রাত ১২:০৭ বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯


লেক পরিণত হয়েছে মশার খামারে

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : জনদুর্ভোগ,রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহানগরীর অভিজাত পদ্মা আবাসিক এলাকায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে পার বাঁধাই কাজ হাতে নেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। কিন্তু বাঁধাই কাজের অব্যবস্থাপনার কারণে সেটিই যেন মশার খামারে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি লেকটি হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। আর তা ছড়িয়ে পড়ছে আবাসিক এলাকার বাসাবাড়িতে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে মশার উপদ্রব। ডেঙ্গুর ভয়াবহতার এই সময়ে এডিস মশা বিস্তারের শঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা।

সূত্র মতে, গত বছরের জানুয়ারির দিকে পদ্মা আবাসিক এলাকার লেকটির পার বাঁধাই কাজ হাতে নেয় (রাসিক)। ভারতের অর্থায়নে এই কাজ এখনো চলছে। কিন্তু পারের নিচেই লেকের পানিতে জমে আছে আবর্জনার স্তূপ। আর তা হয়ে উঠেছে মশার প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র। লেকটির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো উদ্যোগ নেই। এই ফাঁকে লেকটিতে আবাস গেড়ে বংশ বাড়িয়ে চলেছে মশা। অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশারও বংশবিস্তার হচ্ছে এখান থেকে—এমন শঙ্কা স্থানীয় অধিবাসীদের।

সরেজমিনে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায় পদ্মা আবাসিক এলাকায় গোটা লেকটিই যেন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সঙ্গে আগাছা ও কচুরিপানায় ভর্তি। নগরীর নওদাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পদ্মা আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা বস্তির বাসিন্দাদের গোসলের একমাত্র স্থান বলা চলে এই লেক। আবর্জনা আর কচুরিপানার ফাঁকের অংশগুলোতে ময়লাযুক্ত পানিতেই গোসল সারছে ওই বস্তির বাসিন্দারা। এতে ছড়াচ্ছে নানা রোগবালাই।

বস্তিবাসী আকবর আলী বলেন, ‘আশপাশে তো আর তেমন পানির ব্যবস্থা নাই। তাই এ জাগাতেই নামি পড়ি গোসল করতে। পানি ময়লা হলেও করার কিছু নাই। এই পানি দিয়েই বাড়ির অনেক কাজ করতে হয়। আবার ময়লার কারণে মশারা ভিন ভিন করে। রাত-দিন সেই মশা জ্বালায় আমাদের। মশা মারারও উদ্যোগ দেখি না।’

মাজদার হোসেন নামে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এত টাকা ব্যয় করে লেকটির সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। কিন্তু লেকটির পানি পরিষ্কার রাখার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাহলে বাইরের এই সৌন্দর্য দিয়ে কী হবে। লেকটির আবর্জনা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। দ্রুত এটি পরিষ্কার করে আমাদের আতঙ্কমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলার বলেন, ‘লেকটির পানি ময়লাযুক্ত কি না তা জানা নেই। বাস্তবে তা হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সূত্র: কা:ক:

এসবি/জেআর