Ad Space

তাৎক্ষণিক

ধরা ছোঁয়ার বাইরে ওসির ফেসবুক আইডির ‘হ্যাকার’

অক্টোবর ৩০, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সিুর ফেসবুক আইডিতে গত ১৮ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর ছবি আপলোড করে তাতে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন দেয়া হয়। ওই দিন ওসি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে এমন পোস্ট দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে তিনি একটি মামলাও করেন।

কিন্তু ঘটনার ১১ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কথিত সেই ‘হ্যাকারকে’ শনাক্ত করতে পারেননি ওসি। এমনকি মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরাও কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। ফলে ওসির ফেসবুক আইডি আসলেই হ্যাক হয়েছিল কী না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ওই ঘটনার মূলহোতা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

গোদাগাড়ী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের মা। সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী আমাদের অভিভাবক। তাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেয়া হয় ওসির ফেসবুক আইডিতে। আমরা আমাদের মায়ের, অভিভাবকের অবমাননা সহ্য করবো না। খুব শীঘ্রই মূলহোতাকে আইনের আওতায় না আনা হলে আমরা ওসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবো।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা তার ফেসবুক আইডিতে এমন আপত্তিকর পোস্ট দিতে পারেন, তা বিশ্বাস হয় না। তবে মূলহোতাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে ওসিকেই তা প্রমাণ করতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ওসির ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল কী না, তা বলতে পারবো না। আমি সে ব্যাপারে অভিজ্ঞ নই। তবে ওই ঘটনার পর মামলা হলেও ‘হ্যাকার’ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকাটা হতাশাজনক। আশা করি শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সেসব অশ্লীল পোস্ট দেয়া হয়েছিল। সরকারবিরোধী কোনো চক্র এর সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

ওসি জানান, ওই ঘটনার পর তিনি নিজে বাদী হয়ে আইসিটি আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন। রাজশাহীর আমলী আদালত-৩ এর বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ক্রাইম ব্যুরোকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি তিনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করছেন।

সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর রশিদ মনে করেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে কেউ ওসির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অশ্লীল পোস্ট দিয়েছিল। তাকে শনাক্ত করার জন্য তিনি গোদাগাড়ীর ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

সিআইডির রাজশাহীর এসপি ড. নাজমুল করিম খান জানিয়েছেন, গোদাগাড়ী থানার ওই মামলাটি সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের সাইবার ক্রাইম ব্যুরো তদন্ত করছে। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে কয়েকটি বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাকা থেকে তার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি সহায়তা করছেন।