Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • নাটোরে তিন দিনব্যপী জেলা আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে জেএমবি সদস্য মজনুর আটক– বিস্তারিত....
  • বাসচালক জামিরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ– বিস্তারিত....
  • নাটোরে আফতাব ফিড কোম্পানির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড– বিস্তারিত....
  • নিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যু– বিস্তারিত....

যেতে যেতে চিত্রাঙ্গদার দেশে

মে ১৪, ২০১৬

রিংকা চক্রবর্তী : চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা, মাঝখানে সমতলভূমি এই নিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্য মণিপুর৷ প্রকৃতি খুব যত্ন করে সাজিয়েছে এই রাজ্যকে৷ মণিপুরের অর্থমণিখচিত ভূমি রাজধানী ইম্ফল সেই রত্নগুচ্ছের মধ্যে সেরা রত্ন৷ ঝকঝকে রাস্তাঘাট, পরিপাটি করে সাজানো শহর৷ এখানে মানুষের সকাল হয় খুব তাড়াতাড়ি৷

শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে খবাইরাম্বণ্ড বাজার, যাইমা মার্কেটনামেই পরিচিত৷ এই বাজারের বিশেষত্ব কেবলমাত্র মহিলারাই রকমারি জিনিসপত্র বিক্রি করেন৷ প্রায় সাড়ে তিন হাজার মহিলা রোজ তাঁদের নানান পশরা নিয়ে বিক্রির জন্য আসেন এই বাজারে৷ স্থানীয় এক ধরনের মিষ্টি বিক্রি হয় ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে, বেশ ভাল খেতে নাকি৷ সন্ধে টায় এই বাজার বন্ধ হয়ে যায়৷

মণিপুরের লোকতাক হ্রদ বিশ্ববিখ্যাত৷ সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় মিষ্টি জলের হ্রদ এটি৷ আকাশের নীল রং মিশে গিয়েছে হ্রদের জলে৷ চোখে পড়বে নীল ঘন জলের ওপর ঘাসের শিল্পকর্ম৷ এই ঘাসগুলোকে বলেফামদি এই ঘাস নাকি এতই শক্ত যে, একটা বাড়ি অনায়াসে এর ওপর ভেসে থাকতে পারে! লেক চত্বরের শান্ত পরিবেশ মনেও প্রশান্তি আনে৷ হ্রদের জলে জলক্রীড়া এবং নৌকাবিহারের ব্যবস্থা আছে৷

মণিপুরে লেখার মাধ্যম বাংলা৷ বাংলা হরফে লেখা প্রচুর দোকানের সাইনবোর্ডেও চোখে পড়বে৷ বাঙালিদেরও দেখা পাবেন প্রচুর৷ আর পাওয়া যাবে আহারে বাঙালির প্রিয় ভাত৷ মণিপুরে ভাতই প্রধান খাদ্য৷ তবে ভাত মানে মাড় সমেত৷ মণিপুরবাসীরা এভাবেই খেতে অভ্যস্ত৷ ভাত বানানোর জন্য জলটা তাঁরা এমনভাবেই নেন, যাতে মাড় ফেলতে হয় না৷ স্পেশাল মাছের চাটনিইরোম্বা‘- স্বাদ নিতে ভুলবেন না৷

যেতে পারেন ভারতমায়ানমার সীমান্ত শহর মোরেহ৷ ইন্দোমায়ানমার ফ্রেন্ডশিপ গেট পেরিয়ে ওদেশের ইণ্টারন্যাশনাল মার্কেটে যেতে পারেন৷ এর জন্য কোনও পরিচয়পত্র লাগে না৷ ইন্দোমায়ানমার সড়কপথে লংথবালে রয়েছে মণিপুরের প্রাচীন রাজপ্রাসাদ৷ রাজপ্রাসাদের কাছেই শ্রীগোবিন্দজির মন্দির৷ মন্দিরের গম্বুজ দুটি সোনার তৈরি৷ বৈষ্ণবধর্মের পীঠস্থান এই মন্দির৷ মণিপুরের স্টেট মিউজিয়ামে এলে মণিপুরী সংস্কৃতি সম্বন্ধে জানা যাবে৷ অর্কিড ফার্মটিও দেখে নিন৷ তিনশোর বেশি ধরনের অর্কিড রাখা আছে এখানে৷ রয়েছে ১২০ ধরনের ফুলের সম্ভার৷ অবশ্যই দেখুন অ্যান্ড্রো হেরিটেজ কমপ্লেক্স৷ প্রাচীনকালে মণিপুরের ঘরবাড়ি, পাকশালা, বাসন, হস্তশিল্প, পোশাক যেমন ছিল, তেমনটিই সংরক্ষণ করা আছে এই কমপ্লেক্সে৷ পাথরের ওপর খোদাই করা মুখগুলো দেখে অবাক হতে হয়৷ ছোট্ট জলাশয়কে ঘিরে এই অসাধারণ শিল্পকর্ম৷ পাথরের ছোট্ট মিনারটিও প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী৷ এছাড়া দেখুন কাকচিং গার্ডেন৷ একটা গোটা পাহাড় জুড়ে অসাধারণ এই বাগান গড়ে উঠেছে৷এখান থেকে মণিপুর ভ্যালি দেখা যায় পুরোটা৷ইবুধোও পাখাংবামন্দিরটিও দেখুন৷ দেবতা হিসেবে এখানে পূজিত হয় ড্রাগন৷ মহিলারাই পুজো করেন৷ দেখুন খংলম ওয়ার মেমোরিয়াল কাংলা ফোর্ট৷ পৃথিবীর একমাত্র ভাসমান পার্ক কেইবুল লামজো ন্যাশনাল পার্কটিও দেখুন অবশ্যই৷ ১৪৬৭ সালে নির্মিত প্রাচীন বিষ্ণু মন্দির সাদুচিরু জলপ্রপাত এবং আগাপে গার্ডেনও দেখে ভাল লাগবে৷

সূত্র : প্রান্তজন