Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • নাটোরে বৈশাখী মেলার নামে জুয়া খেলা বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন– বিস্তারিত....
  • রাবির আবাসিক হলে এইচএসসির অমুল্যায়িত খাতা!– বিস্তারিত....
  • জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর : এরশাদ– বিস্তারিত....
  • নাটোরে বৈশাখী মেলায় প্রকাশ্যে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য– বিস্তারিত....
  • প্রাণ ও প্রকৃতির প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে নগরীতে প্রকৃতি বন্ধন– বিস্তারিত....

অদ্ভুতুড়ে । পর্ব-৪

জুলাই ১, ২০১৬

টিটন মনের দুঃখে বনে চলে এলো। একেবারে লোকালয়ের বাইরে। নির্জন গা থমথমে বন। এই বনে এভাবেও বেশ কয়েকবার এসেছে টিটন। তবে সেটা খেলার ছলে। বনবাসী হয়ে নয়। আর এটা ঠিক বন নয়। বেশ বড়সড় ঝোপঝাড় এলাকা। পরিত্যাক্ত ভূমি হলে যা হয়। চারপাশে প্রচুর আমবাগান, পেয়ারা বাগান আর কলাবাগান। তার এক কোণায় একটা বড়সড় পরিত্যক্ত ভূমি এটা। মানুষজন এদিকটায় খুব বেশি আসে না। যারা ফল বাগানগুলোতে কাজ করে তারা মাঝেমধ্যে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আসে হয়তো! এই বনে বাঘ-ভাল্লুক নেই, হাতি ঘোড়া গণ্ডার নেই। এমনকি হিংস্র কোন যন্তুই নেই। খুব বেশি হলে দু-একটা খ্যাঁকশিয়াল, ধোড়া সাপ আর কুকুর বেড়াল থাকতে পারে। তাই বন্যজন্তুর আক্রমণ বিষয়ক কোনো আশংকা নেই।

নিজেকে এখন বিয়ার গ্রিলস মনে হচ্ছে টিটনের। টিকে থাকতে হবে ততদিন, যতদিন না অর্ধভূত থেকে পূর্ণভূত হচ্ছে। মগজ আর হৃদয়টাকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রকৃতি আর পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলতে হবে।

তবু বন তো বনই। আর বন মানেই ভয়। যেখানে জনমানব নাই সেখানেই ভয়। টিটন অবশ্য অতো ভিতু না। ভূত বিশ্বাস করে কী করে না তা কখনো মেপে দেখেনি। কারণ জীবনে এত বেশি ভূতের গল্প পড়েছে যে সে সবসময় ভূতাবরণে শিহরিত থাকে। গল্পের ভূতেই সারাদিন তাকে কুরে কুরে খায়। বাস্তবের ভূত সে জীবনেও দেখেনি। কখনো ভূতের খপ্পরে পড়েও নি। গত পরশুই জীবনের প্রথম আম্বিয়া খালার ভূত তাড়াতে সে দেখল। তাও ভূত দেখেনি, ভূতের কাণ্ড দেখেছে।

টিটন কিছুক্ষণ জঙ্গলটা ঘুরে ঘুরে দেখল। আর ঘুরতে ঘুরতে প্রচ- তৃষ্ণা পেল। কিন্তু এই নির্জন জঙ্গলে পানি পাবে কোথায়! বিশুদ্ধ খাবার পানি পেতে হলে যেতে হবে লোকালয়ে। সেটা সম্ভব না। তাহলে?

টিটনের মনে পড়ল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যে কলাবাগান, তার ওপারে বড় একটা পুকুর আছে। কিন্তু পুকুরের পানি তো খাওয়ার জন্য নিরাপদ না। তাহলে? ভাবতে ভাবতেই গলা আরো শুকিয়ে এল টিটনের। এই প্রথম বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হল সে। এই বনেই তাকে থাকতে হবে কদিন। কতদিন! কে জানে! যতদিন না সে পূর্ণভূত হতে পারছে। পূর্ণভূত হতেই বা কতদিন সময় লাগবে কে জানে! কদম্বকালিনী ওঝার কথা মনে পড়ল। তিনি বলেছিলেন, গাছ লাগিয়েই ফল পাওয়া যায় না। সবকিছুর একটা সময় আছে। প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু সে প্রক্রিয়া কতদিন!

ভাবতে ভাবতে টিটনের পেটটা গুড়গুড় করে উঠল। টিটন বুঝতে পারল আজ সারাদিন পেটে কিছু পড়েনি। ভূত হওয়ার জন্য কাকডাকা ভোরে সে ঘর থেকে বেরিয়েছে। অত সকালে খাওয়ার কিছু ছিলও না। আর উত্তেজনায় মনেও ছিল না। তারপর সারাদিন নানা ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। খাবারের কথা মনে পড়াতে মনে হয় খিদেটা আরো চাগাড় দিয়ে উঠল। কিন্তু এই বনে খাবারই বা পাবে কোথায়!

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে উঠে দাঁড়াল টিটন। বেঁচে থাকতে হলে খেতে হবে। সে প্রাসাদেই থাকুক আর জঙ্গলেই থাকুক। আর বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা থাকে হৃদয়ে আর মগজে! কথাটা খুব চেনা চেনা লাগল। কোথায় যেন পড়েছে। মনে করার চেষ্টা করল। মনেও পড়ল, কথাটা সে পড়েনি। শুনেছে। একাধিকবার। তাই শব্দটা চোখের কাছে নয়, কানের কাছে ঘুরঘুর করতে লাগল। আর তখনই একজনের চেহারা ভেসে উঠল মনের পর্দায়। বিয়ার গ্রিলস। হ্যাঁ, ডিসকভারি চ্যানেলে প্রচারিত বিয়ার গ্রিলসের বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ সিরিজের একটা বিখ্যাত উক্তি এটা। যখনই তিনি কোন ভয়ংকর চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি পড়েন, তখনই এই উক্তিটি করেন। তবে লাইনটি এরকম, ‘টিকে থাকার ইচ্ছেটা থাকা দরকার মগজে আর হৃদয়ে’।

নিজেকে এখন বিয়ার গ্রিলস মনে হচ্ছে টিটনের। টিকে থাকতে হবে ততদিন, যতদিন না অর্ধভূত থেকে পূর্ণভূত হচ্ছে। মগজ আর হৃদয়টাকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রকৃতি আর পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলতে হবে। যা পাওয়া যাবে তাই খেতে হবে। খাওয়ার কথা ভাবতেই পেটটা আবার মুচড়ে উঠল। আর তখনি শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল! সর্বনাশ! বিয়ার গ্রিলসের মত পোকা-মাকড় সাপ-ব্যাঙ খেতে হবে নাকি! ভাবতেই বমি পেল টিটনের। অসম্ভব, না খেয়ে মরে যাবে তবু বিয়ার গ্রিলসের মত পচা ইঁদুর, গুবরে পোকা কিংবা শামুক খুঁজে খুঁজে খাবে না। আর তখনই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐ গানটা মনে পড়ল টিটনের, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু বাংলার ফল, পুণ্য হোক হে ভগবান…!’ আর তখনই যেন মাথা থেকে একটা চাপ নেমে গেল। কোনো সমস্যা নাই। বাংলার প্রকৃতিতেই বেঁচে থাকার সব উপাদন রয়েছে। পাশেই পেয়ারা বাগান। সুমিষ্ট কাজি পেয়ারা ঝুলছে। এখনই সে পেয়ারা পেড়ে এনে খাবে। তার পাশেই পুকুর, তৃষ্ণা পেলে পানি খাবে। এক সময়ের মানুষ তো পুকুর, দিঘী, নদী জলাশয়ের পানি খেয়েই বেঁচেছে! খুশিতে টিটনের মনটা চনমন করে উঠল। সে বাংলার প্রকৃতিকে ধন্যবাদ দিল। পড়ন্ত বিকেল। একটু পরেই সন্ধ্যে নামবে। যা করার এর মধ্যেই খেতে হবে। পেটের চিন্তা দূর হলে ঘুমানোর চিন্তা করতে হবে।

যা ভাবা তাই কাজ। টিটন জঙ্গল থেকে বের হয়ে পেয়ারা বাগানের দিকে ছুটল।

এদিকে সন্ধ্যে যতই ঘনিয়ে আসছে, টিটনের বাবা মায়ের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। একসময় তারা স্থির করলেন, পুলিশে খবর দেবেন। কিন্তু টিটুলের ভাবনা ভিন্ন রকম। টিটন যে ধরনের ছেলে তাতে সে হারিয়ে যাবে না। ছেলেধরাও ফুঁসলিয়ে তাকে নিয়ে যাবে সেরকম বোকা-সোকা ছেলে টিটন না। টিটুল ভূত-প্রেত বিশ্বাস করে না। ভূতের গল্প পড়ে মজা পায় ঠিকই, সেটা নিতান্তই গল্পের মজা। কিন্তু টিটুলের কথায় কেউ পাত্তা দেয় না। একমাত্র রুবেল ভাইয়ার সাথেই তার চিন্তায় মিল হয়েছে। রুবেল ভাইয়াও তার মতই বিশ্বাস করে, ডালমে কুচ কালা হ্যায়। তাই টিটুল আসে রুবেল ভাইয়ার বাড়ি। তারা একান্তে মনোযোগী হয়ে আলোচনায় বসে। কী হতে পারে! কোথায় যেতে পারে টিটন। আর দুপুরের ভূতরহস্যটাই বা কী! যেটা সারা গ্রামের মানুষ দেখল?

রুবেল বলল, এটা এলিয়েন না তো! শুনেছি এলিয়েনরা হুট করে চলে আসতে পারে পৃথিবীতে। টিটুল বলল, এলিয়েন বিশ্বাস, ভূত বিশ্বাসের চাইতে কম কিছু না। এলিয়েন বিষয়টা বিজ্ঞানীদের ভাবনা। এর বিন্দুমাত্র সত্যতা এখনো জানা যায়নি। আর ভূতের গল্প লেখকদের মত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির লেখকরা এটাকে নানা রঙ দিয়েছে, ঢং দিয়েছে– নিজের মনের মাধুরি দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে গল্পে উপস্থাপন করেছে। সুতরাং যেটাকে দেখেছি, সেটা এলিয়েন বা ভূত বলে আমি মেনে নিতে রাজি নই। টিটুল বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তাই সে এমন দারুণ করে গুছিয়ে কথাগুলো বলল যে রুবেল দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ পেল না।

এদিকে জঙ্গলজীবনের প্রথম রাত পার করছে টিটন। অন্ধকার নামতেই একাকিত্ব বোধ করে। বিকেল থেকে তাও পাখপাখালির কলতান ছিল। লোকালয়ে একটা শব্দ ছিল। রাত্রি নামতেই গা ছমছম পরিবেশ। নিশাচর প্রাণীদের রাজত্ব শুরু হয়। ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ। হঠাৎ সটাৎ পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ পিলে চমকে দেয়। সন্ধ্যে লাগার আগে আগে পেট ভরে পেয়ারা আর পুকুরের পানি খেয়ে এসেছে টিটন।

তাহলে কিছু তো একটা হয়েছে! সেই রহস্য উদঘাটন করাই আমাদের কাজ। নাহলে গল্পের ডালপালা ছড়াতেই থাকবে। টিটুল বলল, ভাইয়া, আমার মাথায় আরেকটা সন্দেহ উঁকিঝুঁকি মারছে, বলব?

বলে ফেল।

টিটন ভাইয়ার মাথায় ক’দিন থেকে ভূত চেপেছিল, সে ভূত হবে।

বলিস কী? তারপর?

তারপর আর কী! বই-পুস্তক আর ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করছিল– ভূত হওয়ার নিয়ম জানার জন্য। ও আরেকটা কথা মনে পড়েছে– পরশুদিন আমি ওকে খবর দিয়েছিলাম পাশের গ্রামের আম্বিয়া খালাকে ভূতে ধরেছে। ভূত ছাড়ানোর জন্য ওঝা ডাকা হয়েছে। আমার মুখে খবরটা শুনেই ভাইয়া পড়িমরি করে ছুটে বের হয়ে গেছিল, সেটা দেখতে…

তারপর? আর ফেরেনি?

ফিরেছিল। দুপুরের পরপর। কাল রাতে ওকে আমি বিছানায় শুয়েও থাকতে দেখেছি। আজ সকাল থেকে ওকে দেখা যাচ্ছে না।

হুম! একটু ভাবতে দে। মাথাটা গুলিয়ে যাচ্ছে।

মাথার চুল টানতে টানতে রুবেল ভাবতে থাকে। টিটুলও ভাবছে। তবে তাকে খুব বেশি চিন্তিত মনে হচ্ছে না। সে শুধু বলল, বাবা-মা পুলিশে খবর দিতে গেছে।

অভিভাবকদের কাজ অভিভাবকরা করুক। সেটাই ভাল। আমরা আমাদের মত ঠিক করি, কী করা যায়।

ঠিক। ছটলু মামাটাও এসময় ঢাকায়। মামা থাকলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যেত। অবশ্য মামাকে খবরটা দেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় চলে আসতে পারেন!

তাহলে তো খুব ভাল হয়। রুবেল একটু ভেবে বলল, আচ্ছা, ওই আম্বিয়া খালার বাড়িতে একবার যাওয়া যায় না?

যাওয়া যায়। কিন্তু এই ভর সন্ধ্যায় মা যেতে দেবেন না।

তুই থাক। আমিই না হয় যাই।

যেতে পার। বাসায় কী বলবে?

আমি বাবাকে বলেই যাব। দরকার হলে বাবাকে সাথে নিয়েই যাব।

গিয়ে কী করবে?

কী করব জানি না। শুধু মনে হল ওখানে গেলে, আশেপাশের মানুষদের সাথে কথা বললে কোনো একটা সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

ঠিক আছে, তাহলে যাও।

বেশ বিজ্ঞের মত কথাটা বলল টিটুল। এমনিতে টিটুল বেশ হাসিখুশি আর চঞ্চল। একটু দস্যিপনাও আছে আচরণে। তবে পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে ভাবগম্ভীর করে তুলেছে তাকে।

রুবেল বিদায় নিয়ে উঠে গেল। এখনই সে আম্বিয়া খালার গ্রামে যাবে। টিটুলও বাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। যাওয়া সময় শুধু বলে গেল, কী হয় না হয় জানায়ো ভাইয়া।

এদিকে জঙ্গলজীবনের প্রথম রাত পার করছে টিটন। অন্ধকার নামতেই একাকিত্ব বোধ করে। বিকেল থেকে তাও পাখপাখালির কলতান ছিল। লোকালয়ে একটা শব্দ ছিল। রাত্রি নামতেই গা ছমছম পরিবেশ। নিশাচর প্রাণীদের রাজত্ব শুরু হয়। ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ। হঠাৎ সটাৎ পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ পিলে চমকে দেয়। সন্ধ্যে লাগার আগে আগে পেট ভরে পেয়ারা আর পুকুরের পানি খেয়ে এসেছে টিটন। তাই খিদেটা এখন আর নাই। কিন্তু ঘুম আসছে না। এত সকাল সকাল সে ঘুমায়ও না। রাত দশটা পর্যন্ত স্কুলের পড়া পড়ে। তারপর খাওয়াদাওয়া শেষ করে গল্পের বই পড়ে, কখনো গান শোনে আবার কখনো বা ছবি আঁকে। ঘুমাতে ঘুমাতে রাত বারোটা হয়। কিন্তু জঙ্গলে এর কোনটাই করার উপায় নাই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের শরীরের লোম পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ঘুমও আসছে না আবার কিছু করারও নাই। তাই ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকা, কিছুক্ষণ পর আবার ওঠা। আবার শোয়া– কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ! একবার ঘুম এসে গেলে এই বিরক্তিটা আর থাকবে না। কিন্তু ঘুমরাজা তার দিকে ঘুরেও তাকাচ্ছে না। তিনি মনে হয় নিজেই ঘুমাচ্ছেন।

হঠাৎ দূরে একঝাঁক শেয়াল সমস্বরে উক্কাহুয়া করে ডাকতে শুরু করল। কলজেটা ধড়াক করে উঠল টিটনের। শেয়ালের ডাক সে এই প্রথম শুনছে তা না। কিন্তু রাত হলেই প্রায়ই শেয়ালের ডাক শোনা যায়। কিন্তু সেটা বাড়ির মধ্যে থেকে শোনা। নিরাপদে নিশ্চিন্তে থেকে শোনা আর এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে জঙ্গলে বসে শোনা কী এক কথা হল? আর লোকালয়ের বাইরে নির্জন জঙ্গলে সে ডাক আরো প্রকম্পিত হতে লাগল। ভয়ার্ত এক পরিবেশ তৈরি হল।

হৃদপি-টা ধকধক করতে লাগল টিটনের। শিয়ালগুলো তেড়ে আসবে না তো! আর এগুলো কোন শেয়াল কে জানে। পাতিশিয়াল বা খ্যাঁকশিয়াল হলে সমস্যা নাই। কিন্তু যদি নেকড়ে শেয়াল হয় তাহলেই কম্ম কাবাড়! ওরা ভয়ংকর হয়। টেনে হাঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে। বাঘ ভাল্লুকের চেয়ে কোন অংশে কম নয় ওরা। আর ওদের চোখ আরো ভয়ংকর। অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে। টিটন জানে বিড়াল, কুকুর, বাঘ, শিয়াল, নেকড়ে হায়েনা এসব প্রাণীকে বিড়াল গোত্রের প্রাণী বলা হয়। এরা দিনের চাইতেও রাতে ভাল দেখে। রাতে বেশি হিংস্রর হয়ে ওঠে। এই জঙ্গলে বাঘ-ভাল্লুক না থাকুক, শিয়াল তো আছে!

মারাত্মক একটা ভুল যে করেছে টিটন সেটা বুঝতে পারল। বিয়ার গ্রিলসের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। বনে-জঙ্গলে রাতে ঘুমানোর আস্তানা বানাতে হলে নিরাপত্তার কথাটা ভাবা খুবই জরুরি। বিশেষ করে বন্য প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার উপায়! লতাপাতা খড়কুটো দিয়ে আস্তানা ঠিকই বানিয়েছে টিটন, কিন্তু সেটা মাটিতে না করে উচিত ছিল গাছের ডালে করার। অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয়!

কিন্তু এখন কী করবে সে? এই ঘটঘুটে অদ্ভুতুড়ে অন্ধকারে এখন আর গাছের ডালে ডেরা বানানো কোনোভাবেই সম্ভব না। শিয়াল এলে হয় তাকে বুকে জড়িয়ে স্বাগত জানাতে হবে, না হয় মরার আগ পর্যন্ত লড়তে হবে।

বুকটা মোটেই শান্ত হচ্ছে না। শেয়ালের উক্কাহুয়া ডাক যতই বাড়তে লাগল, টিটনের হৃদকম্পনও ততই বাড়তে লাগল। যেন শেয়াল গান গাচ্ছে আর টিটনের হৃদপিণ্ড তালে তালে ড্রাম বাজাচ্ছে।

একসময় টিটন খেয়াল করল শিয়ালের ডাক ক্রমেই এগিয়ে আসছে।