Ad Space

তাৎক্ষণিক

দুর্গাপুরে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধু

নভেম্বর ৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : দুর্গাপুর উপজেলার সায়বাড় গ্রামে ময়না আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধুর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে শ্বশুর ও দেবর । মারাত্মক  ভাবে আহত করা হয়েছে ওই গৃহবধুকে। নির্যাতনকারীরা তাকে হাতুড়ি ও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শান্ত হয়নি। পা দিয়ে শরীরের নিচের দিকে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। শনিবার সকালে ময়নার শ্বশুর আর দেবর মিলে এঘটনা ঘটায়।

বর্তমানে ময়না দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য মাতব্বরদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিটমাট করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার কাঠালবাড়িয়ার সায়বাড় গ্রামের শামসুল আলীর পুত্রের সাথে ৫ বছর পূর্বে একই গ্রামের জেকের আলীর মেয়ে ময়নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ময়নার শ্বশুর শামসুল ও দেবর আয়নাল বিভিন্ন সময়ে বড় ছেলে মিনাল না জানিয়ে জমি বিক্রি করেন। এতে গৃহবধু ময়না প্রতিবাদ করলেই তার প্রতি নির্যাতন চালানো হতো।

সম্প্রতি কিছুদিন পূর্বে গৃহবধুর শ্বশুর ও দেবর মিলে যোগসাজ করে বড় ছেলে না জানিয়ে আবারও জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়। এতে মিনাল ও তার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে শনিবার তার দেবর আয়নাল ভাবী ময়নাকে বাসায় একা পেয়ে হামলা চালায়।

এসময় হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে পিঠাতে থাকে। এক পর্যায়ে ময়নার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জখম অবস্থায় ময়নাকে উদ্ধার দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যাথায় কাতারাচ্ছেন ময়না।

ময়নার স্বামী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের মালি মিনাল জানান, বিভিন্ন সময়ে আমার পিতা ও ছোট ভাই মিলে আমাকে না জানিয়ে জমি বিক্রি করেন। এতে আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলেই তারা ঝগড়া বিবাদ করতো। সপ্তাহখানেক আগে তারা আবারও আমাকে না জানিয়ে জমি বিক্রির চেষ্টা করে।

এতে আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে শনিবার আমার পিতা ও ছোট মিলে আমার স্ত্রীকে হাতুড়ি ও কাঠের লাঠি দিয়ে বেধম পিটিয়ে জখম করে।

তিনি আরো জানান, এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়াম্যানকে জানানো হয়েছে। তারা এবিষয়ে সুষ্ট বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আলম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।