সকাল ৭:০১ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯


শিল্পী কালিদাস কর্মকার মারা গেছেন

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 18, 2019 , 6:58 pm
ক্যাটাগরি : জাতীয়,সাহিত্য ও সংস্কৃতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : শিল্পী কালিদাস কর্মকার মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে তাকে ঢাকার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা কালিদাসকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম আলোকে এই খবর নিশ্চিত করেন তাঁর ছোট ভাই শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার। কালিদাস কর্মকারের বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

শিল্পী ছোট ভাই, প্রশান্ত কর্মকার জানান, কালিদাস কর্মকার ইস্কাটনের বাসায় গোসল করতে গেলে সেখানে পড়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে থাকা এক বন্ধু নিচে খবর দেন। পরে বাথরুমের দরজা খুলে তাঁকে বের করা হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, ঘণ্টাখানেক আগেই মারা গেছেন কালিদাস কর্মকার। সে হিসেবে বেলা দেড়টায় মারা গেছেন তিনি।

বিপত্নীক কালিদাস কর্মকারের দুই মেয়ে কঙ্কা কর্মকার ও কেয়া কর্মকার আমেরিকায় থাকেন। খবর শুনে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাঁরা দেশে ফিরলে কালিদাস কর্মকারের শেষকৃত্য হবে। তার আগে মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে।

শিল্পী কালিদাস কর্মকার ১৯৪৬ সালে ফরিদপুর শহরের নিলটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬২-৬৪ এই তিন বছর তৎকালীন ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে দুই বছরের সূচনা কোর্স শেষ করে ১৯৬৯ সালে কলকাতায় সরকারি আর্ট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে চারুকলায় স্নাতক করেন। দেশে-বিদেশে আয়োজিত শিল্পী কালিদাসের একক চিত্র প্রদর্শনীর সংখ্যা এ দেশের চারুশিল্পীদের মধ্যে সর্বাধিক, দেশে বিদেশে এ শিল্পীর ৭১টি চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে দেশে-বিদেশে কাজ করে আসছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি বহু আন্তর্জাতিক দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেছেন।

বাংলাদেশে ছাপচিত্র-শিল্পের প্রচার ও প্রসার আন্দোলনে গ্রাফিকস আঁতেলিয়ার-৭১-এর মাধ্যমে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। ভারত, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, কোরিয়া, আমেরিকাতে আধুনিক শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চতর ফেলোশিপ নিয়ে সমকালীন চারুকলার নানা মাধ্যমে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছেন। জীবদ্দশায় একুশে পদক, শিল্পকলা পদকসহ অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী।

এসবি/জেআর