রাত ১০:২৪ সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯


পুঠিয়ায় হাটে খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : অক্টোবর ৭, ২০১৯ , ১:৩৬ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শিল্প ও বাণিজ্য
পোস্টটি শেয়ার করুন

পুঠিয়া প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ায় হাট-বাজারগুলোতে খাজনা আদায়ের নামে ইজারদার কর্তৃক জোরপূর্বক ভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবছর উপজেলার সর্ববৃহৎ বানেশ্বর ও ঝলমলিয়াহাট থেকে প্রায় দুই কোটি টাকাও অধিক রাজস্ব আদায় হচ্ছে। অথচ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা বছর শেষে হাট ইজারা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন।

সরকারী নিয়ম অনুসারে প্রতিটি পণ্যর নাম তালিকা ও খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করে হাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সাইনবোর্ড দেয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না ইজারদারগণ। যার ফলে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে খাজনা আদায়ের নামে জোরপূর্বক ভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলা সনের জন্য বানেশ্বর হাট-বাজার এক কোটি ১২ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য স্থানীয় ওসমান আলীর নিকট ইজারা দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ঝলমলিয়ারহাট ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ২শ’টাকায় পৌরসভার এক কাউন্সিলরের ভাইয়ের নিকট বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ওই কাউন্সিলরের ভাই মোটা অংকের অর্থের বিনিময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ইনসার আলী নামের এক ব্যাক্তির নিকট হাট ইজারা বিক্রি করে দেন।

উপজেলার হাট-বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গের প্রথম শ্রেণীর হাট গুলোর মধ্যে বানেশ্বর হাটের নাম আসে। এরপর পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ঝলমলিয়া হাটের নাম রয়েছে। সরকারী নিয়ম অনুসারে হাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের নাম ও খাজনার তালিকা উল্লেখসহ সাইনবোর্ড দেওয়ার নিদের্শনা থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় হাট ইজারাদারা তা ব্যবহার করছেন না।

বানেশ্বর হাটে আগত গরু-ছাগল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ তুলে বলেন, এই হাটে প্রতিটি গরু ক্রয় এবং বিক্রয়কারীর উভয়ের নিকট থেকে খাজনা নেয়া হচ্ছে। ক্রেতার নিকট থেকে প্রতিটি গরু প্রতি ৫শ’ টাকা আর বিক্রেতার নিকট থেকে একশ’টাকা হারে খাজনা আদায় করছে। ছাগল প্রতি ২০০ টাকা হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

অপরদিকে ঝলমলিয়া হাটে আগত সবজি ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে হাট ইজারদার প্রতিমণ কাঁচা মালামালের জন্য ৪০/৪৫ টাকা আদায় করছেন। আবার কাঁচামালের বাজার চড়া হলে খাজনার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। অথচ বিগত বছর গুলোতে প্রতিমন ২০/২৫ টাকা হারে খাজনা আদায় হতো।

হারুন নামের অপর এক মুরগী ক্রেতা বলেন, আদ্য়াকারীরা শতকরা ১০ টাকা হারে ক্রেতা-বিক্রেতা দু’জনের নিকট থেকে খাজনা নিচ্ছে। তারা খাজনার নামে রীতিমত জোরপূর্বক চাঁদাবাজী শুরু করেছে। যার কারণে বর্তমানে বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা উপজেলার শিবপুর, বিড়ালদহ মাজার ও বাজার এবং তারাপুর এলাকায় নিজস্ব আড়ৎ গড়ে তুলেছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হাটের একাধিক খাজনা আদায়কারীরা বলেন, প্রতিবছর ইজারাদার শুধুমাত্র হাট ইজারা নেন। এরপর তিনি হাটের বিভিন্ন অংশ আমাদের মত খাজনা আদায়কারীদের নিকট সাব-ইজারা দেন। আমরা ইজারদারের নিকট থেকে বেশী টাকা দিয়ে সাব-ইজারা নিতে হচ্ছে। যার কারণে আমাদেরকেও খাজনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে।

বানেশ্বর হাট ইজারদার ওসমান আলীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, হাট ইজারা দেয়ার প্রথম শর্তই থাকে পণ্যর নাম উল্লেখ করে খাজনার তালিকা বিভিন্ন স্থানে লাগানো। আর অতিরিক্ত খাজনা আদায় হচ্ছে এমন কোনো বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত হারে খাজনা আদায়ের বিষয়টি আমরা অচিরেই খতিয়ে দেখবো। তবে খাজনা আদায়ের নামে যদি নিয়ম বর্হিভূত কোনো কাজ হয় তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসবি/এসএন/এমই