Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

মাদক পাচারে নারীদের ব্যবহার বাড়ছে

অক্টোবর ২৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন। শত শত যাত্রীর মধ্যে ৩৫ বয়সী স্মার্ট নারী আদুরি বেগম। হাতে ট্রাভেল ব্যাগ। বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পরপরই রেলওয়ে পুলিশের সন্দেহ হয় আদুরি বেগমকে দেখে। ট্রাভেল ব্যাগটি তল্লাশী চালিয়ে দেখা হয়। তা থেকে উদ্ধার করা ১৭০ বোতল ফেনসিডিল।

এর আগে ৭ সেপটেম্বর কোটি টাকা মূল্যের এক কেজি হেরোইনসহ মেরিনা খাতুন (৫০) নামে এক নারীকে আটক করে র‌্যাব। রেলওয়ে স্টেশন থেকেই তাকে আটক করা হয়। মেরিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবলাবনা গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী। কয়েক মাসে মাদক পাচারের অভিযোগ ১০ জনের বেশি নারী রাজশাহীতে আটক হয়েছে।

রাজশাহীতে মাদক পাচারে আশঙ্কাজনক হারে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়ছে। মাদক বিক্রয় ও বহনকাজ ছাড়াও অসামাজিক কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িত। রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার অবৈধ মাদক ব্যবসার বড় একটি অংশ নারীরা নিয়ন্ত্রণ করছে।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুইশতাধিক নারী সরাসরি অবৈধ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মাধ্যমে আরো সহস্রাধিক নারী বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির কাজে জড়িত রয়েছে। এসব নারী মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ এবং মাদকদ্রব্য বহন ও মাদকসেবীদের আকৃষ্ট করতে সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করে থাকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ি, রাজশাহীর চারঘাট ও পুঠিয়ার সীমান্ত গ্রাম ভাটপাড়ার নারগিস, লাকি, পুঠিয়ার ধোয়াপাড়ার পারুল, বাগমারার ভবানীগঞ্জের জেলে, একই উপজেলার তাহেরপুর পৌর এলাকার পারুল এসব এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়াও রাজশাহীর ভাটপাড়ার নারগিস ও লাকির বাড়িতে মদের আসর বসে।

এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর বেশ কিছু এলাকায় দেদারসে মাদকের কেনাবেচা। এলাকাগুলো হচ্ছে সাগরপাড়া, শিরোইল কলোনি, হাদির মোড়, আলিফ লাম মিম ভাটা এলাকা, দড়িখরবনা, তালাইমারি, লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া, গুড়িপাড়া, আলিগঞ্জ, লিলি সিনেমা হলের মোড় ও কোর্ট স্টেশন এলাকা।

এ বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় রাজশাহীতে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে মাসোয়ারা পেয়ে থাকে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া জানান, রাজশাহীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবদুল হান্নান জানান, মহানগরীর মাদক পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন করে পাচারকারীদের তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু কিছু এলাকায় মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা সিন্ডিকেটে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকেই অর্থের লোভে মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে। অনেকেই আবার কর্মসংস্থানের উপায় না পেয়ে এ কাজ করছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। তবে মাদক ছেড়ে কেউ স্বাবলম্বী হতে চাইলে সহায়তা করবে পুলিশ।