ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:১৬ অপরাহ্ণ

Home / slide / আর্সেনিকের বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: নতুন রিপোর্ট

আর্সেনিকের বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: নতুন রিপোর্ট

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশের যে গ্রামগুলোতে আর্সেনিকের প্রকোপ বেশি তার মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আউশপাড়া গ্রাম।

নিউ ইর্য়ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ তাদের প্রকাশিত নতুন এক রিপোর্টে বলছে বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এখনও আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে।

‘নেপোটিসম্ অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিঙ্কিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশেস্ রুরাল পুওর’ নামে তাদের এই রিপোর্ট বলছে আর্সেনিক দূষণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামনে আসার দুই দশক পরেও বাংলাদেশ সরকার এই সমস্যা সমাধানে মৌলিক পদক্ষেপগুলো নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষ এখনও আর্সেনিকযুক্ত ভূগর্ভস্থ পানি পান করছে এবং বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিকের ঝুঁকি মূলত অগ্রাহ্য করছে।

মাটির নিচে প্রাকৃতিকভাবেই এই আর্সেনিক তৈরি হয় এবং তা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

মানবাধিকার এই সংস্থাটি দাবি করছে প্রতিবছর বাংলাদেশে এই আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে মৃত্যু ঘটছে ৪৩ হাজার মানুষের।

তারা বলছে আর্সেনিক থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ব্যক্তিবিশেষ এবং তার পরিবারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশের ব্যাপক যেসব গ্রামাঞ্চলের অগভীর নলকূপের পানিতে এই বিষাক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এ নিয়ে প্রচুর গবেষণার পরেও দেশটির সরকার এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের পানীয় জলের কোনো বিকল্প নেই এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা দূষিত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে বলে এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকার এই রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে আর্সেনিক সমস্যা থেকে সরকারের দৃষ্টি সরে নি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক বলেছেন ‘১৯৯৩ সালের যখন এই ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে তখন বাংলাদেশের ২৬ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে আছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে এই ঝুঁকি এখন ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।’

মিঃ মালেক বলেন গ্রামীণ এসব এলাকার জনগোষ্ঠির কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের নানা কার্যক্রম চলমান আছে এবং তারা আশা করছেন ২০২০ সালের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে এই প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য তারা বাংলাদেশের সাতটি গ্রামীণ এলাকায় ১৩৪ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছে সরকারের পানি সরবরাহ সংস্থার কর্মকর্তাসহ আর্সেনিকের শিকার মানুষ এবং তাদের নিয়ে যারা কাজ করছে এমন লোকজন।

বাংলাদেশের যে গ্রামগুলোতে আর্সেনিকের প্রকোপ বেশি তার মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আউশপাড়া গ্রাম।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশে অনেকের ধারনা তৈরি হয়েছে যে আর্সেনিক এখন আর মারাত্মক ঝুঁকি নয় যেটা তাদের মতে খুবই উদ্বেগের কারণ।

আকবর হোসেন বলছেন এই গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলবে।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তিনি দেখেছেন বহু মানুষ অবলীলায় আর্সেনিক আক্রান্ত পানি পান করছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জরিপে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে আর্সেনিকের চিত্র গত বিশ বছরে তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। সংস্থাটি বলছে আর্সেনিক যে একটা বড় গুপ্ত ঘাতক সেটি সরকারও যেমন ভুলতে বসেছে তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও এর তেমন একটা গুরুত্ব নেই।

আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপনে বিভিন্ন জায়গায় অতীতে সরকারি বেসরকারি তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযোগ উঠেছে গত কয়েকবছরে সেটি অনেকটাই স্তিমিত।

একটা সময় আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ লাল রং দিয়ে চিহ্ণিত করার কার্যক্রম থাকলে অনেকে বলছেন গত ছয়-সাত বছরে এ ধরনের কার্যক্রম নেই।

তবে সরকার বলছে আর্সেনিক সংশ্লিস্ট কোন কার্যক্রমেই ভাটা পড়েনি।

সরকার যাই দাবি করুক না কেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশে অনেকের ধারনা তৈরি হয়েছে যে আর্সেনিক এখন আর মারাত্মক ঝুঁকি নয়। এই ধারনা আর্সেনিক পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে। সূত্র বিবিসি

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বিজয়ের মাস : ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বরের এইদিন বগুড়া শহর হানাদার মুক্ত হয়।ওই দিন বগুড়ায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *