সকাল ৮:৩৯ শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯


বাউল সম্রাটের ১০তম প্রয়াণ দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ২:২৭ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : সাহিত্য ও সংস্কৃতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

‘ভব সাগরের নাইয়া

মিছে গৌরব করো রে পরের ধন লইয়া

একদিন তুমি যাইতে হবে এই সমস্থ থইয়া…’

আধ্যাত্মিক কথা সহজভাবে কণ্ঠে তুলেছেন তিনি। গান গেয়েছেন ভাটি অঞ্চলের পথে-ঘাটে। বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছেন। মানুষের হৃদয়ের বন্দি আকুতিগুলোকে প্রকাশের পথ দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাঙালির বুকে। তিনি পরম মমতায় নিগুঢ় সত্য উপস্থাপন করেছেন গানে, পরের ধন নিয়ে আমরা বাহাদুরি করি কিন্তু চিন্তা করি না শূণ্য হাতে যেতে হবে। তিনিও প্রস্থান করেছেন শূন্য হাতে। তবে তার কণ্ঠ এবং গানের মাধ্যমে এখনও বেঁচে আছেন, থাকবেন আগামীতেও। বাউল গান দিয়েই অসংখ্য ভক্তের মাঝে এখনও জীবন্ত রয়েছেন কিংবদন্তি শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিম ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে প্রস্থান করেন জীবনমঞ্চ থেকে। আজ এই বাউল সম্রাটের মৃত্যু দিন। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ইব্রাহিম আলী, মা নাইওর জান বিবি। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র ছেলে সন্তান। তিনি প্রায় দেড় হাজার গান লিখে গেছেন, যার অধিকাংশ দেশে-বিদেশে দারুণ জনপ্রিয়।

তিনি জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে ‘জীবন্ত কিংবদন্তী: বাউল শাহ আবদুল করিম’ নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৭টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সিলেট জেলা মিলনায়তনে তার রচনাসমগ্র (অমনিবাস)-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়াও সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত শাহ আব্দুল করিম স্মারকগ্রন্থ তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

 

এসবি/এমই