাংলাদেশবিরোধী মিছিলও করেছেন বিভিন্ন সময়ে। দুই বছর আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ইমরান আহমেদের সম্পৃক্ততাও জানা গিয়েছিলো। সম্প্রতি কলকাতা থেকে গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গি ফারুক ওরফে আনওয়ার হোসেন। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ এবং বাংলাদেশের র‌্যাব তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। র‌্যাব-৪ এর একটি দল কলকাতায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বাংলাদেশে নতুন করে কোনো হামলার পরিকল্পনা আছে কিনা কিংবা বাংলাদেশের কোথায় তারা অস্ত্র ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে এগুলো জানার চেষ্টা করেছেন র‌্যাব কর্মকর্তা। একই সাথে জঙ্গি ফারুককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ভারতের সরকারের সাথে আলোচনাও চলছে।

এনআইএ’র জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কলকাতার মেটিয়াবুরুজে নতুন ঘাঁটি গেড়ে অস্ত্র কারখানা গড়ার পরিকল্পনা করেছিলো জেএমবি। এই কাজে তাদের সঙ্গী হয়েছে স্থানীয় কিছু যুবক। পশ্চিমবঙ্গে অস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশে পাচার করে হামলার জন্য মজুদের পরিকল্পনা করেছে জেএমবি। আপাতত নতুন কৌশল হলো সময় ও সুযোগ বুঝে অল্প অল্প করে অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করে মজুদ গড়ে তোলা। তারপর পরিস্থিতি বুঝে হামলা চালানো। যেমনটা হয়েছিলো গুলশানের হলি আর্টিজানে। গত ২৬ সেপ্টেম্বরও পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা হয় ফারুকসহ ৬ জেএমবি জঙ্গিকে। তারপর থেকে তাদের দফায় দফায় জেরা করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং ভারতের এনআইএ।

জেরায় জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় কাণ্ডে মোস্ট ওয়ান্টেডরা গুলশান হামলাতেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলো। আসামের বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, কাছাড় ও হাইলাকান্দি, পশ্চিমবঙ্গেও উত্তরের জেলা কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গেও কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণায় নতুন ঘাঁটি গেড়েছে জঙ্গিরা। ওইসব ডেরায় নতুন করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ এবং ইম্প্রোভাইসড এক্রপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির কাজও শুরু হয়েছিলো।

জানা গেছে, কলকতার মেটিয়াবুরুজ ও নাদিয়ালে জেএমবি ট্রানজিট ক্যাম্প করেছিলো। এই দুই জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল বোমারু মিজানেরও। এই এলাকার বেশকিছু যুবক নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছে। উল্লেখ্য, এই বোমারু মিজান র‌্যাবের মোস্ট ওয়ান্টেডদের একজন। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর কারাগার থেকে ময়মনসিংহ আদালতে নেওয়ার পথে অন্য কয়েক জঙ্গির সাথে তাকেও বোমা মেরে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এখনো অধরা রয়েছে বিপজ্জনক জঙ্গি বোমারু মিজানসহ আরো ৬জন। তাদরকে ধরা গেলেই খাগড়াগড় থেকে গুলশানের জঙ্গি হামলা কোন সূত্রে বাঁধা রয়েছে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এদিকে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গেও মালদায় তৈরি হয়েছিলো বলে জানতে পেরেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক ছয়জনের মধ্যে একজন গোয়েন্দাদের এ তথ্য জানিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া শনিবার (২৯ অক্টোবর) এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই অস্ত্র তৈরিতে পাকিস্তানি অস্ত্র নির্মাতাদের সহযোগিতা ছিলো। আটকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি অস্ত্র নির্মাতারা  গোপনে মালদহে এসেছিলেন অস্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ দিতে। একে-২২ রাইফেল তৈরি করতেই তারা সীমান্ত এলাকা মালদাকে বেছে নেয়। সেখানেই তারা গুলশানে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরি করে। এরপর এসব অস্ত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। এনআইএ’র গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, এখানে যে পাকিস্তানিদের কথা বলা হচ্ছে তারা পেশোয়ার এবং কোয়াতের মধ্যবর্তী একটি গ্রামের দারা আদম খেল সম্প্রদায়ের কেউ।

ঊর্ধ্বতন এক এনআইএ কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এখনও নিশ্চিত নই, তবে যে ভাষার কথা তারা বলেছে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং এর আশপাশে ওই ভাষায় কথা বলা হয়।