অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

Home / slide / ‘মানবাধিকারের কথা বলার আগে বাসার গৃহকর্মীর খোঁজ নেন’

‘মানবাধিকারের কথা বলার আগে বাসার গৃহকর্মীর খোঁজ নেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবাধিকারকর্মীদের উদ্দেশ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, ‘মানবাধিকারের কথা বলার আগে আপনারা আগে নিজের বাসার গৃহকর্মীর খোঁজ নেন। তারও মানবাধিকার আছে। সে মানবাধিকার যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়। কোনো কোনো মানবাধিকারকর্মীর বাসাতেই গৃহকর্মীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। তবে সব মানবাধিকারকর্মীর বাসাতে এমন ঘটে না।’

রোববার দুপুরে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে ‘বিভাগীয় শিশু কল্যাণ পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে গত বছর একটি নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছে। শিগগিরই এটিকে আইনে রুপান্তর করা হবে। কোনো গৃহকর্মীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে দেয়া হবে না। একজন সরকারি কর্মকর্তার কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা হলে, একজন শ্রমিক, গৃহকর্মীর কর্মঘন্টাও ৮ ঘন্টা। এর বেশি কাজ করালে তাদেরকে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অর্থ ছিল ৪৫ লাখ। শনিবার পর্যন্ত এ তহবিলে টাকা এসেছে ১৮৪ কোটি টাকা। ৭৯টি কোম্পানী তাদের মুনাফার অংশ থেকে এ টাকা জমা দিয়েছে। এ টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যায় করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লাভের একটা অংশ সরকারি কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়ার আইন আছে। অনেকেই এ আইন লঙ্ঘন করেন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর টাকা জমা দেয়ার জন্য কোম্পানীগুলোকে চিঠি দিতে শুরু করেন। তাই টাকার অংক বেড়েছে। তহবিলে টাকা না দিলে কোম্পানীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বার্ষিক নীরিক্ষার সময় যে কর্মকর্তা টাকা না দেয়া কোম্পানীর পক্ষে প্রতিবেদন দেবেন তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মোস্তান হোসাইন, কলকারখানা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমদ, শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি এমরানুল হক চৌধুরী, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন প্রমূখ।

সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুনির হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে রিনা বেগম নামে এক নারী শ্রমিককে ৩০ হাজার, নুরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিককে ২৫ হাজার ও সুমা খাতুন নামে কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত এক শ্রমিকের স্ত্রীকে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাবিতে ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষা বর্ষে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো ছাত্রদলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *