সকাল ৬:৩৩ বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯


পদ্মার পানিতে বিলীন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 1, 2019 , 8:39 pm
ক্যাটাগরি : জনদুর্ভোগ,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবদক : দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামান্না (৭)। স্বপ্ন ছিলো পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার। তার স্বপ্ন বিলীন হচ্ছে সর্বনাসী পদ্মার ভাঙনে। চর খিদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সে শিক্ষার্থী ছিলো। সাথে পদ্মার পানিতে ভেসে গেছে তাদের বাড়ি।

ছোট্ট শিশুটির চোখ-মুখে হতাশার ছাপ। সে আতঙ্ক আর হতাশা নিয়ে বলছিলো, আমি কি আবারও স্কুলে যেতে পারব? আমার যে পড়ার সব বই ভেসে গেছে ? স্যাররা কি আবারও আমাকে বই দিবে? আমি কি স্কুলে যেতে পারবো?

সোমবার সরেজমিনে নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ান ইউনিয়নের চর সাতবাড়িয়ার গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে বাড়িঘর বইখাতা হারিয়ে স্কুলে যাওয়া নিয়ে হতাশা কাটছেনা তামান্নার মতো অনেক শিক্ষার্থীর। তামান্না চর খানপুর (মধ্যচর) এলাকার দিনমজুর মনিরুল ইসলাম ও রেখার মেয়ে। পরিবারটি বন্যায় সব হারিয়ে নিঃস্ব।

তামান্নার মা রেখা (২৫) বলেন, ১৫ দিন আগে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। দুই মেয়েকে নিয়ে এই এলাকার আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। কবে আবার ফিরে যাবো জানি না।

চর খিদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৬০। শিক্ষক ৪ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

চর খানপুর থেকে চর সাতবাড়িয়ায় আসা আসাবউদ্দিন (৫০)। তিনি জানান, চর খানপুরে প্রায় ২০০ পরিবারের বাস ছিলো। সেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে পানিতে তলিয়ে যায় তাদের চর। তারপর তারা আশ্রয় নেন আত্মীয়দের বাসায়। চর খানপুরে তার নিজস্ব জমি ছিলো। জমিতে আমন ধান, কালাই শীতের সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু সাথে নিয়ে বাঁধ এলাকায় অবস্থান করছেন তিনি।

উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে পানি বাড়ার সাথে সাথে তলিয়ে যায় চরাঞ্চলের বাড়িঘর। গাছপালা, বাঁশঝাড় এবং কয়েকশ’ হেক্টর জমি নদে চলে গেছে। শতাধিক পরিবার বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি। নদে বিলীন হয়েছে পাকাসড়ক, গাছপালা, বাঁশঝাড়সহ কয়েকশ’ হেক্টর জমি। শত শত মানুষ এখন গৃহহারা হয়ে পড়েছেন।

হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বাচ্চু জানান, চর খানপুরে যাদের বাসা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে তারা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় উঠেছে। তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গত রোববার রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন ২০৫ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা, ১ কেজি চিড়া, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি লবন বিতরণ করেছেন। আগামীতে আবারও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, চর খিদির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও পাঠাদান শুরু হবে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। চরাঞ্চলে এলার্ট করা হয়েছে।

 

এসবি/এমই