নভেম্বর ২২, ২০১৭ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

Home / slide / তরুণ শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ
তরুণ শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ সাহেব-বাজার ডেস্ক : আরাফাত মোহাম্মদ নোমান।
তরুণ শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ সাহেব-বাজার ডেস্ক : আরাফাত মোহাম্মদ নোমান।

তরুণ শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ

সাহেব-বাজার ডেস্ক : আরাফাত মোহাম্মদ নোমান। ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই তরুণ শিক্ষককে চেনেন না এমন শিক্ষার্থী সে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন। দু বছর আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে শুরু করেন তখন বয়স ছিল মোটে চব্বিশ। দু বছর গড়িয়েও গেছে এর মধ্যে।

শুধু ভালো পড়ানো মানেই যে ভালো শিক্ষক হয়ে ওঠা না সেটা খুব সুন্দর করে প্রমাণ করে ফেলেছেন তিনি এর মধ্যেই। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছেন নানাভাবে। কখনও মানসিক সাপোর্ট, কখনও বই পড়ার ক্লাবের একটা দায়িত্ব নিয়ে, আবার কখনও নাটকের মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক সময় উন্নত বিশ্বে পরিবেশবান্ধব আচরণ হিসেবে সপ্তাহে একদিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ‘নো কার ডে’পালনে আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করছেন সবাইকে। এ ব্যাপারে আরাফাত বলেন, “নো কার ডে নতুন কিছু নয়। এতে কিছুটা হলেও দূষণ- যেমন শব্দ দূষণ, সালফার দূষণ, কার্বন নির্গমন কমানো যায়।আমি মনে করি বাংলাদেশেও এমন একটা দিন থাকা জরুরি। ঢাকার জন্য এরকম একটা দিন আবশ্যক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যানজটে অস্থির হয়ে যখন নিজের ভাগ্য এবং কর্তৃপক্ষকে গালমন্দ করার দিন বোধহয় এখন আর নেই। নিজেদেরই কিছু একটা করতে হবে। এই ভেবে আমি ১৮ ফেব্রুয়ারি “নো কার ডে” পালনের উদ্যোগ নেই। প্রতি মাসের শেষ বুধবার নো কার ডে পালনে সবাইকে আগ্রহী করতে চেষ্টা করি। একা যেহেতু কিছু করা সম্ভব নয় তাই আমার শিক্ষার্থীরা আমার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। আমরা লিফলেট ছাপিয়ে তা যতটুকু পারি রাস্তায় বিতরণ শুরু করি এবং ফেসবুকেও প্রচারণা চালাতে থাকি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো অন্তত মাসে একটা দিন আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকি।

কিন্তু মাসে একদিন যানজট যদি কমেও যায় তাতে কী হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে নোমান জানালেন, “যদি আমরা সফলভাবে তা অভ্যাসে পরিণত করতে পারি তাহলে আমরা সপ্তাহে একটা দিন এই কাজটি করব। স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে একটু কষ্ট করতে হচ্ছে আমাদের। কোন কাজ শুরুতেই যে সাড়া ফেলে দেবে তা নয়; তবে আমার বিশ্বাস আমরা একটু সচেতন হলেই পারব। যেদিন গাড়ি বের করব না সেদিন আমরা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গণ পরিবহন ব্যবহার করব। আমরা জানি আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থা অপ্রতুল তবে সরকার যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে গণপরিবহনের একটু উন্নতি ঘটায় তাহলে মানুষজন এই উদ্যোগে উৎসাহী হবে। এ ছাড়া আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি বের করলেও যেন একজনের জন্য বের না করি। অন্তত ৩জন যেন একই গাড়িতে থাকে এভাবে বের হই। এটাকে কার-পুলিং বলে।

আরাফাত সহায়তা বলতে আপাতত স্ত্রী, বন্ধু, শিক্ষার্থীদের থেকেই পাচ্ছেন। স্কুলে গিয়ে প্রচারণা চালানোর ইচ্ছাও তাঁর আছে। তিনি আশা করেন আমি চাই ঢাকার কর্পোরেট হাউস থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠান যেন আমাদের এই উদ্যোগে যোগ দেবে।

মেধাবি এই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়েছেন শুধু চির তরুণ থাকার জন্যই। অনেক ভেবেই এমন একটা পেশা বেছে নিয়েছেন যেখানে চারপাশে থাকবে ভরপুর রঙ্গিন তারুণ্য। বলেন, “এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাইতে আর কোনো ভালো পেশা নেই”।

‘নিজেকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?’ প্রশ্নে আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, যেহেতু শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি তাই আমার স্বপ্ন হলো এমন একটি তরুণ প্রজন্ম তৈরিতে সাহায্য করা যারা প্রযুক্তিগত আশীর্বাদকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ইত্যাদি-কে টেনে নিয়ে যাবে বহুদূর। আমি যেটা দেখেছি তা হলো এই প্রজন্ম প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেট নিয়ে অনেক বেশি অবসেশান তৈরি করে ফেলেছে যা মারাত্মকভাবে ফিরে আসছে আমাদের দিকেই। তরুণরা যাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে গঠনমূলক কাজে লাগাতে পারে সেই চেষ্টাই আমি করে যাবো”।

“আর আমার শখ বই সংগ্রহ করা, সিনেমা দেখা, ঘুরে বেড়ানো, ইন্টারনেটে বিভিন্ন দেশের লাইব্রেরিতে কী কী বই আছে তার লিস্ট তৈরি করা, আড্ডা দেওয়া এবং মানুষকে হাসানো” বলে নিজেও সুন্দর করে হাসলেন।

শিক্ষক যদি ছাত্র পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বোঝা কাঁধে নেয়, তবেই না তাঁকে প্রকৃত শিক্ষক বলে? নোমানকে প্রকৃত শিক্ষক বলেই মনে করেন তার ছাত্ররা।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

তানোরে ভূয়া স্বাক্ষরে মহিলা সমিতির টাকা লোপাট

তানোর প্রতিনিধি : তানোর কামারগাঁ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ভূয়া স্বাক্ষরে বাতাসপুর মহিলা সমিতি’র অ্যাকাউন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *