দুপুর ১:১০ শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯


ফতুল্লার মতোই পরিণতি হবে মিরপুরে?

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : August 29, 2017 , 4:53 pm
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

এপ্রিল ২০০৬ থেকে আগস্ট ২০১৭। সময়ের হিসেবে প্রায় সাড়ে এগার বছর। প্রায় এক যুগ আগে ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ভড়কে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে ১৫৮ রানের বিশাল লিড পায় লাল সবুজের দল। শাহরিয়ার নাফীস, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুলের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ অজি-বধের স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ভরাডুবি, বোলার এবং ফিল্ডারদের ব্যর্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত হার মেনেই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টেও টাইগারদের একই পরিণতি চোখ রাঙাচ্ছে।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেট অলআউট হয় ২১৭ রান। ৪৩ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৬৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়। মঙ্গলবার তৃতীয় দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করে অজিরা।

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় লিড নেয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে ‘হেলায়’ সেই সুযোগ মিস করে টাইগাররা। বিশেষ করে দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় কোনো রান যোগ না করেই পরপরই মুশফিক, নাসির এবং সাব্বিরের বিদায় বাংলাদেশের বড় লিডের স্বপ্ন মিইয়ে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। দরকার আর ১৫৬ রান। ক্রিজে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার (৭১) ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (২৫)। ১১ বছর আগে ফতুল্লায় ওপেনার ম্যাথু হেইডেন ৭১ এবং অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১১৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন কেড়ে নেন। এবার হেইডেন এবং পন্টিংয়ের ভূমিকায় যেন অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন ওয়ার্নার ও স্মিথ।

সেবার প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ ইনিংসে ৩০৭ রান তাড়া করে বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ জয় পায়। এবার প্রথম ইনিংসে ২১৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া অজিদের লক্ষ্য ২৬৫ রান।

তবে বাংলাদেশ চাইলে পরিসংখ্যান থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতেই পারে। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সর্বশেষ চারটি টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে দলগুলোর সংগ্রহ ছিল ১৬৪, ২২১, ১৬৭ ও ১০১/৭।

মিরাজ এবং সাকিবদের স্পিন খেলতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে ওয়ার্নার-স্মিথদের। বুধবার যদি দিনের শুরুতেই এই দুজনকে সাজঘরে পাঠানো যায় তবে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে আসতে পারবে। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানদের ওপরই মানসিক চাপ তৈরি হবে। ঘরের মাঠে গত বছরের অক্টোবরে এক সেশনেই ইংল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নিয়ে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তেমন কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে টাইগাররা!