সন্ধ্যা ৬:৩৭ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


পরিবেশ-কৃষি ও নদী ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোন শিল্প প্রতিষ্ঠা করা অপরাধ হবে: বাদশা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : August 15, 2019 , 2:34 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর,সাহেব-বাজার বিশেষ
পোস্টটি শেয়ার করুন

  1. টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে রাজনীতিক হিসেবে রয়েছে তার সুপরিচিতি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের প্রশ্নে ফজলে হোসেন বাদশা বরাবরই সোচ্চার। এবারের ঈদের ছুটিতে সাহেব-বাজারের মুখোমুখি হয়ে তিনি কথা বলেছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু নিয়ে। ধারাবাহিকভাবে আমরা তার সেই একান্ত সাক্ষাৎকার প্রকাশ শুরু করছি। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব।

সাহেব-বাজার : আপনার কথায় একটি বিষয় উঠে আসছিলো, কৃষিকে যদি এই অঞ্চলের মূল জায়গা হিসেবে ধরি এখানকার কৃষির ফসল আমরা সারাদেশে সরবরাহ করছি। এই জায়গাতে আপনি গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে সংসদ সদস্য ও জাতীয় পর্যায়ের একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই জায়গা থেকে সবথেকে কষ্টের বিষয় হচ্ছে এখানকার মানুষের ফসলের দাম না পাওয়ার বিষয়। উত্তরাঞ্চল থেকে গিয়ে রাজধানীতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সুযোগ নিয়ে আপনারা বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন কিন্তু বাস্তবে কোন কিছু সম্ভব হচ্ছে কী? সম্ভব না হলে এর পেছনে বাধা কী?

ফজলে হোসেন বাদশা : সবথেকে বড় বাধা হলো আমাদের অঞ্চলের কৃষকরা বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। বাংলাদেশের কৃষকদের ক্ষেত্রে যা হয় সেটি হলো ফসল তোলার পর তাদের কিছু পরিমাণ ফসল সেসময়ই বিক্রি করা জরুরী হয়ে পরে। তাদের যে উৎপাদন খরচ হয় সেটি তুলে নেওয়ার জন্য। কারণ সেটিই তাদের বেঁচে থাকার শর্ত হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দেখা যায় ফসল কাটার পরই কৃষি পণ্যের দাম কমতে থাকে। তাই এখানে সরকারকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের উচিত হবে ফসল কাটার সময় থেকে তারা যেন কৃষকের কাছে সরাসরি ফসল ক্রয় করতে পারে। সরকারের দায়িত্ব হলো প্রাথমিকভাবে একটি মূল্য কৃষকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া। কৃষকদের যদি ‘কৃষি কার্ড’ থাকে এবং সেই ‘কৃষি কার্ড’ অনুসারে তাদের ব্যাংকে পৌঁছে দিলে অন্ততপক্ষে কৃষকরা তাদের কৃষিতে টিকে থাকার একটি সুযোগ পাবে। এটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি উপজেলায় কীভাবে ফসল সংরক্ষণ করা যায় ব্যবস্থা করাটাও জরুরী। পৃথিবীর অনেক দেশে কৃষকের কাছে তাদের উৎপাদিত ফসল সরকার নিয়ে নেয়। কৃষক যতটুকু ফসল বিক্রি করতে চায় ততটুকু বিক্রি করে এবং তার মূল্য সরকার ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিশোধ করে। যে ক্ষেত্রে কোন দুর্নীতি ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের কোন সুযোগ থাকে না। আমাদের দেশেও এইটা নিশ্চয়ই হবে একদিন, এটি হওয়া এখন জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের কৃষক বাম্পার ফসল ফলিয়ে প্রমাণ করে দিয়ে দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারছে।

আরেকটি বিষয় আমি রাজশাহীর জন্য সতর্ক করতে চাই, বাংলাদেশের জন্যও যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বিষয় সেটি হলো কৃষি বিপন্ন হয় এমন কোন কাজ করতে যাওয়া উচিত হবে না। আজকে কৃষকের উর্বর কৃষি জমি তাদের কাছ থেকে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যত্রতত্র শিল্পায়ন করা হচ্ছে। সেটি শিল্পায়ন হলেও লাভজনক হবে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু কৃষি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে আমরা মৌলিক জায়গায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। ফলে এইখানে আমাদের ভারসাম্যের প্রয়োজন আছে। শিল্পায়নের প্রয়োজনও রয়েছে আবার কৃষিকে রক্ষা করারও প্রয়োজন। আমি মনে করি এই বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। কোন ধরনের শিল্প আমাদের অঞ্চলের জন্য পরিবেশবান্ধব তা আমাদের বিবেচনা করতে হবে। এমন কোন শিল্প রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত করা ঠিক হবে না যা পরিবেশকে বিপন্ন করে। আমাদের নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আমাদের জলাভূমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোন শিল্প এইখানে প্রতিষ্ঠিত করা অপরাধ হবে।

সাহেব-বাজার : রাজশাহীতে চামড়া শিল্প নিয়ে একটি আলোচনা আসছে। সেটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

ফজলে হোসেন বাদশা : দেখুন, চামড়া শিল্পের জন্য উত্তরবঙ্গ যথাযথ জায়গা বলে আমি মনে করি না। চামড়া শিল্প নিশ্চয়ই আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু যে অঞ্চল কৃষিপ্রধান সেখানে এইটা করলে পরিবেশের কী ধরণের ক্ষতি হতে পারে তার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঢাকার ট্যানারি শিল্প। সেখানকার কথা বিবেচনা করলে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষার মতো দুটি নদী ধ্বংস হয়ে গেছে। এবং এই শিল্পকে কিন্তু সাভারে নিয়ে গিয়েও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়নি। তাহলে যেটা ঢাকা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে, সাভারেও যেটা করা যাচ্ছে না সেটা রাজশাহীতে নিয়ে আসার কোন যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আমাদের পদ্মা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, আমাদের জলাভূমি যদি ধ্বংস হয়ে যা, আমাদের মৎস্য শিল্প যেটা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেসব আমরা অর্জন করেছি সেই অর্জনগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেটি আমাদের ভেবে দেখতে হবে।

আমাদের উত্তরাঞ্চলের জন্য দুই ধরনের শিল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো কৃষি নির্ভর শিল্প অপরটি শ্রমঘন শিল্প। শ্রমঘন শিল্প বলতে গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রিজ। এই দু’টি শিল্প আমাদের অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর রেশম শিল্প সম্পর্কে আমি বলেছি। সুতরাং উত্তরাঞ্চলের মানুষদের এই তিন ধরনের শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে হবে। তাহলে কর্মসংস্থান হবে। আরেকটি শিল্পের দিকে খুব ভালো মতো আমরা এগোতে পারি যেটা উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি স্বর্ণযুগ এনে দেবে। সেটি হলো আইটি ইন্ড্রাস্ট্রিজ। আমাদের আইটি ভিলেজ হচ্ছে। আমাদের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তারা আইটি ইন্ড্রাস্টিজের সাথে যুক্ত হলে উত্তরবঙ্গকে উন্নত বিশ্বের যুক্ত করতে পারবে কিংবা সম্ভব হবে।

আমার মতে এইভাবে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের কথা আমরা ভাবতে পারি। সমস্ত উন্নয়নের মূল হলো আমাদের কানিক্টিভিটি আছে কী না? সেটি আমাদের রাজধানীর সঙ্গে, বন্দরের সঙ্গে। আমার কাছে জরুরী বিষয় হলো একটি বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সমস্যার সমাধান হবে না। যানজটের কবলে কিন্তু আমাদের মানুষ খুবই বিপর্যস্ত। আমি মনে করি সেজন্য বাহাদুরাবাদ ঘাটে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু সেতু করা যেতে পারে আর বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আরেকটি রেল সেতুর প্রস্তাব বারবার আমি রেখেছি। গত তিন বাজেটেও আমি এটি উত্থাপন করেছিলাম। গতবারেই ছয় হাজার কোটি টাকায় একটি পৃথক রেল সেতু করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিলো কিন্তু রেল মন্ত্রণালয় সেটি খরচ করেনি। রেলমন্ত্রী বলেছেন, এইবারেই পৃথক রেলসেতুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যদি সেটি হয় তবে আমাদের কৃষি বাজার পাবে, আমাদের মৎস্য বাজারও পাবে। আমাদের আম, লিচু তারাও বাজার পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষ লাভবান হবে। অনুরূপভাবে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের প্রডাক্ট সমুদ্রবন্দরে পৌঁছাতে পারবে এবং একই সঙ্গে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবে। আর রাজশাহী বিমানবন্দরকে যদি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর করা যায় তবে তো আর কোন কথাই নাই। আমাদের মনে হয় সব মিলিয়ে সেটি রাজশাহীর জন্য ভালো হবে। তাই এর বাইরে অবাস্তব ও ক্ষতিকর কোন কিছু কথা বলা ঠিক হবে না। আমরা মনে করি আমাদের রাজশাহীর উন্নয়নে কোন মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্ত আমরা মানবো না। কারণ রাজশাহীর উন্নয়ন রাজশাহীর মানুষ ভালো বোঝে। রাজশাহীর মানুষের এই বিষয়ে কথা বলার অধিকার আছে। দেশে যদি গণতন্ত্র থাকে তবে, রাজশাহীর মানুষের জন্য কী ধরনের শিল্প হবে সেটি রাজশাহীর মানুষই সিন্ধান্ত নেবে। যে শিল্প ঢাকা থেকে পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে সেটি রাজশাহীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে যে আমরা তা নিয়ে নেবো তা হতে পারে না। তাই আমি সবাইকে ভালোভাবে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানাবো। আমি মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, রাজশাহী একটি উর্বর এলাকা। এটিকে রক্ষা করাটা আপনাদেরও দায়িত্ব। রাজশাহীর সাথে দেশের খাদ্য সমস্যা সমাধানের একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির দিক থেকেও কিন্তু রাজশাহী বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত হয়ে উঠছে। অতএব উন্নয়ন প্রশ্নে রাজশাহী একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে। আমাদের বিপদগামী হওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। পরিশেষে আমি আবারও সতর্ক করে দিতে চাই যারা চামড়া শিল্পকে সবুজ কৃষিতে নিয়ে আসবেন, সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলে নিয়ে আসবেন তারা আমাদের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

সাহেব-বাজার : এই দাবিগুলো তো আপনি যখন সংসদ সদস্য ছিলেন না তখন থেকেই করে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেসব বাস্তবায়ন হচ্ছে না তার কারণ কী? যেমন রেললাইন এর উন্নয়ন হচ্ছে না। চট্টগ্রামের সাথে সরাসরি রেল সংযোগ এই বিষয়গুলো আপনি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন। এইসব আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও বটে। কিন্তু এইসব সম্ভব হয় না কেন?

ফজলে হোসেন বাদশা : আপনি খেয়াল করে দেখবেন আমি যখন সংসদে ছিলাম না রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে যখন শুধু আন্দোলন করতাম তখন যা বলেছি এবং এখন যা বলছি তার মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। আমি যতটুকু বুঝি যে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা মিক্স গ্রেট রাখবেন না। আমি প্রথমে যে দাবি করেছিলাম যে চট্টগ্রামের সাথে কানেক্টিভিটি তৈরি করা সেটা তারা এখন করছেন না যেহেতু তারা মিটার গেজ রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে আমরা চাই বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে একটি রেল সেতু চালু করা হোক। রেল সেতু হলে আপাতত আমাদের বিমানবন্দর যদি নাও হয় তবে আমরা ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবো, চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবো, মংলাবন্দরেও পৌঁছাতে পারবো। এক্ষেত্রে আমাদের রাজশাহীর কানেক্টিভিটি অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি কথায় খুবই দায়িত্ব সহকারে বলেন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি যেন আমাদের দেশের সকল সফলতা অর্জনকে বিনষ্ট করে না দেয়। অতএব সে বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে দুর্নীতি যেন আমাদের সব বিষয়কে খেয়ে না ফেলে। আজকে মনে রাখবেন আমাদের দেশের টাকা পাচার হয়ে বাইরে চলে যায় কিন্তু গরিব মানুষের সন্তানেরা যারা বিদেশে কাজ করে তাদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়। আমরা যে অর্থনৈতিক শক্তির কথা বলি এখানে ধনী মানুষের অবদান কম, এখানে দরিদ্র মানুষের টাকার সংখ্যায় অনেক বেশি। অতএব এমন অর্থনীতি আমাদের অনুসরণ করা উচিত নয় যেটা মুক্তিযুদ্ধে আমরা ভাবিনি। আমাদের সংবিধানে যেটি নেই সমাজে এমন একটি অর্থনীতি আমাদের অনুসরণ করতে হবে যাতে সমাজের মাঝে বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়। আজকে দেশের সম্পদ যদি মাত্র ৫% মানুষের হাতে চলে যায় তাহলে এটি একটি বৈষম্যমূলক সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্ম দেবে। যেটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে দেবে।

সাহেব-বাজার : কিছুদিন পূর্বে চারঘাটে একটি তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। পরবর্তীতে খবরে সেটি এসেছে যে লাইনের অবস্থা ভালো ছিল না, লাইনের অনেক দূর্বলতা ছিল। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্বলতাও ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, এই লাইনটি আরও উন্নত ও জোরালো করার বিষয়ে আপনার পক্ষ থেকে কোন দাবি আছে কিনা? আরেকটি বিষয় বর্তমানে ঢাকা-রাজশাহী রুটে যে চারটি ট্রেন চলছে কিন্তু একটি তথ্য আমরা জানি এখানে যে গতি থাকার কথা ট্রেনের সেই গতি তা নেই। এ বিষয়ে আপনাদের দাবির বিষয়টি কতটুকু এবং আসলেই বাস্তবের কোন সম্ভাবনা আছে কী?

ফজলে হোসেন বাদশা : এটি অত্যন্ত সহজ বিষয়। আমাদের রেল মন্ত্রণালয় এটি বোঝে। আমাদের রেলকে যদি গতিশীল করতে হয় তবে সিঙ্গেল লাইন রেল তার গতি অর্জন করবে না। আরেকটি বিষয় হল পৃথক রেলসেতু না করলে ট্রেনের গতিশীলতা ফিরে আসবে না। এর আগে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তারা অনেক রেললাইন বাংলাদেশে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি বলতে চাই, আজকে শুধু সড়ক নয়, আন্তঃজেলা রেল কানেক্টিভিটি থাকতে হবে। আন্তঃজেলা রেল ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং আন্তঃজেলা রেলযোগাযোগ যদি আমরা প্রতিষ্ঠা করি তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের গতিশীলতা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আমরা রেলকে কখনোই গুরুত্ব দেইনি। এই কারণেই কিন্তু আজকে রেলের এই দুরাবস্থা। এই জন্যই রেল লাইন ভেঙ্গে যাচ্ছে, বাঁশ দিয়ে লাইন ঠিক করে চালাতে হচ্ছে। আমি মনে করি গণপরিবহন বলতে রেলপথকেই বোঝায় এবং তা অবশ্যই সুন্দর ও ভালোভাবে সচল করতে হবে। আপনি ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখেন, গোটা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখেন, প্রত্যেকেই কিন্তু রেলের ওপরে নির্ভরশীল।

এসবি/এমই/ইটি