সকাল ৮:১৪ মঙ্গলবার ২১ জানুয়ারি, ২০২০


রাজশাহীতে রিটার্ন দেননি এক লাখ ৭ হাজার ৪শত ৩৮ জন টিআইএনধারী

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ , ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

রাজশাহীতে মোট টিআইএনধারীরা দুই লাখ ৩০ হাজার ২ শত ৬৮ জন

নির্ধারিত সময়ে (গত ৩০ নভেম্বর ২০১৯) রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩০জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা আয়োজন ও উদ্যোগে রাজস্ব বাড়লেও নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন না রাজশাহী সার্কেলের টিআইএনধারীরা। ফলে আয়কর খাতে রাজস্ব বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে ফল পাচ্ছে না রাজশাহী কর অঞ্চল। চলতি বছরেও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) সংখ্যা বাড়াছে। তবে সময়সীমা শেষ হলেও ই-টিআইএনধারীর অর্ধেকের বেশি রিটার্ন দাখিল করেননি। যদিও আগের বছরের তুলনায় এবার কর আদায় বেড়েছে।

কর অঞ্চল রাজশাহীর দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহীতে বর্তমানে দুই লাখ ৩০ হাজার ২ শত ৬৮ জন টিআইএনধারীর রয়েছেন। সব ই-টিআইএনধারীরই প্রতি বছর তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এর মধ্যে যাদের করযোগ্য আয় আছে, কেবল তাদেরই আয়কর জমা দিতে হয়। গত ১ ডিসেম্বর ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এনবিআরের আয়কর বিভাগ প্রাথমিক হিসাবে দেখেছে, এ বছর রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩০জন। অর্থাৎ ই-টিআইএনধারীদের মধ্যে আয়কর বিবরণী জমা দেননি এক লাখ ৭হাজার ৪ শত ৩৮ জন।

এদিকে গত বছর জুন ২০১৮ পর্যন্ত মধ্যেই মোট ৭শত ৭৩ কোটি ৪৯ লখ টাকা আয়কর আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন টিন রেজিষ্ট্রেশন করছে ৪০ হাজার ৭শত ৮২জন। চলতি বছর জুন ২০১৯ পর্যন্ত মধ্যেই মোট ৭শত ২৯ কোটি ৩ লখ টাকা আয়কর প্রদান করছে। এছাড়াও নতুন টিন রেজিষ্ট্রেশন করছে ৫৮ হাজার ৭শত ৩৩জন। এবছর গত বছর থেকে চলতি বছরের আয়কর আদায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৫ দশদিক ৫৪ শতাংশ।

করদাতাদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে না পারায় পরে জমা দেবেন বলে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। ফলে এটি আদায় হলে এবার রিটার্ন দাখিলকারী বেড়েছে।

আয়কর বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, আগেও ম্যানুয়াল পদ্ধতির টিআইএনের ক্ষেত্রে অনেকেই বছর শেষে রিটার্ন জমা দিতেন না। ওইসব টিআইএন বিভিন্ন প্রয়োজনে নেওয়া হতো, কিংবা ভুয়া টিআইএন থাকত। ম্যানুয়াল পদ্ধতির হওয়ায় ওইসব ব্যক্তিকে শনাক্তও করা যেত না। টিআইএনধারীদের শনাক্ত করার কাজটি সহজ করতে অনলাইন ব্যবস্থায় টিআইএন বা ই-টিআইএন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে এনবিআর। এতে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করা হয়। ফলে এক ব্যক্তির একাধিক টিআইএন নেওয়া রোধ করার পাশাপাশি তাকে শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করেছিল এনবিআর। তবে বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে জমি নিবন্ধন, ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে বাধ্য হয়ে টিআইএন নিয়েছেন তারা রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। এসব কারণে টিআইএন ও রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে ব্যবধান রয়ে গেছে। তবে তিনি মনে করেন, চাইলে রিটার্ন না দেওয়া টিআইএনধারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল রাজশাহীর উপ কর কমিশনার আবু নসর মো. মাহবুবুজ্জামান বলেন, সবারই টিআইএনর জন্য আবেদন করতে পারে। তবে সেটির জন্য সাবাই কর দিবে এমনি নয়। সবার কর যোগ্য নহে। তবে এবিষয়ে আমাদের সাব টিআইএনধারীদের নোটিশ করা হচ্ছে। এগুলো তারা জবাব দেবে। পাশাপাশি আমাদের তদন্তও চালানো হবে। এছাড়াও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থদণ্ড রয়েছে বলে জানান এই কর কর্মকর্তা।

এসবি/এসএস/এআইআর