Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ । অনুপম হাসান

নভেম্বর ১, ২০১৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় তার সমতুল্য কোনো ট্র্যাজিক হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি আছে বলে আমাদের জানা নেই। নির্মম এই কালরাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং তাঁর পরিবারের ১৫জন সদস্যকে হত্যা করেছিল বর্বর ঘাতকদল। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় কেন জাতির পিতা নিহত হলেন? প্রশ্ন হচ্ছে– শুধুই কী রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্যই এই নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যা সংঘটিত হয়েছিল? ক্ষমতা দখলের জন্যই যদি হত্যার প্রয়োজন হতো, তাহলে তো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই হতো? ঘাতকরা তা না করে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের শিশু-কিশোরসহ মোট ১৫ জন সদস্যকে কেন সে রাতে হত্যা করেছিল? এ প্রশ্নের সদুত্তর মেলে না! সুতরাং ঘাতকদল যে শুধু রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটায় নি, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিশু রাসেল নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল হয়তো একটা উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু তাছাড়াও ঘাতকদলের ভিন্ন কোনো গোপন এডেজন্ডা ছিল– তা পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের মোটিফ থেকে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। এ প্রসঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী মন্তব্য করেছেন : ‘৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেরই পরিণতি। দুটি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না।‘ [ঢাকা : যুগান্তর, ৩ নভেম্বর ২০১৪]
ঘাতকদলের এই উদ্দেশ্যের বিষয়টি পরবর্তি আড়াই মাসের মাথায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটককৃত জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেননা ততদিনে তো খন্দকার মোশতাক-গং রাষ্ট্রক্ষমতায় নিজেদের পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরি করেই নিয়েছিল; উপরন্তু যাঁদেরকে জেলের অভ্যন্তরে হত্যা করা হয়েছিল, তাঁরা তো বন্দিই ছিল! আটককৃত অবস্থায় তাঁদের পক্ষে তো মোশতাক-গং-এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোরও সুযোগ ছিল না। অথচ সত্য হচ্ছে, তারপরও বাংলাদেশের জাতীয় এই চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জেলহত্যার অনিবার্যতা প্রসঙ্গে গোলাম মুরশিদ লিখেছেন : ‘মোশতাক জেল-হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, কোনো পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী আর কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন। [উদ্ধৃত : মহাদেব সাহা, আত্মস্মৃতি ১৯৭৫ : সেই অন্ধকার সেই বিভীষিকা, ১ম প্র, ঢাকা : নান্দনিক, ২০১৩; পৃ.১৮৮]’

১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শ যে চরম সংকটে পড়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জেলহত্যার মধ্য দিয়ে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে সামরিক ব্যারাকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান– জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড একই সুঁতোয় গাথা। বোঝা যায়, উভয় খুনই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঠাণ্ডা মাথায় করা হয়েছিল। খুনিদের উদ্দেশ্য কী ছিল– এই প্রশ্ন সামনে রেখে ঘটনা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড যতোটা না রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ছিল তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের আদর্শকে বিলীন করে দেয়া। তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে জেলহত্যা প্রসঙ্গে লিখেছেন : ‘শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশে ১৫ আগস্টে সংগঠিত সামরিক অভ্যুত্থান ও নভেম্বর মাসের জেল হত্যার সাথে জড়িত ছিল সেই বেসামরিক চক্র যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে সিআইএ-পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করছিল এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যাদের ষড়যন্ত্রকে বলিষ্ঠভাবে প্রতিহত করেছিলেন। [শারমিন আহমদ, ৩ নভেম্বর : জেল হত্যার পূর্বাপর, ১ম প্র, ঢাকা : ঐতিহ্য, ২০১৪; পৃ.১৯]’
ষড়যন্ত্রী ঘাতকদলের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিকিয়ে দিয়ে অথবা ইতিহাসের মানচিত্র থেকে বাংলাদেশের নাম মুছে দেয়া। বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই ছিল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের মূল উদ্দেশ্য। কেননা ঘাতকদল ও ষড়যন্ত্রকারীরা জানত– বঙ্গবন্ধু কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য জীবিত না থাকলেও জাতীয় এই চার নেতার পক্ষে বাংলাদেশ-স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব; তাঁদের পক্ষে সম্ভব প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছানোও। কারণ, তারা তো দেখেছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধারাম্ভের সূচনালগ্নেই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে আটক রাখার পরও এই চার নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে শক্তিশালী একটি সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ বাংলার অবিসংবাদিত নেতা পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকলেও তাঁর আদর্শ-নীতি বাস্তবায়নে এই চার নেতার কোনো সমস্যা হয়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই চারজনের তীক্ষ্ণ মেধা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ফসল হিসেবেই সুশিক্ষিত একটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর কালেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে মাত্র তিন সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে জাতীয় চার নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞাই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
অতএব শেখ মুজিব না থাকলেই (১৫ আগস্ট ১৯৭৫) শুধু হবে না, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার আদর্শকে মুছে দিতে হলে জাতীয় চার নেতাকেও সরিয়ে দিতে হবে। এজন্যই ১৫ আগস্টের পরও রাজনৈতিক রক্তপাত বন্ধ হয়নি; ৩ নভেম্বর কারাভ্যন্তরে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। নভেম্বরে জেলহত্যা এবং খালেদ মোশাররফের ব্যর্থ অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছিল। ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শ যে চরম সংকটে পড়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জেলহত্যার মধ্য দিয়ে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে সামরিক ব্যারাকে। এ সময়ের মধ্যে খালেদ মোশাররফের ব্যর্থতা আর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাফল্য স্বাধীনতার আদর্শকে গ্রাস করে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরে জেলহত্যার মাধ্যমে ঘাতক-ষড়যন্ত্রীরা মূলত নিশ্চিত হতে চেয়েছিল– বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস-আদর্শের সমাপ্তি ঘটবে! এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চার দশক পরে মনে হচ্ছে– ঘাতকরা তো ব্যর্থ হয়েছে; তারা পারেনি– বাংলাদেশের মানচিত্র নিশ্চিহ্ন করতে। নিশ্চয় একথা সত্য; অর্থাৎ ঘাতকদের আশা পূরণ হয়নি। কিন্তু এজন্য সমগ্র জাতিকে কম লাঞ্ছিত হতে হয়নি! অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়, সহ্য করতে হয়েছে সামরিক স্বৈরশাসন। ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর যদি জেলহত্যা না ঘটতো কিংবা জাতীয় চার নেতা জীবিত থাকতেন, তাহলে আজ চার দশকে দেশ যেখানে পৌঁছেছে, তা চার বছরে সম্ভব হতো।

বাংলাদেশকে আজকের অবস্থায় পৌঁছাতে এই যে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে, তা করতে হতো না– যদি পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডি না ঘটতো। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর যদি ৩ নভেম্বর কারাভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা নিহত না হতেন– তাহলেও বাংলাদেশ এতদিনে মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারতো।

কোনো শূন্যতাই চিরকাল থাকে না; নির্মম কালের পরিক্রমায় শূন্যস্থানে জায়গা করে নেয় উত্তরপ্রজন্ম। ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা হয়তো কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে না। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে তাঁর দুই মেয়ে তখন বিদেশে অবস্থানের কারণে বেঁচে যান। বিদেশের মাটিতে বসে তাঁরা পিতা-মাতা আত্মীয়-পরিজনের মৃত্যু সংবাদ শুনেছেন, কিন্তু জন্মভূমিতে আসতে পারেন নি মৃতদেহ সৎকারের জন্যেও। ঘাতকদল তখনো নাঙা তলোয়ার হাতে অনেকটা প্রকাশ্য দিবালোকেই মুজিব-পরিবার, তাঁর আদর্শ কিংবা দলীয় নেতাকর্মীদেরও রেহাই দেয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলেছে সময়ের সাথে সাথে; পরবর্তী বছর পাঁচেকের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানামাত্রিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং ভেঙেপড়া আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তখন দেশে চলছে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসন। প্রায় এক দশকব্যাপী শেখ হাসিনা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মোকাবিলার মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করেছেন। একইসাথে তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বলিষ্ঠতায়। পরিণামে ১৯৯০ সালে এক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করে।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে অভিযাত্রা শুরু হয়, তার যাত্রাপথ একেবারে মসৃণ ছিল না। কেননা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের সময় বিএনপির টালবাহানায় পুনরায় গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। আবারো শেখ হাসিনা রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং বিএনপি বাধ্য হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। এরপর সময় অতিবাহিত হয়েছে প্রায় দুই দশক; কিন্তু এখনো এদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি খুব বেশি মজবুত হতে পেরেছে– এমন কথা একবাক্যে বলার সুযোগ নেই। তবে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থা দুটি এ মন্তব্যও করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে এবং বাৎসরিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ বা তার কাছাকাছি থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার এমার্জিং ইকোনমিক টাইগার বাংলাদেশ আগামী ৫ বছরের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করবে।
বাংলাদেশকে আজকের অবস্থায় পৌঁছাতে এই যে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে, তা করতে হতো না– যদি পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডি না ঘটতো। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর যদি ৩ নভেম্বর কারাভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা নিহত না হতেন– তাহলেও বাংলাদেশ এতদিনে মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারতো। অর্থাৎ আজকের অবস্থায় দেশকে উপনীত হতে যেখানে সময় লেগেছে চার দশক, জাতীয় নেতার জীবিত থাকলে তা হতে পারতো চার বছরে।
অনুপম হাসান : শিক্ষক ও গবেষক।