Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী, বিদায় তামিমদের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সাংবাদিক নান্টুর মায়ের ইন্তেকাল– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালিত– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর সংবাদপত্রগুলোতে নিয়োগপত্রের দাবিতে আরইউজে’র স্মারকলিপি– বিস্তারিত....
  • নছিমনের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত– বিস্তারিত....

কলেজের মাঠ দখল করে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা

অক্টোবর ২৬, ২০১৬

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের মাঠ দখল করে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা করছেন স্থানীয়রা। এতে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর তাঁত শিক্ষা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরণের মেলা করে থাকে। গত ১৪ অক্টোবর থেকে শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের মাঠে ‘তাঁত-বস্ত্র ও হস্ত-কুটির কারুশিল্প মেলা ২০১৬’ শুরু হয়। কলেজ মাঠে ইতিমধ্যেই স্থায়ীভাবে কংক্রিটের বিভিন্ন স্থাপনাও তৈরী করা হয়েছে।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, মেলা সাধারণত খোলামেলা পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও কিভাবে শহরের একটি কলেজ মাঠে এ ধরণের একটি মেলার আয়োজন করেছে তা বোধগম্য নয়। কলেজে প্রবেশ মুখেই মেলার মূল গেট করা হয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে মোটরসাইকেল গেরেজ। কলেজে ঢুকতেই ছাত্রীদের ইভটিজিংসহ নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে লটারীর নামে জুয়া খেলা চলছে দিনব্যাপী। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে পড়াশুনার কোন প্রকার পরিবেশ নেই বলেই দাবি করেন তারা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, মেলার বিভিন্ন ষ্টলে সারাদিন গান-বাজনা চালানোর কারণে কলেজে ক্লাশ করা যায় না, তাই আপাতত কলেজে যাওয়া বন্ধ রেখেছি। এই কলেজে এইচএসসি, ডিগ্রী পাশ কোর্স ও সম্মান কোর্স মিলে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি না দেখে কলেজ ফান্ডের কথা বলে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়ার জন্যেই এমনটি করেছেন। এই মেলা ষ্টেডিয়ামে, কিংবা পুলিশ লাইন মাঠেও করা সম্ভব ছিল। কলেজ মাঠে ইতিমধ্যেই ইট-সিমেন্ট দিয়ে পায়খানাসহ বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। এতে কলেজ মাঠের সৌন্ধর্যহানির পাশাপাশি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পরেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ক্লাশ রুমের পাশেই মেলার মতো কিছু চললে সেখানে কি করে পাঠদান করা সম্ভব হয়। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা দোকান দিয়েছেন। সেসব দোকানের বখাটে কর্মচারীরা ছাত্রীদের উত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন। তবে আমরা চাকুরী করি কর্তৃপক্ষ যা করবে সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। এসব নিয়ে প্রতিনিয়িত স্থানীয় লোকজনের সাথে দোকানীদের ঝামেলা হচ্ছে, যে কোন সময় বড় ধরণের বিশৃংখলার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক দর্শনার্থী।

মেলার অপর এক দর্শনার্থী অভিযোগ করে বলেন, মেলায় প্রবেশ মুল্য দশ টাকা হলেও মোটরসাইকেল রাখতে গেলে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। মেলার দর্শনার্থী শহরের কাচারীপাড়া মহল্লাার আরমান হোসেন বলেন, মেলায় দোকানীরা কোন পণ্য না ক্রয় করলে নানা ধরণের কটুক্তি করে অপমান জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন। এছাড়াও বাহিরের দোকানের তুলনায় মেলায় কয়েক গুণ বেশী শূল্য নেয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুস সামাদ বলেন, আমরা মেলার অনুমতি দেয়ার কেউ না। জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে কলেজ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মেলার অনুমতি দেয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেলায় ফ্রি ভাবে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

এদিকে মেলায় প্রতিদিনই লটারীর নামে জুয়া খেলা চলছে, এতে অনেকেই স্বর্বশান্ত হচ্ছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। প্রতিটি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার জমজমাট প্রচার প্রচারণা চলছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়কে চল্লিশটির বেশী অটো রিক্সায় শহরসহ জেলার সর্বত্র মাইকিং করে বিক্রি করা হচ্ছে হাজার হাজার টিকিট। রাতে মেলায় এর লটারি হচ্ছে এবং নাম মাত্র পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে বলে একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বানিজ্য মেলা করা নীতিগত ভাবে আসলে উচিত হয়নি। স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে একটি স্বচ্ছ মেলা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে জুয়া ও অনৈতিক কর্মকান্ড হলে বিষয়টি আমার জানা নেই, আমাকে লিখিত ভাবে জানালে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।