নভেম্বর ১৯, ২০১৭ ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / রাবি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগ

রাবি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগ

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে  ভর্তিচ্ছু কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আই ইউনিটের (চারুকলা অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষার সময় তাকে আটক করা হয়।

কর্মচারী আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অফিস সহায়ক। প্রতারণার শিকার ভর্তিচ্ছু শাহীনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, আরিফুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে বিভাগের অফিসে ডাকেন শিক্ষকরা। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার মুঠোফোনে জালিয়াতির চেষ্টা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে জালিয়াতিতে সহযোগিতার কথা বলে। এসময় শিক্ষকরা কৌশলে আরিফকে দিয়ে কথা বলিয়ে ওই ভর্তিচ্ছুকে বিভাগে আসতে বলেন। ভর্তিচ্ছু শাহীন বিভাগের সামনে আসলে তাকে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘রাজশাহীর কাটাখালির মজনু নামের এক ‘হোতার’ সঙ্গে আরিফের একটা যোগাযোগ ছিলো। মজনু ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যোগাড় করতো। আর আরিফ প্রশ্নপত্র বাইরে এনে দেবে, এরকম নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীকে বোঝাতে সক্ষম হতো যে, প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীকে দিতে পারবে। এভাবে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ফুটে পড়তো এই চক্র। এভাবে টাকা নিতে পারলে আরিফ প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য পেত দুই হাজার টাকা। সে গত দুই বছর এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মজিবুল হক আজাদ খান আরিফ ও শাহীনকে আটক করে নিয়ে যান। তাদের জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তার মোবাইলের তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। সে ভর্তি করিয়ে দেয়ার কথা বলে ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। সে একটা প্রতারণা চক্রের সদস্য। বিভাগের পক্ষ থেকে তার বিষয় খতিয়ে দেখতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী শাহীন প্রতারণা শিকার হতে যাচ্ছিল বলে জানান তিনি।

উপউপাচার্য জানান, মুচলেকা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কর্মচারী আরিফের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

তানোরে পরিত্যক্ত চুলে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার

সাইদ সাজু, তানোর : ‘চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ কবি জীবনানন্দ দাশের এমন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *