রাত ১০:২২ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯


নওগাঁয় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : November 8, 2019 , 5:55 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : নওগাঁর মান্দার প্রসাদপুরে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দলিল লেখক হামিদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মূল জমিদাতাকে বাদ দিয়ে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে গত ১৯ জুন দানপত্র হিসেবে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। প্রকৃত জমিদাতা কছিম উদ্দিন হওয়ার কথা থাকলেও অন্য এক ব্যক্তিকে দাতা সাজানো হয়। জমি রেজিস্ট্রির পর ওই ভুয়া ব্যক্তির ছবি দলিল থেকে সরিয়ে প্রকৃত দাতা কছিম উদ্দিনের ছবি লাগানো হয়। জমিদাতা কছিম উদ্দিন গত ৬ জুন মারা গেছেন। তার বাড়ি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মদকচক গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্য সনদে ২৬ জুন তাকে মৃত দেখানো হয়। কছিম উদ্দিন আগে মারা গেলেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে পরে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর তাকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত সনদ নেওয়া হয়।

মৃত কছিম উদ্দিনের চার ছেলে সাইফুদ্দিন, শরিফুল, আশরাফুল ও আলমগীর তাদের চার বোনকে বঞ্চিত করতে মৃত বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মন ও দলিল লেখক হামিদুর রহমানের যোগসাজসে জমি রেজিস্ট্রি করেন। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ওই নকল জমিদাতার ছবি সরিয়ে আসল দাতার (কছিম উদ্দিন) ছবি দলিলে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখককে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

গ্রহীতাদের একজন আশরাফুল বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগে সব কাগজপত্র ঠিক করা ছিল। হঠাৎ করেই বাবা মারা যান। মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর দলিল লেখকের মাধ্যমে চার একর ৩৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।’

দলিল লেখক হামিদুর রহমান বলেন, ‘কাগজপত্র দেখেই জমির দলিল করে দিয়েছি। যে ব্যক্তি মারা গেছেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার সনদপত্র আমার কাছে আছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। গত ১৫ দিন আগে সাময়িকভাবে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে।’

মান্দা প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, ‘দলিল লেখক হামিদুর রহমান বেশকিছুদিন থেকে অফিসে আসছে না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পেয়েছি যে, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে কোনও পক্ষই আমার কাছে অভিযোগ করেনি।’

মান্দা প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসবি/জেআর