রাত ১০:৪৪ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


দেশি মাল্টা চাষে নতুন মাত্রা যোগ করছে রাজশাহীর কৃষক

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 30, 2019 , 6:25 pm
ক্যাটাগরি : কৃষি,রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : রাজশাহীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশি জাতের মাল্টা চাষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিত্যক্ত ও উঁচু জায়গায় মাল্টা বারি-১ চাষ করে সফলতা পেতে শুরু করেছেন জেলার কৃষকরা। সবুজ রঙের এই মাল্টা স্থানীয় বাজারসহ বিক্রি হচ্ছে ঢাকায়। কৃষকরা আশা করছেন, দেশি মাল্টা চাষ যেভাবে বাড়ছে, ভবিষ্যতে বিদেশি জাতের মাল্টার ওপর আর নির্ভরশীল হতে হবে না।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে জেলায় প্রথম ২৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলায়। সেখানে সাত হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হলেও প্রথম বছরে কোনও ফলন পায়নি চাষিরা। এরপর ২০১৮-১৯ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১২৮ দশমিক ৮০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়। এরমধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হয়েছে ১ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন ।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের চাষি সুমন ফেসবুক ও পত্রিকায় দেশে মাল্টা চাষের সম্ভাবনা দেখে নিজের দুই বিঘা উঁচু জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেছিলেন। এবার তিনি ৮০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন।

সুমন জানান, ধানের দাম তেমন না পাওয়ায় তাদের পরিবারের পাঁচ জন আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আরও ৩০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করেছে। একবার মাল্টা বাগান করলে ২০ বছর পর্যন্ত টানা ফল পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে পাইকাররা ক্ষেতে এসে নগদ টাকায় মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

মাল্টা চাষের দিক দিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা বেশ এগিয়ে। গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘গোদাগাড়ী উপজেলার মাটি লালচে। সেই সঙ্গে উঁচু-নিচু মাটি। এসব কারণে ক্ষেতের আকার অনুযায়ী সব ফসল হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত পরিত্যক্ত পড়ে থাকে। বিশেষ করে উপজেলার পাকড়ি, রিশিকুল, মোহনপুর, গ্রোগ্রাম, মাটিকাটা, দেওপাড়া ও গোদাগাড়ী ইউনিয়নে মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলের চাষিরা মাল্টা বারি-১ চাষ করে সফলতা পেতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর চাষ দিন দিন বেড়েই চলেছে।’

গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর এলাকার মাল্টা চাষি সুরুজ্জামান জানান, শখের বসে দেড় বিঘা জমিতে প্রাথমিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি। দেড় বিঘা জমিতে ১০ ফিট দূরত্ব বজায় রেখে ২১৭টি মাল্টা গাছ লাগান তিনি। লেবার খরচ, বাগানে বেড়া দেওয়া ও বছরে ৩-৪ বার সার দেওয়াসহ মোট ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। গাছ লাগানোর প্রথম বছরেই ফল আসতে শুরু করে। তবে প্রথম বছর ফল সংগ্রহ করেননি তিনি। দ্বিতীয় বছর প্রচুর পরিমাণে ফল আসে। চলতি বছরের আগস্টের শেষের দিকে রাজশাহী শহরের এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিকে বাগানটি বিক্রি করেছেন তিনি।

এবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে রাজশাহীর বাজারে বিদেশি ফলের পাশাপাশি দেশি প্রজাতির সবুজ মাল্টাও বিক্রি হয়েছে। বিদেশি মাল্টার চেয়ে স্বাদে ও গুনে ভালো, দামও অনেকটা কম হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। খেতে হালকা মিষ্টি হওয়ায় কিনছে ক্রেতারা।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজরে দেশি জাতের মাল্টা কিনতে এসেছেন সাদিয়া ইয়াসমিন নামে এক ক্রেতা। তিনি জানান, এই মাল্টা বাজারের অন্য মাল্টার চেয়ে ভালো। দেখতে কাঁচা হলেও এর স্বাদ মিষ্টি। তবে অনেক মাল্টা অপরিপক্ক না হওয়ায় একটু সমস্যা ছিল। সব মাল্টা পরিপক্ক করে বিক্রি করা উচিত। বাজারে যেখানে অন্য আফ্রিকার মাল্টা বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর দেশি রাজশাহী অঞ্চলের এই মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব মাল্টা চাষ হচ্ছে, এগুলোর রঙ সবুজ হবে। কারণ জাতটাই এ ধরনের। তাই বিদেশিগুলোর মতো রঙ হবে না। তবে মাল্টার যেভাবে চাষাবাদ বাড়ছে, সে অনুযায়ী বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণাও চলছে। আশাকরি একসময় আমাদের বিদেশি মাল্টার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। বাংলা ট্রিবিউন।

এসবি/জেআর