Ad Space

তাৎক্ষণিক

ডাকছে পাহাড়-ঝরনাধারা

আগস্ট ১২, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : পাথরের পর পাথর পেরিয়ে স্বচ্ছ জলের ধারা পড়ছে গড়িয়ে। সবুজের অরণ্য মাড়িয়ে ঝরনার স্রোতধারা কলকল শব্দে নেমে যায় সমতলে। নাম না জানা লতাপাতা-গুল্ম, বাঁশবন, বুনোফুল ও ফলের গাছ আর নিভৃত ঝিরিপথের অপার সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এই বুনো ঝরনাধারা আর জল প্রপাতগুলো।

এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক বিমুগ্ধ হয়ে সিলেট, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ঝরনার মায়া ছাড়িয়ে এখানেও আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই আবার বলেছেন, মাধবকুণ্ড থেকে দৈর্ঘ্য-প্রস্থসহ পানির লেবেল এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্রে এ ঝরনাগুলো কোনো অংশেই কম যায় না। হয়তো প্রান্তিক জনপদ বলে এখনো লোকচক্ষুর আড়ালে আর প্রচারের আলোর বাইরে নিভৃতে রয়ে গেছে এসব বুনো ঝরনা। এদের অপরূপ সৌন্দর্য থেকে চোখ ফেরানোর উপায় নেই।

খৈয়াছড়া ঝরনা:
কাচের মতো স্বচ্ছ পানি পাহাড়ের শরীর বেয়ে আছড়ে পড়ছে পাথরের গায়ে। গুঁড়ি গুঁড়ি জলকণা আকাশের দিকে উড়ে গিয়ে তৈরি করছে কুয়াশার আভা। বুনোপাহাড়ের দেড়শ’ ফুট উপর থেকে গড়িয়ে পড়া স্রোতধারা কলকল শব্দে পাথরের পর পাথর কেটে এগিয়ে চলেছে তার গন্তব্যে। চারপাশের গাছগাছালি আর নাম না জানা হাজারো প্রজাতির লতাপাতা ও গুল্মে আচ্ছাদিত হয়ে আছে পাহাড়ের শরীর। স্রোতধারা সে লতাগুল্মকে ভেদ করে গড়িয়ে পড়ছে ভূমিতে। তৈরি করছে জলধারা। সে যে কী এক বুনো পরিবেশ না দখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটক, যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন কেবল তারাই লুফে নিতে পারেন ঝরনা দর্শনের এই সুযোগ। সরকারি তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকায় এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রচার প্রচারের অভাবে বাংলাদেশের নিভৃত অরণ্যের কোলে জন্ম নেওয়া এই জলপ্রপাত রয়ে গেছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। পাহাড়ের ঝিরিপথে হেঁটে যেতে যেতে সুমধুর পাখির কলরব আপনার মনকে ভালোলাগার অনুভূতিতে ভরিয়ে দেবে। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একসময় পৌঁছে যাবেন ঝরনাধারাটির প্রথম ধাপে। আট স্তরের এ ঝরনা দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে। ঝর্নার শেষ ধাপ পর্যন্ত যারা যাবেন তারা বাংলাদেশের সেরা কোনো প্রাকৃতিক ঝর্নার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।

নাপিত্তাছড়া ঝরনা:
পাহাড়-অরণ্যঘেরা নাপিত্তাছড়া যেন ছবির মত সুন্দর। বিশাল বিশাল পাথরের ফাঁক দিয়ে নেমে এসেছে ছড়ার পানি। দুই পাশে উঁচু পাহাড়ের দেয়ালে চুমু দিয়ে যেন সেঁটে আছে সবুজ গাছেরা। নানা রকম চেনা-অচেনা পাখির কলতান, অরণ্যের নিবিড় স্তব্ধতার মাঝে নানা শব্দ, আদিবাসিদের মাছ ধরা— আরো কত কি! নাপিত্তাছড়া যেতে হলে মিরসরাই এর নদুয়ার বাজার/হাট (নদুইয়ার/নয়দুয়ারীর বাজার/হাট) অব্দি যেতে হয়। এরপর পাহাড়ি অরণ্যে ঝিরিপথ। ঘণ্টা দেড়েক হাঁটলেই পেয়ে যাবেন। তবে এটার আগে আরও ২টা ঝরনা পাবেন। প্রথমে কুপিকাটাকুম ও পড়ে মিঠাছড়ি।

বাওয়াছড়া ঝরনা:
সবুজের গা বেয়ে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাওয়াছড়ায় কতো না হাজার বছর ধরে প্রবহমান এই ঝর্নাধারা। ঝর্নার জল পড়ার ধ্বনি, সবুজ অরণ্য আর পাখির কলতান মন জুড়িয়ে দেবে নিমিষেই। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে ছোট কমলদহ বাজার থেকে দেড় কিলোমিটর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে এ ঝরনা।

মহামায়া ঝরনা:
মহামায়া যেন শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি। সবুজে মোড়ানো পাহাড় বেয়ে নামছে স্বচ্ছ জল। পথের ক্লান্তি ভুলে সে ঝরনাজলের গতিবিভঙ্গে আর রূপে মুগ্ধ-বিমোহিত হচ্ছেন পর্যটকরা। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহামায়া প্রাকৃতিক লেক ও ঝর্নায় ইদানিং প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটছে।

এছাড়াও মিরসরাই অংশে রয়েছে হরিণমারা, হাটুভাঙ্গা, বাঘবিয়ানী, বোয়ালিয়া, অমরমাণিক্য, বাউশ্যাছড়া, নেহাতেখুম, উঠান, বান্দরখুম সহ আরো অনেক ঝরনা ও জলপ্রপাত।

যাতাযাত:
ঢাকা থেকে যেতে হলে কমলাপুর টার্মিনালে বিআরটিসির চট্টগ্রামমুখী বাসে উঠে মিরসরাই বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়া যাবে ঝরনাগুলোর কাছাকাছি স্থানে। তবে বেশিরভাগ ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছতে হলে হাঁটতেই হবে আপনাকে। এমন বুনো পাহাড়ের পথে হাঁটার সুযোগটাইবা ছাড়বেন কেন!