Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • নাটোরে তিন দিনব্যপী জেলা আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে জেএমবি সদস্য মজনুর আটক– বিস্তারিত....
  • বাসচালক জামিরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ– বিস্তারিত....
  • নাটোরে আফতাব ফিড কোম্পানির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড– বিস্তারিত....
  • নিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যু– বিস্তারিত....

বৈশাখে সেই পাঞ্জাবি পরবো : পলান সরকার

এপ্রিল ১৩, ২০১৬

গ্রামের পর গ্রাম যিনি পায়ে হেঁটে বই বিলিয়ে আলোকিত করেছেন মানুষকে- তিনি আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। আগের মতো মাইলকে-মাইল আর হাঁটতে পারেন না। তবে যেটুকু পারেন সেটুকু সময় আগের মতোই বই বিলিযে বেড়ান। আর বাকি সময় কাটান পাঠাগারে। রাজশাহী জেলা পরিষদ থেকে তৈরি করে দেয়া সেই পাঠাগারটি এখন জমজমাট। পাঠক হয়তো বুঝতে পারছেন কার কথা বলছি আমরা? একুশে পদক পাওয়া বইপ্রেমী শাদা মনের মানুষ সেই পলান সরকারের কথা। যিনি মানুষকে বই দিয়ে  জ্ঞানার্জনে সাহায্য করেন। তার ভালবাসা আর কর্ম উদ্যোগই তাকে আলোকিত মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে গুণী এ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সাহেব-বাজার২৪.কম-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নুরুজ্জামান

 

পলান সরকারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উঠে আসে সেকাল আর একালের পহেলা বৈশাখ উদ্যাপণের নানা বিষয়। বৈশাখ নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, আমাদের আমলে এইভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতো না। জমিদারের (পূর্ণী) খাজনা আদায় আর মহাজনের হালখাতা বৈশাখের বার্তা আনতো । সেকালে হালখাতা আর পীঠা খাওয়ার মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করতো সবাই। বর্তমান সময়ে নতুন শাড়ি কাপড় পরে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গান গেয়ে যে নববর্ষ উদযাপন সেটি ওই আমলেই ছিল না। হালখাতার মাধ্যমে মানুষ বুঝতো নতুন বছর এসেছে। অথচ কালের বিবর্তনে তা পাল্টে বৈশাখের উৎসব ছড়িয়ে পড়ছে এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সেই সাথে বিভিন্ন স্থানে বসছে বৈশাখি মেলা ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৮০’র দশকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে পহেলা বৈশাখই উদযাপন হতো না সেখানে পান্তা ইলিশের প্রশ্নই আসে না। আর পান্তা ইলিশের সঙ্গে বৈশাখের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, পহেলা বৈশাখ এখন বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। সর্বজনিন এ উৎসবকে ঘিরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে যে মিলন এটি বিশাল ব্যাপার। উৎসব মানুষকে ভেদাভেদ ভুলিয়ে এক করে। আর এটিতো জাতীয় উৎসব সুতরাং মানুষ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আসবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের অমঙ্গলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে । আর এমনটি হলে বাঙালি সারাবিশ্বে আরও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কি ভাবছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে পহেলা বৈশাখের উৎসব এখন আর শহুরে নয়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে গেছে। যখন এ ধরনের উৎসবে সব বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায় তখন ভালো লাগে। নতুন প্রজন্মকে বলবো দেশকে ভালোবাসো। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্ক জানো। আর এগুলো জানতে হলে বই পড়তে হবে। বেশি বেশি করে বই পড়ো আর জ্ঞান আহরণ করো।

আপনার পাঠাগারে এতো বই কিভাবে এলো-জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আল্লা দিলে ফুরাই না, আর বান্দা দিলে কুলাই না।  আমার ঘরে এখন যতো বই দেখছেন তা কিনতে আমার এক পয়সাও লাগেনি। ইত্যাদির মাধ্যমে যে খেতাব পেয়েছি তা থেকে এসব অর্জন।

এ বৈশাখে আপনার কোনো অনুষ্ঠান আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এবার আমার কোনো প্রোগাম নাই। শরীলটাও বেশি ভাল না। তবে পাঞ্জাবি আছে।এবার বৈশাখে সেই পাঞ্জাবি পরবো। পাশাপাশি এ দিনটি সম্পর্কে লোকজনকে আরো বেশি বেশি করো বলবো।

 

এক নজর : পলান সরকারের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে।  ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে তাঁর বাবা হায়াত উল্লাহ সরকার মৃত্যুবরণ করেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর অর্থনৈতিক সংকটে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। এরপর-নানা ময়েন উদ্দিন সরকার এবং মা’ মইফুন নেসা পলান সরকারকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা “পলান” নামে ডাকতেন। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে পলান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন। কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস থেকে যায় তাঁর আজীবন।