সন্ধ্যা ৭:০১ রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯


পোস্টমর্টেমকে কেন ‘ময়নাতদন্ত’ বলা হয়?

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ২৮, ২০১৯ , ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : সাতরঙ
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মৃত্যুর কারণ যদি হয় রহস্যে ঘেরা বা অজানা কিংবা অস্বাভাবিক হয়  তখন পুলিশ লাশের একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। আর এ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার প্রধান উপায়ই হচ্ছে চিকিৎসকের করা মৃত ব্যক্তির মরদেহের পোস্টমর্টেম করা। ‘Postmortem’ হলো ইংরেজি শব্দ। এর বাংলার পারিভাষিক অর্থ হল ‘ময়নাতদন্ত’। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসক বা পুলিশের ভরসা এই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।

কিন্তু একবারও কী কেউ ভেবে দেখেছেন পোস্টমর্টেমের বাংলা প্রতিশব্দ ‘ময়নাতদন্ত’ হল কেনো? আর পোস্টমর্টেমের সঙ্গে ময়নাপাখিরই বা কী মিল! চলুন এই প্রশ্নের একটু উত্তর জানার চেষ্টা করা যাক-

ময়না বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি সৌখিন পাখি। শখের বশে এখনও অনেক বাসা-বাড়িতে ময়নাপাখি পালতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে- ময়নাপাখি মানুষের মতই কথা বলতে পারে। ময়নাপাখি দেখতে কুচকুচে কালো এবং তার ঠোঁটের উপর-নিচ হলুদ। গায়ের রঙ কালো হওয়ার কারণে ময়না পাখিকে আলাদা করে অন্ধকারে দেখা যায় না। শুধুমাত্র ডাক শুনেই অন্ধকারে ময়নাপাখিকে চিহ্নিত করা সম্ভব। এখানেও আবার রয়েছে ধাঁধাঁ। ময়নাপাখি তিন থেকে ১৩ রকমের ডাক দিতে পারে, কেবলমাত্র অভিজ্ঞদের পক্ষেই তা ধরা সম্ভব।

একই রকম খুন বা আত্মহত্যার মতো অস্বাভাবিক ঘটনার ক্ষেত্রেও একেবারে অন্ধকারে থেকে শুরু করতে হয়। মরদেহ কাটা-ছেঁড়া করার মাধ্যমে পাওয়া যায় সামান্য সূত্র। আর সেই সামান্য কিছু সূত্র থেকেই পুরো ঘটনা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়।

সামান্য সূত্র থেকে আবিষ্কার মৃত্যুর কারণ, খুলে যায় বড় বড় রহস্যের জট, পাওয়া যায় আসল অপরাধীদের। ব্যক্তির মৃত্যুরহস্য বা জীবিত থাকাবস্থায় তার সাথে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধের ধরণ ও বিবরণ। তাই পোস্টমর্টেমের বাংলা নামকরণ করা হয়েছে- ‘ময়নাতদন্ত’।

 

এসবি/এমই