Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগে টাকা নিয়ে চিকিৎসা!

অক্টোবর ২৬, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বর্হিবিভাগের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে রোগিদের চিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে ওই চিকিৎসককে টাকা দিতে না পারায় চিকিৎসা না করেই ফিরিয়ে দেয়া এক রোগি বর্হিবিভাগের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে বিষয়টি বর্হিবিভাগের অন্যান্য রোগিরা হাসপাতালের পরিচালককে জানান। এ নিয়ে বুধবার সকালে হাসপাতালে হুলস্থুল পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী রোগিরা জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের যৌন ও চর্ম রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা দেন। বুধবার সকালে বর্হিবিভাগের টিকিট কেটে রাজশাহীর তানোর থেকে এক ব্যক্তি তার কাছে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু ‘ভিজিট’ দিতে না পারায় ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন তার চিকিৎসায় করেননি।

এ সময় তার চেম্বারের সামনে বেঞ্চে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই ব্যক্তি। এরপর বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগিরা বিষয়টি জানতে পারেন।

খবর পেয়ে ওই রোগির সঙ্গে কথা বলতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বর্হিবিভাগে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। তাই তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে বর্হিবিভাগে থাকা অন্যান্য রোগিরা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ওই সময় ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনকে তার চেম্বারে পাওয়া যায়নি। তার সহকারী দিদারুল আলম জানান, কিছুক্ষণ আগে ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেছেন। যদিও দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তার চেম্বারে থাকার কথা। তবে কেন তিনি চলে গেছেন তা তিনি জানেন না।

রোগিদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দিদারুল আলম দাবি করেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো রোগি কান্নাকাটি করছিলেন কী না, তাও তিনি জানেন না। তবে হাসপাতালের পরিচালক তাকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ অবাস্তব। শুধু আমার চেম্বার নয়, বর্হিবিভাগের কোথাও টাকা নেয়া হয়, এমন কথা কখনই শুনিনি। বেসরকারি ক্লিনিকে রোগি দেখতে আমি ৮০০ টাকা ভিজিট নিই। এতো টাকা বর্হিবিভাগের রোগিরা দিতে পারবে? পারবে না।’

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনিও পেয়েছেন। বর্হিবিভাগের রোগিরা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগি রোগিকে পাওয়া যায়নি। আর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খুবই সৎ মানুষ।

তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েই তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে যাওয়া রোগিদের দীর্ঘ সারি থাকে। এ কারণে আগে চিকিৎসকের সাক্ষাত পাইয়ে দেয়ার নামে ওই চিকিৎসকের সহকারী দিদারুল আলম রোগিদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকেন। বুধবারের ঘটনাটিও এ ধরনের। তাই প্রাথমিকভাবেই তিনি দিদারুলকে সতর্ক করেছেন।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত যেই হন না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।