রাত ১:০০ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯


হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : December 3, 2018 , 10:07 pm
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

সোমবার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী গুলশান থানার তৎকালীন এসআই রিপন কুমার দাস। তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আসামি তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ও রাকিবুল হাসান রিগ্যানের পক্ষে বাদীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহামদ। জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

সোমবার জবানবন্দি গ্রহণের সময় ঘটনাস্থল থেকে বাদীর জব্দ করা ২৫ প্রকার আলামত বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি তা শনাক্ত করেন।

এসব আলামতের মধ্যে ছিল হামলায় ব্যবহূত মারণাস্ত্র তিনটি দশমিক ২২ বোরের মেশিনগান ও পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি মেশিনগানের ম্যাগাজিন, পিস্তলের ছয়টি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ৩৪ রাউন্ড গুলি, মেশিনগানের ৭৯ রাউন্ড গুলি, নয়টি গ্রেনেডের সেফটি পিন, তিন শতাধিক গুলির খোসা, দুইটি চাপাতি ও দুইটি ছুরি।

এর আগে এদিন দুপুর ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর বিচারক আসামিদের কাছে জানতে চান, তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি-না? জবাবে তারা বলেন, তারা কোনো আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারেননি। সরকারিভাবে তা করা সম্ভব- জানার পর আসামিরা পৃথকভাবে আইনজীবী নিয়োগ করার জন্য বিচারককে অনুরোধ জানান।

এ মামলায় সরকারি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা থেকে আইনজীবী সিতারা ফৌজিয়া সালামকে আসামি জাহাঙ্গীর ও হাদিসুর রহমানের পক্ষে; মাহফুজুর রহমান চৌধুরীকে সবুরের পক্ষে এবং ফারহানা কুদ্দুস সুইটিকে মিজানুর রহমানের পক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ চার আসামির সবাই কারাগারে রয়েছে।

এ ছাড়া পলাতক দুই আসামির পক্ষে মো. শহিদ উজ জামানকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছে। মামলায় গত ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিসান বেকারিতে অস্ত্রধারী পাঁচ জঙ্গি হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে গলা কেটে ও গুলি করে হত্যা করে। এ সময় জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন।

রাতের বিভিন্ন সময়ে তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। ৪ জুলাই নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির গত ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চিহ্নিত বাকি ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ৮ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।

চার্জশিটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এসবি/এআইআর