Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

রামেকে রডের বদলে বাঁশ : তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

নভেম্বর ১, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ভবন থেকে বাঁশ বের হলেও এই ঘটনায় আপাতত কোনো ঝুঁকি নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে গণমাধ্যমের কাছে তারা এমনটায় দাবি করেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনা যা-ই হোক, যেহেতু ভবনের ভেতর থেকে বাঁশ বেরিয়েছে সেহেতু তা তদন্ত করে দেখা হবে।

এজন্য দুপুরে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে রামেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। ওই কমিটিতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ও তাদের একজন ভবন বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে। তাদের তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন পেলে সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

হাসপাতালে পরিচালক আরও বলেন, চার বছর থেকে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি বাঁশ দিয়েই করা হতো তবে ভবনটি এতদিন ভেঙে পড়তো। এর পরও ভবনের তিনতলার লিফটের সামনের টাইলস উঠে বাঁশ বেড়িয়ে এসেছে। তাই আর কোথাও এমন কোনো ফল্ট রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এজন্য বিশেষজ্ঞ দ্বারা বিষয়টি তদন্ত হবে।

এদিকে রাজশাহী গণপূর্তের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার মার্কস বিল্ডার্স এই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। আর লিফটের কাজ করে প্রাণের আরএফল গ্রুপ। তাদের দায়-দেনাও পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। এতদিন কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা না হওয়ায় তাদের সঙ্গে আর কথা হয়নি।

এখন ভবন থেকে বাঁশ বেরিয়ে আসার বিষয়টি সামনে আসায় এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তবে লিফটের সামনে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় বাঁশগুলোর সঙ্গে মূল ভবনের কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তাই প্রাথমিকভাবে বলা যায় এতে ভবন ধস বা ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এর পরও সেখানে বাঁশ ব্যবহার না করে লোহার পাত বা স্টোন ব্যবহার করা যেত। তা কেন করা হয়নি সে বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হবে।

তবে মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, এ নিয়ে রাতে খবর প্রকাশের পর ভোরের মধ্যেই সেখান থেকে বাঁশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাঁশের জায়গাটা বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। এর আগে ভাঙা স্থানে প্লাস্টার করার দৃশ্য দেখা যায়। না দেখা যায় সেজন্য প্লাস্টারের ওপরে আবার পুরনো কাপড় দিয়ে ঢেঁকে দেয়া হয়েছিল।

আর বাঁশের ওপরে পত্রিকা দিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছিল। তবে তিনতলার লিফঠের ফাঁক দিয়ে ওপরে ক্যামেরা ধরার পর চারতলার নতুন ভবনের লিফটের সামনের ফাঁকা স্থানেও বাঁশ দেখা গেছে। সেখান থেকে এখনও বাঁশ সরানো হয়নি।

এর আগে গত ২০১২ সালের ১৭ জুলাই রামেক হাসপাতালে ৫০০ হাজার শয্যার নতুন ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। এতে হাসপাতালের মোট শয্যা সংখা দাঁড়ায় এক হাজার ৩০টিতে। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা। চারতলা এ ভবনটি নির্মাণ করা হয় রামেক হাসপাতালের পুরনো ভবনগুলোর ঠিক মাঝখানে।