রাত ১০:১৩ মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯


সাহেব-বাজারের সংবাদে আসামি ‘খুঁজে পেল’ পুলিশ

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : July 3, 2018 , 10:12 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে পাঁচ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি দেড় বছর ধরে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকায় সাহেববাবাজার জিরোপয়েন্টে নিজের ব্যবসাও সামলাচ্ছিলেন তিনি। অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। এ নিয়ে গত ২৫ জুন অনলাইন নিউজপোর্টাল সাহেব-বাজার২৪.কমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) শুরু হয় তোলপাড়। আসামিকে গ্রেপ্তারে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন আরএমপি কমিশনার। অবশেষে আইয়ুব আলী তালুকদার নামের ওই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার বাদী আরিফুজ্জামান নবাব বলছেন, সাহেব-বাজারের সংবাদের কারণেই আসামিকে ‘খুঁজে পেল’ পুলিশ। তা না হলে দিনের পর দিন দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তাকে খুঁজে পেত না পুলিশ। কেননা, দেড় বছর ধরেই তিনি আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য থানায় ঘুরেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। প্রকাশ্যে ব্যবসা করার খবর দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ অবশেষে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি খুশি।

বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে নগরীর সাধুর মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আইয়ুব আলী তালুকদারের বাড়ি নগরীর নগরীর পঞ্চবটি বাজেকাজলা মহল্লায়। বন্ধুত্বের সুবাদে তিনি লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুজ্জামান নবাবের কাছ থেকে ২০০৯ সালে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। কথা ছিল, এক মাস ১০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেবেন আইয়ুব আলী। এ নিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লেখাপড়াও হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আইয়ুব আলী টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না।
তখন আইনের আশ্রয় নেন আরিফুজ্জামান নবাব। আদালতে মামলা করেন আইয়ুবের বিরুদ্ধে। এরপর ২০১১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইয়ুবের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামি জজ আদালত ও উচ্চ আদালতে আপিল করলেও নি¤্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। ফলে গত বছরের ৩ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আইয়ুব আলী তালুকদারকে শহরের প্রায় সব মানুষই তাকে চেনেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি ফুটপাতে হালিম বিক্রি করেন। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘মামা হালিম’ নামের দোকানটি তারই। ফুটপাতের দোকানী হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার নিবিড় যোগাযোগ। তাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ‘প্রভাবশালী’ এই ‘প্রতারক’।

এসবি/আরআর/এসএস