Ad Space

তাৎক্ষণিক

অদ্ভুতুড়ে । এম. আসলাম লিটন

জুন ২৪, ২০১৬

পর্ব-৩

শতচেষ্টা করেও অদৃশ্য হতে পারল না কদম্বভূতরূপী টিটন। চিন্তার বিষয়, কেন হচ্ছে না? ভূতের অন্যান্য গুণাবলিগুলো ঠিকঠাক আছে কী না বুঝে নেয়া দরকার, একবার ঝালাই করে নেয়া দরকার। তার আগে জানা দরকরা ভূতের প্রধান প্রধান বৈশিষ্টগুলো কী! এক, অদৃশ্য হয়ে যাও.. সেটা তো হচ্ছে না। যেখানে খুশি সেখানে যাওয়া– সেটাও হচ্ছে না।

ভূতের আরেকটা বৈশিষ্ট্য ইচ্ছেমত যে কোন প্রাণীর রূপ ধারণ করা। হ্যাঁ, এটা একবার ঝালাই করে নেয়া দরকার। টিটন তার বাবার রূপ ধারণ করতে চায়– তাই সে নিজেকে আদেশ করল, কদম্বভূত, বাবা হও। হলো না। টিটন টিটনই রয়ে গেল। সে আবার নির্দেশ দিল, কদম্বভূত, বাবা হও। এবারো হল না। টিটন হতাশ। সে বলল, ঠিক আছে কদম্বভূত, মা হও। হলো না। কদম্বভূত, টিটুল হও, হলো না। কদম্বভূত, মুরগি হও, হলো না.. সে ধীরে ধীরে রেগে গেল। কদম্বভূত, গরু, ছাগল ভেঁড়া কুত্তা যা হোক কিছু একটা হও.. নাহ! কিছুই হল না।

টিটন বুঝে গেল সে শুধু ভূতের রূপটাই পেয়েছে, আর কিছু পাইনি। তাহলে আর বৃথা ভূত হয়ে থাকা কেন! কোনই কারণ হয় না। গুলি বিহীন বন্দুকের কী মূল্য আছে! অথবা বাতাস ছাড়া ফুটবল! না কোন মূল্য নাই।

মস্ত চিন্তায় পড়ে গেল কদম্বভূতরূপী টিটন। বুকের ভেতর পুষে রাখা এতদিনের স্বপ্নটা আজ পুরণ হল। কদম্বকালিনী ওঝার কেরামতিতে সে টিটন থেকে কদম্বভূত হল। ভূতের অদ্ভুতুড়ে এক চেহারাও পেল, অথচ ভূতের আসল চরিত্রটাই পেল না! এটা কোন কথা হল!

সে ছুটে গেল কদম্বকালিনী ওঝার কাছে। গিয়ে সোজা আবার পায়ে পড়ে গেল। কদম্বকালিনী বাবা, আমি ভূতের রূপ পেলাম, গুন পেলাম না, এই ভূতজীবন নিয়ে আমি কী করব? আপনি হয় আমাকে ভূতের গুণ দেন, না হয় আবার মানুষ বানিয়ে দেন।

টিটনের কথা শুনে কদম্বকালিনী ওঝা একটু চিন্তিত হলেন। কিঞ্চিৎ বিচলিতও হলেন। কী হল? মন্ত্র-টন্ত্রে কোন ভুল হল না তো! এই কথা জানাজানি হয়ে গেলে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। কদম্বকালিনী ওঝা ত্রস্তপদে হেঁটে গিয়ে আবার তন্ত্রসাধনায় মনোনিবেশ করলেন। মন্ত্র-টন্ত্র পড়ে, অগ্নিতে ঘি নিক্ষেপ করে গভীর শ্বাস টেনে বললেন, বৃক্ষরোপণের সাথে সাথে বৃক্ষ কি কখনও ফল লাভ করে? বিবাহলগ্নেই কি কোন নারী সন্তানসম্ভবা হয়! চাল পানিতে দিয়ে চুলায় চড়িয়ে দিলে সাথে সাথে কি ভাত হয়ে যায়? সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। ধৈর্যধারণ কর বৎসে! ধৈর্যেই মোক্ষলাভ!

কদম্বকালিনী ওঝার কথায় কিছুটা শীতল হল টিটন। এতক্ষণের জমে ওঠা উৎকণ্ঠা প্রসমিত হল। তাই তো, গাছ লাগিয়েই কি ফল পাওয়া যায়! চুলায় চাল চড়ানোর সাথে সাথে কি ভাত হয়ে যায়! এই সরল সত্যটুকু এতক্ষণ কেন যে বুঝতে পারল না সে!

ধৈর্য ধরতে তার কোন সমস্যা নাই। রূপে-গুণে পূর্ণাঙ্গ ভূত হওয়ার জন্য ধৈর্য সে ধারণ করতেই পারে। তবে সে ধৈর্যকাল যদি অনন্তকাল হয়! শাক-সবজির গাছ লাগিয়ে ফল পাওয়া যায় খুব অল্প দিনেই। পেয়ারা ধরে কয়েক বছরে, আম কাঁঠাল হলে তো কথাই নাই… সাত আট বছর! তালগাছ নাকি দাদা লাগালে নাতি-পুতিরা ফল পায়। শিওরে ওঠে টিটন। না, অতদিন ধৈর্যধারণ করা সম্ভব না। তার উপর এই আধাখেঁচড়া রূপ নিয়ে!

রূপরে কথাটা মনে হতেই খুশির ঝিলিক দেখা দিল টিটনের মনে। গুণ না থাকুক, রূপ টা তো আছে! সেটাই বা কম কী। বন্দুকে গুলি আছে কী না কজন খোঁজ নেয়। বন্দুক দেখলেই তো ভয়ে সিটকে যায়। বাড়ির পাশে বিশাল আম কাঁঠালের বন দেখে ছটলু মামার বিয়ে পাকা হয়ে গেছিল। মেয়ে পক্ষ কী খোঁজ নিয়েছিল, গাছে আম কাঁঠাল ধরে কী না? সুতরাং রূপেই যখন মানুষ তঠস্ত, তখন গুণ থাকলেই বা কী, না থাকলেই কী! টিটন তার কদম্বভূতের রূপ নিয়েই খুশিতে নাচতে নাচতে গ্রামের পথে পা বাড়াল।

নানা রকম চিন্তা-ভাবনা করতে করতে কদম্বভূত পথ হাঁটছে। একেই মনে হয় বলে, ঘোড়াতে চড়িয়া মর্দে হাঁটিয়া চলিল…! দাদুর মুখে শুনেছিল টিটন। তখন শত কৌতূহল থাকা সত্বেও বোঝেনি, ঘোড়াতে চড়িয়া আবার কীভাবে হেঁটে চলা যায়। এখন বুঝতে পারছে। জীবনে কত কী যে শেখার আছে!

কদম্বভূত হাঁটছে আর আড় চোখে আশে পাশে তাকাচ্ছে। কেউ তাকে দেখে ভয় পাচ্ছে কী না দেখতে হবে। প্রথমেই পড়ল বাদল প্রামাণিকের এঁড়ে গরু। কদম্বভূত খুশি হল। বাদল প্রামাণিকের এঁড়ে গরুটা খুব বজ্জাত। দেখলেই শিং বাগিয়ে তেড়ে আসে। আজ ওকে শায়েস্তা করা যাবে। স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রতিদিন টিটন ওকে ভয় পায়, আচ ও টিটনকে ভয় পাবে। কদম্বভূতরূপী টিটন বেশ মজা নিয়ে ঠিক এঁড়ে গরুটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। গরুটা মাথা তুলে টিটনকে শুধু একবার দেখল। টিটন অপেক্ষা করছে, এইবার বাছাধন ভোঁ দৌড় দেবে। যাকে বলে দড়িছেঁড়া দৌড়! কিন্তু একি! এঁড়ে গরুটাইতো শিং বাগিয়ে ছুটে আসছে তার দিকে। টিটন ভড়কে গেল! সর্বনাশ! ভয় পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো শিং বাগিয়ে তেড়ে আসছে! পড়ি কী মরি করে টিটন দৌড় দিল। দৌড়ে কোন রকম প্রাণে বাঁচল।

ভূতীয় জীবনে দ্বিতীয়বার হোঁচট খেল টিটন। সামান্য গরু কিনা ভূতকে ভয় পেল না? উল্টো তেড়ে এল? টিটন ভাবল, আচ্ছা, পশুরা কী ভূতকে ভয় পায়! না, পশু-পাখিরা ভূতকে ভয় পেয়েছে এমন ঘটনা কোন গল্পেও পড়েনি, কানেও শোনেনি। শুধু এক জায়গায় পেয়েছিল ঘোড়া নাকি অশরীরী অস্তিত্ব আগে টের পায়! তো টের পাওয়া আর ভয় পাওয়া তো এক না। তাই মনে মনে এই সান্ত্বনাটুকু নিয়ে টিটন পা বাড়াল। পথে গরু, ছাগল, হাঁস মুরগি এমনকি কাকপক্ষিও তাকে দেখে ভয় পেল না। ভ্রুক্ষেপও করল না।

কিন্তু পুকুর পাড়ে ছটলু মামার পেয়ারা বাগানে এসে ঘটল বিপত্তি। পাড়ার দুষ্টু কিশোর হাবলু গাছে উঠে পেয়ারা চুরি করছিল। সে প্রায়ই ছটলু মামার বাগানে পেয়ারা চুরি করে। মামা অনেক চেষ্টা করেও হাতে নাতে ধরতে পারেননি। টিটন আজ হাতে নাতে পেয়েছে তাকে। পিঠমোড়া করে জাপটে ধরে নিয়ে যেতে পারলে ছটলু মামার কাছ থেকে আইসক্রিম বাগানো যাবে। এই সুযোগ কী আর হাত ছাড়া করা যায়!

টিটন গুটিসুটি পায়ে পেয়ারা গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াল। উপরে তাকাতেই হাবলুর চোখে চোখ পড়ল। আর অমনি হাবলু ভূত বলে চিৎকার করে সড়াৎ করে মটিতে পড়ে গেল। পড়বি তো পড় একেবারে অজ্ঞান। টিটন ক্ষণিকের জন্য ভুলেই গেছিল সে আর এখন টিটন নয়, কদম্বভূত। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ভয় না পাক, মানুষ ভয় পাবেই। আর এতেই খুশিতে আত্মহারা টিটন। গুলি থাক না থাক, বন্দুক দেখেই হাবলু কুপোকাত। টিটন খুশিতে নাচতে থাকে। কিন্তু হাবলুর দিকে তাকাতেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যায়। মরে গেল নাকি হাবলু! তাহলে হিতে বিপরীত হবে! আইসক্রিম তো দূরের কথা উল্টো তাকেই জেলের ঘানি টানতে হবে।

টিটন নাকমুখে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে, না বেঁচে আছে! শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। তার মানে জ্ঞান হারিয়েছে। সে দ্রুত পুকুর থেকে অঞ্জলি ভরে পানি এনে নাকে-মুখে ছিটা দেয়। আঙুল দিয়ে নাকচিপে ধরে। অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে ওঠে হাবলু। অবশেষে জ্ঞান ফিরে আসে। টিটন আস্তে করে ডাক দেয়, হাবলু! হাবলু চোখ মেলে। কদম্বভূতের চোখে চোখ পড়তেই ওরে বাবারে… ওরে মারে বলে লাফ দিয়ে ওঠে। তারপর পড়ি কী মরি করে ভোঁ দৌড় দেয়।

সারা গ্রাম রটে যায় ছটলু মামার ফল বাগানে ভূত এসেছে। হাবলু নিজে দেখেছে। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে না। ছটলু মামা হাবলুর কান ধরে বলেন, দুষ্টু ছেলে, তুমি আমার বাগানে না বলে পেয়ারা পাড়তে গেছিলে, আর এখন ভূতের দোহায় দিচ্ছ?

হাবলু হাত জোড় করে অনুনয় বিনুনয় করে। লাভ হয় না। কেউ বিশ্বাস করে না। ছটলু মামা হাবলুকে তার অপরাধের স্বীকারোক্তি নিয়ে ছেড়ে দেন। সে এমন কাজ আর জন্মেও করবে না।

এদিকে টিটন গ্রামে ঢুকতেই ঘটে যায় আরেক কাণ্ড। বৃদ্ধ ভিক্ষুক গোফরান কদম্বভূতকে দেখে ভয়ে পালাতে গিয়ে উল্টে পড়ে যায়। পায়ের হাড় ভেঙে তিন টুকরা হয়ে যায়। পাড়ার লোকেরা ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ভয় পেয়ে চার বছরের শিশু তন্ময়ের জ্বর চলে এসেছে।

এ তো বড়ই বিড়ম্বনায় পড়ল টিটন। তাকে দেখে সবাই ভয় পাক, সেটা সে চেয়েছে। কিন্তু মানুষের ক্ষতি হোক সেটা তো চায়নি!

এরকম সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে সে বাড়ির পথে পা বাড়াল। কিন্তু সবাই তাকে দেখে ভয়ে ছুটে পালাতে লাগল। সারা পাড়া রৈ-রৈ পড়ে গেল, এলাকায় ভূত ঢুকেছে। গোটা পাড়া একেবারে শ্মশান! দরজা-কপাট বন্ধ, জানালা বন্ধ। জনমানবহীন থমথমে পরিবেশ! মুখর গ্রামটা নিমেষেই শুনশান ভূতুড়ে গ্রামে পরিণত হল।

টিটন ভেবে পাচ্ছে না, এখন তার কী করা উচিত। তার মন খুব খারাপ হল। ভীষণ রকমের খারাপ! ওর জন্যই সবার আজ এই ভীতিকর অবস্থা।

তাহলে এখন কী করা! এই কদম্বভূত চেহারা নিয়ে কীভাবে সে বাড়ি ফিরবে? কীভাবে সে প্রতিবেশি, বন্ধু আত্মীয়দের সামনে দাঁড়াবে! সবাই তো তাকে ভয় পাচ্ছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আবার ধরা পড়ারও ভয় আছে। ভয়-ডর উপেক্ষা করে দুচারজন সাহসী কেউ বের হয়ে এলে তো সর্বনাশ! পালাতেও পারবে না, আবার অদৃশ্যও হতে পারবে না। চেহারা ছাড়া ভূতীয় কোন শক্তিই তার নাই। মার খেয়ে ভূত হয়ে যেতে হবে।

মনের দুঃখে গ্রাম ছেড়ে চলে এল টিটন। কিন্তু যাবে কোথায়? যেখোনে যাবে সেখানেই তো একই সমস্যা দেখা দেবে। দুটি পথ তার সামনে খোলা আছে। এক, লোকালয় ছেড়ে ঘন জঙ্গলে গিয়ে বসবাস করা। আরেক কদম্বকালিনী ওঝার পায়ে পড়ে গিয়ে ভূত থেকে জীবন মনুষ্য জীবনে ফিরে যাওয়া।

কিন্তু মনুষ্য জীবনে ফিরে যেতে তার মন চাচ্ছে না। এতদূর এগিয়ে এসে ফিরে যাওয়ার কোন মানে হয় না। কত্ত স্বপ্ন, কত প্রচেষ্টার ফল এই ভূত হওয়া। আর মাত্র কটা দিনই তো। একবার পূর্ণ ভূতীয় শক্তি ফিরে পেলে, যখন ইচ্ছা ভূত হওয়া যাবে, যখন ইচ্ছা মানুষ হওয়া যাবে। তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

অগত্যা সবদিক বিবেচনা করে মনের দুঃখে লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলের দিকে পা বাড়াল টিটন।

এদিকে ভূতকে দেখতে না পেয়ে গ্রামের মানুষ ঘর ছেড়ে ধীরে ধীরে বের বয়ে এল। তবে কানাঘুষা চলতেই থাকল। আতঙ্কমুক্ত হতে পারল না কেউই।

দিন ঘনিয়ে সন্ধ্যে হল। কিন্তু টিটন বাড়ি ফিরছে না। একসময় বাড়ির মানুষ উতলা হল। খোঁজাখুঁজি শুরু করল। এখানে সেখানে, বন্ধুদের বাড়িতে, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি, খেলার মাঠ, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজা হল। কোথাও নাই টিটন। কোথায় গেল ছেলেটা! হাওয়ায় উবে গেল! দুশ্চিন্তায় পড়ল টিটনের পরিবারের লোকজন। কোন ছেলে ধরাটরার খপ্পরে পড়েনি তো!

কয়েকজন প্রতিবেশির জোরাল দাবি, এটা ঐ ভূতের কাজ! টিটনকে ভূতটাই ধরে নিয়ে গেছে। এতক্ষণে হয়তো ছটলু মামার ফল বাগানে নিয়ে গিয়ে ঘাড় মটকে দিয়েছে। ছটলু মামার আম বাগানেই আস্তানা গেঁড়েছে ভূতটা। হাবলু আজ নিজের চোখে দেখেছে ছটলু মামার ফলবাগানে। তখন তো ছটলু মামা হাবলুর কথা বিশ্বাস করেননি। উল্টো কানমলা দিয়েছেন।

কয়েকজন ত্যাদড় ধরনের ছেলেপিলে প্রতিবাদের সুরে বলল, এতদিন শুনতাম মানুষকে ভূতে ধরে? ওঝা এনে সে ভূত তাড়ান হয়। এই তো গত পরশু ঐ পাড়ার আম্বিয়া খালাকে ভূতে ধরেছিল। কদম্বকালিনী ওঝাকে ডেকে সে ভূত তাড়ান হল। তাহলে টিটনকে ভূতে না ধরে উল্টো নিয়ে গেল কেন? ভূত কী করবে টিটনকে নিয়ে! ভূতরা তো আর রক্ত-মাংস খায় না।

পাড়ার একজন মুরুব্বি গোছের মেয়ে খেঁকিয়ে উঠল, আজকালকার ছেলেপিলেদের নিয়ে আর পারা যায় না। কিচ্ছু বিশ্বাস করে না। দিনে দুপুরে সাক্ষাৎ ভূত এল, পাড়াশুদ্ধ লোক জলজ্যান্ত ভূতটাকে দেখল, তার পরও অবিশ্বাস! বুঝবে, ঠিক বুঝবে! ভূত এসে যেদিন নিজের ঘাট মটকে দেবে, সেদিন বুঝবে!

টিটনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেল একটু ঠোঁটকাটা স্বভাবের। টিটনের সাথে তার খুব ভাব। ওরা একসাথে স্কুলে যায়, খেলে। সে এগিয়ে এসে বলল, সেখানেই তো সন্দেহ নানি। এতদিন জানতাম যাকে ভূতে ধরে সে শুধু ভূতকে দেখতে পায়, আর ওঝা দেখতে পায়। সবাই দেখতে পায় না। অথচ আজ আমরা পাড়াশুদ্ধ লোক ভূতকে দেখলাম! আমার মনে হয়, ডালমে কুচ কালা হ্যায়! রুবেলের কথা শুনে টিটনের বোন টিটুল একটু সাহস পেল, সে এগিয়ে এসে বলল, ঠিক বলেছ রুবেল ভাইয়া। আমারও মনে হচ্ছে, ডালমে কুচ কালা হ্যায়। আমাদের সেই কালা ডালটাই খুঁজে বের করতে হবে!

একজন মুরুব্বি, তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, কর! খুঁজে বের কর! আমরাও দেখি! কোন ডাল কালা, আর কোন ডাল ধলা!