Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • এমপি এনামুল সংসদের প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত, মোহাম্মদ আলীর অভিনন্দন– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর মুসা রাজাকার আটক– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে নবজাতক চুরি : মাঠকর্মী রিমান্ডে, তদন্ত কমিটি গঠন– বিস্তারিত....
  • রাবি উপাচার্যের সঙ্গে জাপানী অধ্যাপকের সৌজন্য সাক্ষাৎ– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে সিগারেট চুরির অভিযোগে গণধোলাই– বিস্তারিত....

‘লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়, আমি এ গ্রামের বাসিন্দা!’

জুলাই ১২, ২০১৬

রিমন রহমান : মাদারপুর। রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার একটি গ্রামের নাম। এ গ্রামের জন্য গর্ব নয়, বরং লজ্জা হয় সেখানকার ‘সচেতন’ বাসিন্দাদের। লজ্জায় মাথা ‘হেট’ হয়ে যায় তাদের। কারণ সারাদেশে এই একটি গ্রাম যেখানে হেরোইন কেনাবেচা হয় সবজির মতো!

সম্প্রতি এই গ্রাম নিয়ে একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের শিরোনাম করা হয়, ‘রাজশাহীতে একটি গ্রামের না হেরোইন গ্রাম’। মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদটি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করে আকরাম নামে গ্রামের একজন শিক্ষিত যুবক লিখেছেন, ‘লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়, আমি এ গ্রামের বাসিন্দা, ভাবতে কষ্ট হয়। শেয়ার করলাম, যদি প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কোন সৎ, সাহসী কর্মকর্তার নজরে আসে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হস্তক্ষেপ না করলে এদেশে ভাল কিছু হয় না, তাই আপনার অতি দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এরা (হেরোইন ব্যবসায়ীরা) আমাদের সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। দেশকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আরও শেয়ারের বিনীত অনুরোধ করছি।’

আকরামের ‘ড্রিমলেস আকরাম’ নামের ওই ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি এই মাদারপুরে। গোদাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ হয়ে তিনি এখন ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। থাকেন সেখানেই।

তবে মাদারপুর গ্রামে থাকেন আকরামের বয়সী এমন যুবক পাওয়া খুব কষ্টকর, যে যুবক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মাদারপুর গ্রামের অন্তত ৮০ ভাগ বাসিন্দা কোনো না কোনোভাবে হেরোইনের কারবারের সঙ্গে জড়িত। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করা মাদারপুরের সাধারণ মানুষকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাঁকা চোখে পড়তে হয় শুধু গ্রামের নাম মাদারপুর হওয়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হেরোইন ঢোকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে। আর গোদাগাড়ীতে সবচেয়ে বেশি হেরোইন কেনাবেচা হয় এই মাদারপুর গ্রামে। অথচ মাদারপুর গ্রামের উত্তরে বিজিবির গোদাগাড়ী সদর বিওপি আর পশ্চিমে গোদাগাড়ী মডেল থানা। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করে তাদের নাকের ডগায় চলে হেরোইনের রমরমা বাণিজ্য।

স্থানীয় সূত্র গুলো বলছে, মাদারপুর গ্রামে অন্তত শ’খানেক হেরোইনের ‘গডফাদার’ আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও তাদের দহরম মহরম। তাই এলাকার কোনো সচেতন ব্যক্তি তাদের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করার সাহস পাননা। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়েই তাকে হয়রানি করা হয়। কখনও কখনও তার বাড়িতে মাদক রেখে তাকে হেনস্থা করার মতো ঘটনাও ঘটে।

মাদারপুরের হেরোইন ব্যবসা ‘দমনের’ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু। নির্বাচিত হয়েছেন ৭ মাস হলো। কি উদ্যোগ নিয়েছেন-জানতে চাইলে মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ইচ্ছা করলেই মাদারপুরের হেরোইন ব্যবসা বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তাদের ভূমিকা রহস্যজনক। প্রশাসনের সহযোগীতা ছাড়া আমার একার পক্ষে মাদক ব্যবসা দমন করা সম্ভব হচ্ছেনা।’

তবে প্রশাসনের অসহযোগীতার অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ‘আমরা মাদারপুরে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু মাদারপুর গ্রামের কোনো লোক আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেন না। যেসব মাদক ধরা পড়ে, সেগুলো শুধু আমাদের চেষ্টাতেই ধরা পড়ে।’