সন্ধ্যা ৬:৪৫ রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯


বিরোধ সত্ত্বেও অনুমতি পাচ্ছে ‘গোল্ডেন রাইস’ চাষ!

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ২৪, ২০১৯ , ১:৩৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : কৃষি,শিল্প ও বাণিজ্য
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : কৃষক সংগঠনের বিরোধিতা সত্বেও জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড (জিএম) পদ্ধতির ধান ‘গোল্ডেন রাইস’ চাষের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উদ্ভাবকদের দাবি, উন্নয়নশীল বিশ্বের শিশুদের অন্ধত্ব ও মৃত্যু ঠেকাতে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এই জাতের ধান।

গোল্ডেন রাইস চাষ উন্নয়নশীল বিশ্বে স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এটি জনপ্রিয় করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে সহযোগিতা করছে বিল অ্যান্ড মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশন।

বুধবার (২০ নভেম্বর) অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স কর্তৃক প্রকাশিত সায়েন্স ম্যাগ জার্নালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২০ বছর আগে প্রথম সংবাদ শিরোনাম হয় গোল্ডেন রাইস। দীর্ঘ সময় ধরে জিএম শস্যটি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক হয়েছে। এই ধানের সমর্থকদের দাবি, মানবতার সম্ভাব্য উপকারের উদাহরণ হতে পারে এটি। তবে সমালোচকদের যুক্তি হলো, উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বাস্থ্য উন্নয়নে এটি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ।

১৯৯০ দশকের শেষ দিকে ‘গোল্ডেন রাইস’র উন্নয়ন ঘটান জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী ইনগো পোটরিকাস ও পিটার বেয়ার। ভিটামিন-এ’র অভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেন তারা। ভিটামিন-এ শিশুদের অন্ধত্বের অন্যতম কারণ। এছাড়া এর স্বল্পতায় হামের মতো সংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। শাক, মিষ্টি আলু ও অন্যান্য সবজিতে যথেষ্ট পরিমাণে এই ভিটামিন থাকলেও বেশকিছু দেশে এখনও এর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশের প্রধান খাদ্য ভাত, সেসব দেশে এই ভিটামিনের ঘাটতি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশেরও ২১ শতাংশ শিশু ভিটামিন-এ’র অভাবে আক্রান্ত।

ফিলিপাইনের লস ব্যানোসের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) উদ্ভাবন করে গোল্ডেন রাইস। বর্তমানে তা বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। গবেষকরা ধান-২৯ নামে প্রচলিত একটি জাতে এর বেটা-ক্যারোটিন জিন সংযোজন করেছেন। বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে এই জাতের ধানের ব্যাপক চাষ হয়। জাতীয় ফলনের প্রায় ১৪ শতাংশ আসে ওই জাতটি থেকে। গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআরআরআই) গবেষকরা একাধিক স্থানে ধান-২৯ গোল্ডেন রাইসের পরীক্ষামূলক চাষ চালিয়েছে। এসব পরীক্ষায় এই ধান চাষে নতুন কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। এমনকি ভিটামিন-এ’র উপস্থিতি ছাড়া গুণগত মানেও বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে গোল্ডেন রাইস সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বিআরআরআই। মন্ত্রণালয়ের জৈব-নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি কোর কমিটি ফসলটির পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করছে। এই কমিটিতে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আটজন সদস্য রয়েছেন। এতে ফসলটি আগাছায় রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই পর্যালোচনা প্রায় শেষ।

তবে জৈবনিরাপত্তা সংক্রান্ত কোর কমিটির এক সদস্যের মৃত্যুর কারণে নির্দিষ্ট ওই তারিখ পার হয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কমিটির আলোচনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েক জন সদস্য গোল্ডেন রাইস নিয়ে এখনও সন্দেহপ্রবণ। মানুষ যখন আরও বেশি শাকসবজি খেতে পারে তখন এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান বলেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানির উদ্ভাবিত গোল্ডেন রাইসে অতিমাত্রায় সংক্রমণ ঘটে, যা আশেপাশের জমিতে ছড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এটি পানি, মাটি ও বায়ুর মাধ্যমে ক্রস পলিনেশন অথবা এক প্রজাতির পরাগ রেণু, আরেক প্রজাতির পরাগকে নিষিক্তকরণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস চালু হলে কৃষি ও কৃষকের চরম ক্ষতি হবে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে জিএম বেগুন চাষ করে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক কৃষক সেখানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সেখানে প্রায় ২৫ লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এ ধান বাংলাদেশে চাষ করা হলে কৃষকের নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে ব্যাহত হবে।’

 

এসবি/এমই