সকাল ৮:৪৪ বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯


নাটোরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড়

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : August 24, 2018 , 4:29 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

নাজমুল হাসান, নাটোর : নাটোরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের ভীড় শুরু হয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনের একঘেঁয়েমি কাটিয়ে আলাদা একটু আমেজে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সকলেই। নাটোর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলাগুলো থেকেও ছুটে আসছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে অতীত সমৃদ্ধ স্মৃতির সান্নিধ্যে ছুটি কাটাতে পেরে আনন্দিত তারা। নাটোর শহরের মাঝে রয়েছে দু’টি দর্শনীয় স্থান। একটি রাণী ভবানীর ঐতিহাসিক রাজ প্রাসাদ, অপরটি হচ্ছে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি যা উত্তরা গনভবন নামেই পরিচিত। প্রতি বছর ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। নাটোর রাজবাড়ির স্থাপত্য শৈলী আর উত্তরা গনভবনের অপার সৌন্দর্য্য বিভিন্ন ধরণের ভাস্কর্য, সাজানো গোছানো বাগান, কুমার প্যালেস, রাণী মহল সব কিছু আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের। এছাড়াও এবছর যোগ হয়েছে চিড়িয়াখানা। এসব সৌন্দর্য্য দেখে উচ্ছাস প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা। ঈদের ছুটির আনন্দে এখানে বেড়াতে পেরেই খুশি তারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে অতীত সমৃদ্ধ স্মৃতি আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটি কাটাতে পেরে আনন্দিত তারা। সুন্দর আবহাওয়ার কারনেই দর্শনার্থী বেশী হচ্ছে বলে দাবি সকলের। মনোরম পরিবেশ দেখে মুগ্ধ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা গৃহবধু তানিয়া আহমেদ ও পাপ্পু আহমেদ বলেন, তারা বছরের অন্যান্য সময় রাজধানীতে যান্ত্রিকভাবে চলাফেরা করে। শুধু মাত্র ঈদের ছুটিতে হাজারো কষ্ঠ করে পরিবারের সকলের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাটোর আসেন। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর একটু শান্তির জন্য তারা উত্তরা গণভবনে এসেছেন। বিকেল থেকে গণভবনের বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে বেড়িয়েছেন তারা। তবুও মনে হচ্ছে কিছুই দেখা হয়নি। আজ সন্ধ্যা হয়েছে নির্দিষ্ট সময় শেষ সে কারণে তাদের বেড়ানো সব হয়নি দেখা হয়নি সব কিছু। তাই তারা আগামীকাল সকাল সকাল পুনরায় গণভবনে আসবেন বেড়াতে।

কুষ্টিয়া থেকে গণভবনে বেড়াতে আসা শিল্পী খাতুন জানান, তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার এসেছেন। প্রতিবছরই কেন যেন ঈদের ছুটিতে তাদের এই গণভবন আর বঙ্গজল রাজবাড়িতে আসতে ইচ্ছে হয়। এবার তারা এসেছে এসে খুব মজা করেছে। কারণ এবার গণভবনে কয়েকটি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এবার গণভবনের আনন্দে নতুন যোগ হয়েছে চিড়িয়াখানা, পাখিদের অভয়াশ্রম, সংগ্রহশালাসহ আরো অনেক কিছু। তার ছোট ছেলে মেয়ে চিড়িয়াখানা দেখতে পেয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছে।

গণভবনের কর্মচারী নয়ন সরকার বলেন, বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর কয়েক দিন অত্যান্ত ভীড় হয় দর্শনার্থীদের। দর্শনার্থীদের ভীড়ে হিমশীম খেতে হচ্ছে তাদের। তারপরও সকলের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ ও আনছার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও গণভবনের ভিতরে পুরো এলাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বঙ্গজল রাজবাড়িতে বেড়াতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা বাবলু ইসলাম জানান, তিনি ছুটি পেলেই দর্শনীয় স্থানগুলোতে বেড়াতে যান। এর আগেও বেশ কয়েকবার তিনি রাজবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। প্রতিবারই তার কাছে নতুন মনে হয়। রাজবাড়ির স্থাপত্য শৈলী, অপার সৌন্দর্য্য ছায়াঘেরা প্রকৃতি, ছোট তরফ, বড় তরফের প্রাসাদ সব কিছুই তাকে আকৃষ্ট করে ।

এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, এই উত্তরা গণভবন দেশের একটি সম্পদ। এটাকে দেখে শুনে রাখা শুধু সরকারের নয়। সাধারণ মানুষ যেমন এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে তেমনি তার এর দেখাশুনা করবে। এর আগে তেমন কেই জানতো না উত্তরা গণভবনে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লাগানো হৈমন্তী ফুলের গাছ রয়েছে। তিনি সেই গাছের ইতিহাস খুঁজে বের করে সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। সেই সাথে তিনি সকলের জন্য একটি সংগ্রহশালা তৈরী করেছেন দর্শনার্থীদের জন্য। শিশুদের জন্য একটি চিড়িয়াখানাও করেছেন। গণভবন এখন পরিপূর্ণ একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে সকলের কাছে। গত বছর থেকে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শনার্থী বেশী হওয়ায় এখন এখান থেকে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে যাতে আরো কিছু এখানে তৈরী করা যায় এবং ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য উন্নত কিছু করা যায় সেদিকে খেয়াল করে কাজ করছেন সেই সাথে বঙ্গজল রাজবাড়ির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এসবি/এনএইচ/এআইআর