আগস্ট ১৯, ২০১৭ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
Home / slide / বায়ু দূষণে প্রতিবছর সাড়ে আট হাজার শিশুর মৃত্যু

বায়ু দূষণে প্রতিবছর সাড়ে আট হাজার শিশুর মৃত্যু

সাহেব-বাজার ডেস্ক : নিজ ঘরেও বায়ুদূষণের শিকার হয়ে দেশের হাজার হাজার শিশু প্রতি বছর মারা যাচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল– ইউনিসেফ। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে ব্যবহৃত কাঠ বা গোবর পোড়ানো চুলার কারণে যে বায়ুদূষণ হয়, তাতে প্রতি বছর সাড়ে আট হাজার শিশুর মৃত্যু হয়।

‘ক্লিয়ার দ্য এয়ার অব চিলড্রেন: দ্য ইমপ্যাক্ট অব এয়ার পলিউশন অন চিলড্রেন’ শীর্ষক ইউনিসেফ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘরের ভেতরে বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। উন্নত রান্নার চুলা ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় কাঠ বা গোবর পোড়ানো চুলা থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত সচেতনতার অভাবকেও সমস্যা হিসেবে দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণের যে চিত্রও তুলে ধরা হয়, সেখানে দেখা যায়, কয়লা, কাঠ, গোবর ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া ও তাপে ঘরের বায়ু দূষিত হয়। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশুরাই এর সবচেয়ে বড় শিকার। এর ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে আট হাজার শিশুর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এখনও শতকরা ৮৯ শতাংশ বাড়িতে রান্নার কাজে কাঠ ও গবাদিপশুর গোবর শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। ঘর গরম করার জন্যও এসব ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, তারা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। এ ছাড়া শিশুদের ফুসফুসের কোষের স্তর দূষিত কণায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি দ্রুত দূষিত কণা মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ঝিল্লি ভেদ করে। এতে শিশুর বুদ্ধির বিকাশে স্থায়ী ক্ষতিসাধিত হয়। এমনকি দূষিত বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভ্রূণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে বাংলাদেশে উন্নত ও পরিষ্কার চুলা ব্যবহার করতে সংশ্লিষ্ট কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। আর এমনটা করা সম্ভব হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতকরা ১০০ ভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রান্না ঘরের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে সমস্যার সমাধানে করণীয়ও বলে দেওয়া হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে তিন কোটিরও বেশি পরিবারকে উন্নত রান্না সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা হলেই শিশুকে অন্তত ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে ইউনিসেফের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি সাতজন শিশুর একজনই এমন এলাকায় বসবাস করে, যেখানকার বাতাস ভয়াবহ পরিমাণে দূষিত। আর ওই বায়ুদূষণের শিকার শিশুদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ইউনিসেফ-এর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বে বায়ুদূষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৩০ কোটি। এর ফলে মস্তিষ্কের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে ক্ষতিসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পতিত হতে পারে ওই শিশুরা। বয়স পাঁচ বছরেরও কম- প্রতিবছর ঘরের ভেতর এবং বাইরের বায়ুদূষণের ফলে এমন ছয় লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

স্পেনে দ্বিতীয় দফায় সন্ত্রাসী হামলা

সাহেব-সাবার ডেস্ক : স্পেনের বার্সেলোনা শহরের পর্যটন নগরীখ্যাত জনপ্রিয় এলাকা লাস রামব্লাসে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ ২৪ ঘন্টা পার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *