রাত ১:০১ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯


বনলতার উদ্বোধনীতে আমন্ত্রণ পাননি ১৪ দলের নেতারা!

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : April 25, 2019 , 8:57 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আর সামাজিক নানা সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে পাওয়া গেল ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটের বিরতিহীন একটি ট্রেন। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের এই ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো আজ বৃহস্পতিবার সকালে।

তবে উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে আমন্ত্রণ পাননি রাজশাহী ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। ট্রেনের দাবিতে আন্দোলন করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেও ডাকা হয়নি এ অনুষ্ঠানে। শুধু তাই নয়, এই ট্রেনের দাবি জানিয়ে নবম ও দশম সংসদে একাধিকবার বক্তব্য দেয়া রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকেও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দেয়া হয়নি।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েও বসার আসন পাননি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। রাজশাহী আওয়ামী লীগের এই দুই সাধারণ সম্পাদক তাই অনুষ্ঠানে থাকেননি। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র না দেয়া এবং স্থানীয় নেতাদের এমন ‘অবমূল্যায়ন’ নিয়ে আয়োজক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রাজশাহীতে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রান্তে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বেশ জমকালো আয়োজনে ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনীতে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে আসন না পেয়ে বিব্রত হন আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও ডাবলু সরকার। ক্ষোভে-অভিমানে কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান তারা।

অনুষ্ঠানে আসন না পেয়ে ক্ষুদ্ধ আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, রেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা আসনে ছিলেন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদেরও বসার জায়গা ছিল। কিন্তু জেলা ও নগর সাধারণ সম্পাদকের জন্য কোনো ব্যবস্থায় রাখা হয়নি। এটি অপমানজনক। এ কারণেই তারা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে গেছেন।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ১৪ দলের শরিকদল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর এক জরুরি সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বেলা ১২টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

পার্টি কার্যালয়ে মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি রাজশাহীবাসী ও ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানানো হয়। তবে ক্ষোভ জানানো হয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে।

সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহীর চলমান উন্নয়ন সকল জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কারণে তুরান্বিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি থাকায় রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হয়েছে। রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বিরতিহীন ট্রেন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বারংবার সংসদে দাবি উত্থাপন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চালু করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু এই ট্রেনের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রেল মন্ত্রাণলয়ের অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেনের উদ্বোধনের বিষয়টি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু অনুষ্ঠানটি সার্বজনিন না করে আয়োজক রেল মন্ত্রণালয় অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজশাহীর অনেক প্রগতিশীল ব্যাক্তিবর্গ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও ১৪ দলের অনেক রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনেক নেতৃবৃন্দ চেয়ার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। রেল মন্ত্রণালয়ের এই ধরণের বিভক্তির পদক্ষেপ অনাকাক্সিক্ষত। সভায় রেল মন্ত্রণালয়ে এই ধরণের সংকীর্ণ কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যাক্তিদের বিচারের দাবি করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট ফেরদৈাস জামিল টুটুল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এসবি/আরআর/এআইআর