Ad Space

তাৎক্ষণিক

শিংওয়ালা ব্যাঙ । মুহসীন মোসাদ্দেক

আগস্ট ১৬, ২০১৬

গরু, ছাগল, হরিণের মতো প্রাণীদের শিং খুব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। রূপকথায় মানুষ সদৃশ দৈত্যেরও আমরা শিং দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু ব্যাঙের শিং! কোনো রূপকথায় নয়, বাস্তব জগতেই এক প্রকার ব্যাঙ আছে যারা শিংওয়ালা। গরু, ছাগলের মতো বড় নয়, গাছের ডাল-পালা সদৃশ শাখা-প্রশাখাযুক্ত হরিণের শিংয়ের মতো নজর কাড়াও নয়, খুব ছোট দুটো শিং থাকে এ ব্যাঙের মাথায়। এ ব্যাঙের ইংরেজি নাম অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ। ব্রাজিল-কলম্বিয়ার অ্যামাজন বনে এই ব্যাঙ পাওয়া যায়। পৃথিবীর সব ব্যাঙই উভচর প্রাণী। উভচর মানে হলো, যারা পানি এবং ডাঙা দুই জায়গায়-ই বসবাস করে। অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ সাধারণত পরিষ্কার পানির জলাভূমিতে বাস করে। ডাঙায় এরা অ্যামাজন বনের বিভিন্ন বস্তুর আড়ালে, পাতার আবর্জনার স্তূপের ভেতরে বাস করে। অ্যামাজন হর্নড ফ্রগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এরা রাক্ষুসে টাইপের। এরা খুবই পেটুক। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে এদের কোনো বাছবিচার নেই। এরা প্রচুর খেতে পারে। এ কারণে এরা বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়। একটি অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ প্রায় আট ইঞ্চি (২০ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ব্যাঙের মুখ গহ্বর ও কোমড়ের মাপ বেশ বড়। বিশাল এ আকৃতির কারণেও এরা পরিচিত। অ্যামাজন হর্নড ফ্রগের ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম হয়ে থাকে।

অ্যামাজন হর্নড ফ্রগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এরা রাক্ষুসে টাইপের। এরা খুবই পেটুক। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে এদের কোনো বাছবিচার নেই। এরা প্রচুর খেতে পারে। এ কারণে এরা বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়। একটি অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ প্রায় আট ইঞ্চি (২০ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ব্যাঙের মুখ গহ্বর ও কোমড়ের মাপ বেশ বড়। বিশাল এ আকৃতির কারণেও এরা পরিচিত। অ্যামাজন হর্নড ফ্রগের ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম হয়ে থাকে।

পুরুষ ব্যাঙ নারী ব্যঙের চেয়ে আকারে ছোট হয়। তবে, পুরুষ ব্যাঙের দেহ নানা রঙে অলংকৃত থাকে। এ কারণে পুরুষ ব্যাঙগুলো বেশ নজর কাড়ে। নারী ব্যাঙগুলো সাধারণত তামাটে বর্ণের হয়। নারী ব্যাঙে রঙের বৈচিত্র্য নেই।

অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ মাংসাশী প্রাণী। অর্থাৎ অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। অ্যামাজন বনের বিভিন্ন বস্তুর আড়ালে কিংবা পাতার আবর্জনার ভেতরে এরা ওঁৎ পেতে থাকে খাবার সংগ্রহের জন্য। কেবল মাথাটা বাইরে বের করে রাখে। অ্যামাজন হর্নড ফ্রগ তাদের দেহের চেয়ে ছোট আকারের যেকোনো প্রাণীকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। খাবার সংগ্রহের জন্য এদের বিভিন্ন প্রাণী শিকার করতে হয়। বিশেষ একটা কৌশলে তারা শিকার করে। যখন কোনো শিকার কাছাকাছি আসে তখন তারা তাদের দেহকে স্পিংয়ের মতো প্রসারিত করে খুব দ্রুত ঝাপ দিয়ে শিকারকে পুরোপুরি মুখে ঢুকিয়ে নেয়। এদের দাঁত খুব তীক্ষ্ণ ও ধারালো। এভাবে এরা একের পর এক শিকার করে। এরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত প্রকৃতির ও ভোজন বিলাসী। বাছবিচারহীন ও অতিমাত্রায় খাওয়ার কারণে এদের প্রায়ই মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেন নি এদের শিংয়ের কাজ কি। তবে, ধারণা করা যায়, শিংয়ের কারণে এদের দেখতে বেশ বিদঘুটে ও ভয়ঙ্কর মনে হয় যা শত্রুকে ধোঁকা দিতে সাহায্য করে। তবে কোনো শত্রু নয়, অতিরিক্ত ভোজনই এদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।