Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

‘২০২২ সালে কয়লা দিয়ে ৫০% বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে’

অক্টোবর ২৮, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : দেশে বর্তমানে ৩৫০ কোটি মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ১২২ কোটি মেট্রিক টন বা ৩৫ শতাংশ কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে- তা ২৮ টিসিএফ গ্যাস দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান। দেশে মজুদ কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে এ জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার হবে। ২০২২ সালের মধ্যে কয়লা ব্যবহারে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

জ্বালানি খাত বিষয়ক ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ ম্যাগজিনের উদ্যোগে মেগা প্রজেক্ট ডিবেট শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যানের অধীনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি হবে কয়লা। ২০২২ সালের মধ্যে কয়লা ব্যবহারে চাহিদার মোট ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অশুভ তৎপরতার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রামপালবিরোধী ক্যাম্পেইনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

নসরুল হামিদ বলেন, কয়লার পাশাপাশি সরকার প্রচলিত ও নবায়নযোগ্য হাইড্রোপাওয়ারের আঞ্চলিক উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহে প্রচেষ্টা চালাবে। ‘হাইড্রো-ইলেকট্রিসিটিতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৪০০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, চীন ও ভারত বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারে সরবাহের জন্য দেশে ৩,৫০০ এমএম সিসিএফটি তরলিত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলিত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে শিল্পখাতেও গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে শিল্পখাতে গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে এ জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসের কাজ করছে সরকার।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়া’সম্পাদক মোল্লাহ এম. আমজাদ হোসেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক সুফি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সুন্দরবন রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভালোমানের কয়লা ব্যবহারে সরকারের পদক্ষেপে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি সন্তুষ্ট।

আবদুস সালেক সুফি বলেন, ২৭৫ মিটার উঁচু চিমনি স্থাপন এবং অস্ট্রেলিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া থেকে সর্বোচ্চমানের কয়লা প্যানামাস্ক অথবা সুপারমাস্ক মাদার ভেসেলের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে নিয়ে আসা হবে। এসব পদক্ষেপ পরিবেশের ঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে থাকবে।

এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, জাহাজে করে আমদানিকৃত কয়লা গভীর সমুদ্র থেকে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে এবং বিশেষভাবে নির্মিত স্টোরহাউসে তিন মাসের চাহিদা মেটানোর কয়লা মজুদ রাখা হবে। এটি হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের জন্য এই প্লান্ট ক্ষতিকর হবে না। এটি সুন্দরবন থেকে অনেক দূরে স্থাপন করা হচ্ছে।

এ আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন দৈনিক প্রথম আলোর সিটিএডিটর এবং জ্বালানি বিষয়ক লেখক অরুন কর্মকার, বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরতুজা আহমেদ ফারুক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইজাজ হোসেন, বুয়েটের ড. কাজী বায়জিদ কবির, কনজুমারর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম, পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এম. মিজানুর রহমান প্রমুখ।