নভেম্বর ২২, ২০১৭ ৩:৩১ অপরাহ্ণ

Home / slide / ধর্ষিত শিশুটির প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা

ধর্ষিত শিশুটির প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধর্ষণসহ পাশবিক নির্যাতনের শিকার পাঁচ বছরের শিশুটির অবস্থা ভালো নেই। শিশুটির প্রজনন অঙ্গে দেখা দেওয়া সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার (সেপটিসিমিয়া) আশঙ্কা বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির জন্য গঠিত নয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল দলের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যবস্থাপত্রের সুপারিশ করেছেন। সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, তাকে পুষ্টিকর খাবার দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিলকিস বেগম জানান, শিশুটির অবস্থা ভালো না। শিশুটির যৌনাঙ্গ ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে। কাটা জায়গায় ইনফেকশন দেখা দিয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দুপুরে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘শিশুটির জীবনহানির শঙ্কা না থাকলেও শরীরের নানা জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। তাকে সব ধরণের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়েটিক খাওয়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুটির শরীরে হাত দিলেই ভয়ে কেঁদে উঠছে। ৯ সদস্যের যে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছেন, সে বোর্ডে মানসিক চিকিৎসকও আছেন। তিনি শিশুটির ট্রমা কাটানোর চিকিৎসা দেবেন। শিশুটির পুরোপুরি সুস্থ হতে ২ মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে এসে দেখে যান শিশুটিকে। তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার শিশুটির চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন। আশা করছি, সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবে’।

পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার পাঁচ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ছয় দিন পর গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৮ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলার জমিরহাট এলাকার তকেয়াপাড়া গ্রামের শিশুটি নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে সেদিনই রাত ১১টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। পরদিন ভোর ৬টায় শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি হলুদক্ষেত থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরই তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুটি।

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪২) ও আফজাল হোসেন কবিরাজকে (৪৮) আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। পরে আসামি সাইফুল ইসলামকে দিনাজপুর শহর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

মেহনতী মানুষের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টিকে বিকশিত করতে হবে: বাদশা

দিনাজপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *