রাত ১২:০১ বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯


মন্ত্রিসভাকে বিদায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ , ৯:২১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : জাতীয়,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আর বসবে না মন্ত্রিসভা। শেষ বৈঠকে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্য মন্ত্রীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন শেখ হাসিনা। বলেন, আবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেই বৈঠকে দেখা হবে তাদের সঙ্গে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে দশম সংসদের বৈঠক শেষ হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি না হলে এই সংসদ আর বসবে না।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে বলেন, ‘এই কেবিনেটের এটাই শেষ মিটিং। আগামীতে ইলেকশনে জনগণ যদি আমাদের আবার ক্ষমতায় আনে আবার নতুন কেবিনেট হবে। নতুন কেবিনেটে আমি থাকব না কে থাকবে সেটা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু এই কেবিনেট এখানেই শেষ।’ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটের সাত দিন পর শপথ নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা।

এরই মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থিতা জমা দেয়ার পর যাচাই বাছাই শেষে ঘোষিত হয়েছে বৈধ প্রার্থী। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরকে প্রচারের প্রস্তুতি নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘আর হয়ত এই মেয়াদে দেখা হবে না। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এই জন্যই কাজ করতে পেরেছি। সবাইকে এ জন্য ধন্যবাদ।’

মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে কবিতা পড়ে শোনান বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াসেফ ওসমান। কবিতার শিরোনাম ‘দেশের সীমানা ছাড়িয়ে’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার পর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে এক ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বিরোধী দল এবং আমরা মিলে দশের উন্নয়নে কাজ করব।’ আপনি সেই কথা রেখেছেন। পাঁচ বছর আপনার কেবিনেটে কাজ করেছি। আপনি কোনো ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করেননি।”

‘যখন যে সহযোগিতা চেয়েছি সেটা পেয়েছি। আপনার মতো একজন রাষ্ট্রনায়ক, সৎ এবং দক্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমার ভালো লেগেছে। আপনাকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

স্পষ্ট হলো না টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীর বিষয়
সংসদ সদস্য নন এমন চার মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, নুরুল ইসলাম, মোস্তফা জাব্বার এবং মতিউর রহমানের পদত্যাগপত্র কবে গ্রহণ করা হবে, সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। গত ৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দেন চারজন। কিন্তু এখনও তারা দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

পদত্যাগ করা চারজন মন্ত্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।’

মন্ত্রিসভার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তাদের পদত্যাগ গ্রহণের কোনো আলামত নেই। তারা হয়ত থেকেই যাচ্ছেন। আর সময়ও নেই। আছেই কয়দিন। বাদ দিয়েই বা কী হবে।’

এসবি/এআইআর