সন্ধ্যা ৬:৪৬ মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯


দুর্গাপুরে পানচাষিদের মাথায় হাত

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : February 13, 2018 , 6:34 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ
পোস্টটি শেয়ার করুন

মিজান মাহী, দুর্গাপুর : গত জানুয়ারি মাসের তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও টানা শৈতপ্রবাহে ঠাণ্ডাজনিত কারণে বর্তমানে দুর্গাপুরসহ আশে পাশের অঞ্চলে পান বরজে পান ঝরে যাওয়া ও পচন রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। বরজ থেকে ভেঙে গোছানোর পরে দেখা দিচ্ছে ভাল পানে কালো দাগ ও পচন রোগ। আর এতেই ভাগ্য টলে গেছে চাষিদের। এক মাসের ব্যবধানেই দুর্গাপুর উপজেলার আশে পাশের এলাকাতে পান চাষিদের লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন আড়তে পান চাহিদা মত পান না থাকায় চাষিদের সাথে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ও আগত পান ব্যবসায়ীরা।

পানচাষিরা জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বরজ গুলোর পান হঠাৎ করেই ঝর থাকে। গত এক মাস হতে এ অঞ্চলের পান বরজ গুলোতে অজ্ঞাত পচন রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে। বরজ গুলেতে হঠাৎ করে পানের বোটা নরম ও পাতা লাল হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করেছে। এ রোগের কোন সঠিক ওষুধ না পাওয়ার কারণে ব্যাপক হারে গাছ থেকে পান ঝরে পড়েই চলেছে। বর্তমানে পান বরজ পান ঝরে পড়ার কারণে বরজ গুলো পান শূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার বারইন নদী বিধৌত কালিগঞ্জ, দাওকান্দি, ধোপাঘাটা, ছিলো পান চাষের প্রথম এলাকা। এ অঞ্চলেই পান চাষ প্রথম শুরু হয়। তখন পান কেনা বেচা হতো রাতে, যৌবনভরা বারইন নদীতে নৌকা ভর্তি পান চলে যেত মাধবনগর রেল স্টেশনে। পরে রেলগাড়ির মাধমে দেশের ছোট বড় শহরে পাইকারী বিক্রি হতো। এই উপজেলার দাউকান্দি, পারিলা, রসুলপুর, ব্রহ্মপুর, আনোলিয়া, সুখানদিঘী, পানানগর, হোজা, মাড়িয়াসহ বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ৯৫ ভাগ পরিবারে পান বরজ আছে। পানই তাদের একমাত্র অর্থকারী ফসল।

উপজেলার দাওকান্দি, কানপাড়া, সুখানদিঘী ও কালিগঞ্জ গ্রামের পানচাষি মিঠন, দলু, হাবিবুর, সাইফুল ও খলিলুর জানান, বরজ থেকে ভাল পান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজারজাত করণে প্রক্রিয়াজাত করতে গোছানো ও গাদি করা হয়। এরপর বিক্রির পালা। কিন্তু সকালে পানচাষিদের মাথায় হাত। যে বিড়া টানা হচ্ছে তাতেই নুন্যতম অর্ধেকে কোনটা কালোদাগ আবার কোনটা পচা। রোববারের দামের চেয়ে আজ প্রতি পোয়ায় দেড় হাজার টাকা কম। একদিকে দাম কম অন্যদিকে পানে দাগ। অনেকে দাম না পেয়ে পান ফেলে মনের দুঃখে বাড়ি ফিরেছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সর্বস্বান্ত হবে চাষিরা।

কুমিল্লা ও নীলফামারী হতে আগত পান ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক ও জালাল হোসেন জানান, এখানে আর ভাল পান নেই বললেই চলে। সব চাষির পানে দাগ পড়ে গেছে। এসব বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানিতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ এসব পান যখন গাদি করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে তখন গাদি হতে বের করলে পুরো গাদির পানই পচা বাহির হচ্ছে। ফলে তাদের পান রপ্তানিতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলার শ্যামপুর বাজারের আল্লাহর দান পান আড়ৎতের মালিক আমজাদ হোসেন জানান, দুর্গাপুরের পান সারা বাংলাদেশে আমরা পাঠাই। রংপুর, দিনাজপুর, রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশেই দুর্গাপুরের মিঠাপানের সুনাম আছে। কিন্তু গত মাসের শীতজনিত বৈরি আবহাওয়ার কারণে পান ক্রয় থেকে শুর করে প্রসেসিং শেষ করে পাঠানোর পর পানের রং পালটে তা শুকিয়ে তামাটে রং ধারণ করছে । ফলে আমরা লক্ষ লক্ষ টাকার পান ক্রয় করে তা রপ্তানি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অনেক কৃষক তারা কষ্টে করে পান বিড়া থেকে শুরু করে পানের গাদি সাজিয়ে আড়ৎতে নিয়ে এসে হতাশা পড়ছেন। কারণ ব্যবসায়ীরা রং ধরা পচা পান কিনছেন না।

এসবি/এমএম/এআইআর