রাত ৯:৩৫ মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০


রাজশাহীতে বেড়েছে মাছের দাম, কমেছে পেঁয়াজের

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০ , ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : Uncategorized
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলে কিছুটা বেড়েছে মাছের দাম। আর কমেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মাছের ক্রেতারা। শুক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজারের কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

অবশ্য মাছের বাজারের তুলনায় বেশি ভিড় দেখা গেছে কাঁচাবাজারে। সবজির বাজারে মানুষ স্বস্তিতেই কেনাকাটা করেছেন। তবে মাছের বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সকালে বাজারে দেখা যায়, মাছের বাজার ঘুরে কেউ কিনেছেন আবার কেউ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে চিতল মাছ ৯০০ টাকা থাকলেও এখন ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাউস, চিংড়ি ও ভেটকি মাছ গত সপ্তাহের তুলনায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। বাউস মাছ গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা থাকলেও এখন দাম ৫০০ টাকা, চিংড়ি এখন ৬০০ টাকা, ভেটকি কেজি প্রতি ৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অপরদিকে বোয়াল, কাতল ও মৃগেল মাছ কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে। বোয়াল মাছ ৫৬০ টাকা, কাতল ২৫০ টাকা, মৃগেল ১৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে দাম কমেছে সিলভার কার্পের। গত সপ্তাহে দাম ১৮০ টাকা থাকলেও এখন ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এই মাছটি। এছাড়া শোল ৩৫০ থেকে ৪০০, রুই ২৮০ থেকে ৪৮০ এবং ইলিশ মাছ ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে স্থিতিশীল আছে সবজির বাজার। গত সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি দামের পার্থক্য হয়নি এ সপ্তাহে। তবে কোন কোন সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার কোন কোনটার দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তাছাড়া বেশিরভাগ সবজি আগের দামেই পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহের মতো সিম ও ফুলকপি ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ওলকপি ৩০ টাকা, মুলা ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পালং শাক, পুই শাক, সবুজ শাক ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দাম কমেছে পেঁয়াজের। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি হলেও এখন ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। আদা ১২০ টাকা ও রসুন ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এ সপ্তাহে কিছুটা দাম বেড়েছে বিভিন্ন মশলার। দেশি বুটডাল কেজিতে ৮০ টাকা হলেও এখন ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মসুর ডাল ১০০ টাকা থাকলেও এখন ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। মটর ডালেরও দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৬৫ টাকা পাওয়া গেলেও এখন ৮০ টাকায় ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে। তবে স্বিতিশীল আছে কলাই ডাল ও খেসারির ডালের দাম। গত সপ্তাহের মতো এখনো কলাই ডাল ১১০ টাকা কেজি ও খেসারি ডাল ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে চিনি ও সয়াবিন তেলের। গত সপ্তাহে চিনির দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা থাকলেও এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ থেকে ৭০ টাকায়। অপরদিকে সয়াবিন তেলের দাম গত সপ্তাহে ৯০ টাকা থাকলেও এখন ১০০ টাকা।

সকালে বাজার করতে এসেছিলেন আলুফা খাতুন। তিনি বলেন, সবজির দাম মোটামুটি কমই আছে। তবে মাছের দাম একটু বেশি। কমলে ভাল হতো। আরেক ক্রেতা শরিফুল আলম বলেন, আসলে বাজারের কখন যে কি হাল হয় বুঝতে পারি না। সকালে দেখি এক রকম দাম আবার বিকালে দেখি আরেক রকম। আমার কাছে মনে হয় এই সপ্তাহে দাম একটু কমেছে।

মাছ ব্যবসায়ী আনিস আলী বলেন, যে সকল মাছের আমদানি কম সেই সকল মাছের দাম বেড়েছে। তবে দাম খুব তাড়াতাড়িই কমে যাবে। সবজি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, এখন সব সবজির দামই কম। পেঁয়াজের দামও অনেক কমেছে। কয়েকদিন পরে আরো কমবে। এখন সব সবজির পর্যাপ্ত আমদানি আছে।

এসবি/এসএসকে/জেআর