বিকাল ৪:২৬ মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯


রাজশাহীর ঐতিহ্য ফজলি আমের চাষ কমছে

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : কৃষি,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

এইচ এম শাহনেওয়াজ, পুঠিয়া : দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জনকারী ও আমের রাজধানী রাজশাহীর ঐতিহ্য ফজলি আমের বাগান ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, বর্তমানে চাষিরা বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির আমবাগান করছেন। সে গাছের তুলনায় ফজলি গাছ বাড়ন্ত ও অতিরিক্ত জমি দখল করে নেয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগাক্রান্তের পাশাপাশি ফজলি আমের ফলনও বিগত দিনের চেয়ে অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে আমচাষিরা পুরোনো ফজলি বাগান কেটে নতুন করে বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা রোপন করছেন। যার কারণে এই অঞ্চলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ফজলি আমের চাষ।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সর্বমোট ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টোর জমিতে আম বাগান রয়েছে। বৈরি আবহাওয়া কাটিয়ে এ বছর মোট ২৪ হাজার ৮৬৫ মে.টন আম উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্যে ফজলি আমবাগান রয়েছে ২ হাজার ২৬৬ হেক্টোর জমিতে। যা গত ১০ বছর আগেও ফজলি আম বাগান ছিল ৩ হাজার ১১০ হেক্টোর জমিতে।

চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মন্জুর রহমান বলেন, জেলার সবচেয়ে বেশী আম বাগান রয়েছে চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়া উপজেলায়। বর্তমানে স্থানীয় চাষিরা সঠিক পরিচর্যায় অল্প জমিতে বেশী উৎপাদনশীল বিভিন্ন উন্নত জাতের আমবাগান করছেন। এতে করে চাষিরা লাভের পরিমাণটা অনেক বেশী পাচ্ছেন। আর পুরোনো বাগানগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেকেই সে গুলো কেটে নতুন করে চারা রোপন করছেন।

বাঘা-আড়ানী এলাকার আমচাষি মোতালেব হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে ১০/১২ টি ফজলি আম গাছ লাগানো যায়। আর বেশীর ভাগ ফজলি গাছ এক বছর পরপর আম আসে। এতে যে ফলন আসে তাতে খরচ বাদ দিলে তেমন লাভ হয় না। অথচ বর্তমানে ওই জমিতেই বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির আম বাগান করলে প্রতিবছর আম আসবে দ্বিগুন।

অপর চাষী পুঠিয়া সদর এলাকার আউব আলী বলেন, গত কয়েক বছর থেকে ফজলি গাছে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন গাছের ডালপালা মরে যাচ্ছে অপরদিকে এর প্রভাব দেখা দিচ্ছে আমেও। দফায় দফায় বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক ব্যবহার করেও কোনো সুফল আসে না। যার কারণে ফজলি গাছগুলো কেটে সেখানে নতুন করে অন্য জাতের আমারে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জেলার সর্ববৃহৎ আমের বাজার পুঠিয়া-বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান বলেন, এই বাজারে ফজলি আমের আমদানী প্রতিবছর কমে যাচ্ছে। বিগত দিনে প্রায় মাসব্যাপি ফজলি আম ধুম কেনাবেচা হতো। আর এখন দুইসপ্তাহ পার হলেই তেমন একটা নজরে পড়ে না। আড়ৎগুলোতে আসা অধিকাংশ ফজলি আম রোগাক্রান্তের শিকার। যার কারণে চাষিরাও লাভবান কম হচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা ফল গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিমুদ্দীন বলেন, ফজলি আম রাজশাহীর ঐতিহ্য ও ইতিহাস। যার সুনাম দেশ-বিদেশে বিস্তীর্ণ হয়ে আছে। আমাদের অঞ্চলে বর্তমানে ফজলির পরিবর্তে চাষিরা ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, লকনা, আম্রপালি জাতের চারা বেশী রোপন করছেন। আবার অনেকই বারী জাতের চারাও লাগাচ্ছেন। আর ফজলি বাগানগুলোতে সঠিক পরিচর্যার অভাবে রোগ-বালাইয়ের প্রভাবের কারণে ফলন কিছুটা কম হতে পারে।

এসবি/এমই