সন্ধ্যা ৬:১৮ মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯


রাবি শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয়দের সীমাহীন অত্যাচার

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : April 6, 2019 , 4:30 pm
ক্যাটাগরি : শিক্ষা,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীর আলম, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের স্থানগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয় জনগণ রীতিমতো অসহ্য অত্যাচার করে চলেছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিনোদপুর, আমজাদের মোড়, লেবু বাগান, মেহেরচন্ডী, কাজলাসহ বিভিন্ন স্থানের মেসে বা বাসা নিয়ে থাকা প্রায় শিক্ষার্থীই এরকম যন্ত্রণাময় তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসে বা বাসায় স্থানীয় যুবকেরা এসে মাদক সেবন করে, রুমে এসে আড্ডা দেয়, তাস খেলে, শিক্ষার্থীরা বাহিরে আড্ডা দিলে তাদের ধঁমকিয়ে ভিতরে পাঠিয়ে দেয়, খেলার আয়োজন করলে স্থানীয় যুবকেরা কর্তৃত্ব শুরু করে। তাছাড়া স্থানীয়দের বিরুদ্ধে ছিনতাই এবং চাঁদাবাঁজির অভিযোগও আছে অহরহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বেতার মাঠ দিয়ে আমজাদের মোড় পর্যন্ত যাতায়াত বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। লেবু বাগানের দিকে মাদকের তাগিদে দিন দুপুরে শিক্ষার্থীদের থেকে ফোন বা টাকা পয়সা কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ আছে স্থানীয় মাতাল যুবকদের বিরুদ্ধে। সেই সাথে দোকানদার, বাড়িওয়ালা বা মেসওয়ালাদের অভদ্র, বাঁজে আচরণের বিষয়েও অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। এসব ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও মেস মালিকরা তেমন কোনো প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এসব ব্যাপারে নিশ্চুপ। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন এলাকাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার আওতাধীন নয় তাই হয়তো প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

আমজাদের মোড়ে মেসে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী জানায়, স্থানীয় যুবকেরা মাঝে মাঝে রুমে বা মেসের চিপায় চাপায় এসে নেশা করে। আমরা বাহিরে সন্ধার পর আড্ডা দিলে তারা ধমক-ধামক দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দেয়। মেসের পাশে তাদের ক্রিকেট খেলার ফলে আমাদের পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় তারা আমাদের থেকে জোর করে টাকা ধার নিয়ে যায় কিন্তু ফেরত পাওয়া কষ্টকর। তার উপর আবার দোকানদার, মেস মালিকদের চরম বাঁজে ব্যবহারও মাথা নত করে সহ্য করে চলতে হয় এখানে। কিছু বলতে গেলে তারা তাদের ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে কোনো প্রকার প্রদক্ষেপ নেয় না। স্থানীয়দের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ফলে আমরা বিস্তর ভোগান্তিতে আছি ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘হবিবুর মাঠে আমাদের খেলা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বেশ কয়েকজন ছেলে এসে স্থানীয় পরিচয় দিয়ে আমাদেরকে দ্রুত মাঠ ছাড়ার হুকুম দেয়। এক পর্যায়ে বাক-বিতন্ডায় তারা তেড়ে আসতে শুরু করে এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করে। তারা বলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যখানে দু-চারটা মাঠ শিক্ষার্থীদের আর বাকিগুলো তাদের দখলেই থাকবে। আমরা প্রশাসনকে জানানোর চেষ্টা করলে তারা হুমকি দেওয়া শুরু করে। আমরা তখন নিশ্চুপ হয়ে যাই। কারণ আমাদের মাথায় আছে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও হয়তো তাদের কাছে নত হয়ে থাকে। আমার মনে হয় যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব ব্যাপারে দৃষ্টিপাত জরুরী’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন বলেন, ‘‘আমি কাজলার দিকে বাসা নিয়ে থাকি। হঠাৎ একদিন কয়েকজন যুবক আমার রুমে কিছুক্ষণ একটু আড্ডা দেওয়ার কথা বলে ভিতরে ঢুকে। আমি মানা করার সাহস পাই নি। কিন্তু ভিতরে ঢুকে তারা ইয়াবা সেবন করতে শুরু করে। তারপর বেশ কয়েকদিন এভাবে আসে তারা। আমি মালিক কে জানালে মালিক আমাকে বলে যে ‘তুমি দরজা খুলিও না। ওরা যদি জানে যে তুমি অভিযোগ করেছো তাহলে তোমার ক্ষতি করবে’। কিন্তু আমি দরজা না খুলেও পারি না। তারা রাতে এসে আমার রুমে তাস খেলতে বসে মাঝে মাঝে। এই অবস্থায় আমরা এখানে এক প্রকার মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে বসবাস করছি।

বিনোদপুরের মির্জাপুর রোডের পাশে মেসে অবস্থানরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী জানান, রাস্তায় বের হলে স্থানীয় যুবকরাসহ দোকানদার পর্যন্ত টিজ করার চেষ্টা করে, আমাদের ড্রেস নিয়ে বাঁজে মন্তব্য করে। বিভিন্ন সময় নোংরা শব্দের কটুক্তিও সহ্য করতে হয় আমাদেরকে। আমাদের কাছে মনে হয় যে হলে না উঠা পর্যন্ত এসব থেকে মুক্তি মিলবে না। কারণ এখানকার এসব কুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই।

এসবি/জেএ/জেআর