রাত ১১:০৩ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


বেশি লাভের আশায় আলুর মজুত করে বিপাকে ব্যবসায়ী ও চাষিরা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 16, 2019 , 4:12 pm
ক্যাটাগরি : কৃষি,রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বেশি লাভের আশায় নওগাঁর চাষি ও ব্যবসায়ীরা গুদামে আলু মজুত করে বিপাকে পড়েছেন। বাজারে অন্য সবজির দাম বেশি হলেও আলুর দাম তুলনামূলক কম। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

নওগাঁয় ধান চাষের পাশাপাশি কৃষকরা আলু চাষ করেন। ধানের দাম কম হওয়ায় লাভের আশায় এ বছর তারা আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন। মৌসুম শেষে দাম বাড়বে এ আশায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলু হিমাগারে মজুদ করেছিলেন। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তারা হতাশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন,ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। আর এভাবে আলুর দাম কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা।

হিমাগার রাখাসহ প্রতি কেজিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ পড়েছে সাড়ে ১৪ টাকা। বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০-১১ টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হচ্ছে সাড়ে ৩-৪ টাকা। বাজারে প্রতি বস্তা ডায়মন্ড আলুর দাম ৫০০ টাকা আর হিমাগারের ভাড়া প্রতি বস্তা ২৬০ টাকা। যার ফলে অনেকেই হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না।

বদলগাছী উপজেলার কোলা গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি প্রতি বছর ৮-১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করে থাকি। কিন্তু এবার আলুর কেজি ১০ থেকে সাড়ে ১২ টাকা হওয়াই প্রায় ২ লাখ টাকার লোকসান হবে।’

রাণীনগর উপজেলার কালিক গ্রামের কৃষক সবুজ হোসেন বলেন, ‘৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে আলুর আবাদ করেছি। বর্তমানে আলুর যে বাজার তাতে লাভ তো দূরের কথা খরচও উঠবে না।’

মহাদেবপুরের আলু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘হিমাগারে  ডায়মন্ড সাদা, কাটিনাল, অ্যারোস্টিকসহ কয়েক প্রকার আলু রাখছিলাম। হিমাগারসহ প্রতি কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে সাড়ে ১৪ টাকা। বর্তমান বাজারে এ আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০-১১ টাকা। প্রতি কেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে সাড়ে ৩-৪ টাকা। এত করে আমার প্রায় ৬ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।’

মান্দা উপজেলার তামান্না কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, ‘প্রতি বছর হিমাগারে আলু সংরক্ষণ শুরু হয় মার্চ মাসে এবং আর বের হয় নভেম্বরে। বর্তমানে আলুর বাজার দর কম থাকায় এখনও হিমাগারে প্রায় ৭০ ভাগ আলু মজুদ রয়েছে। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম একেবারেই কম। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে প্রায় ৫ কোটি টাকা অনাদায় থেকে যাবে। এতে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এসবি/জেআর