বিকাল ৫:১৭ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


দিনভর বৃষ্টিতে দুর্ভোগে নগরবাসী

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 24, 2019 , 8:40 pm
ক্যাটাগরি : পরিবেশ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

শিরিন সুলতানা কেয়া : হেমন্তের আকাশে থাকে সাদা মেঘ। কিন্তু এখন রাজশাহীর আকাশে মেঘের রং কালো। সেই মেঘ আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরছে অনবরত। অসময়ের হঠাৎ এই বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহীর মানুষ। স্থবির হয়ে উঠেছে জনজীবন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে বৃষ্টি।

আবহাওয়া অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার রাত থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সারাটি দিনেও সূর্যের দেখা পায়নি রাজশাহীবাসী। এতে দুর্ভোগে দিন পার করেছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। বৃষ্টির কারণে ভিজে ভিজেই অফিসে যেতে এবং অফিসে ফিরতে হয় চাকরিজীবীদের।

তবে বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা। অচেনা এই শহরে এসে বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ে কয়েকগুণ। সঙ্গে বাড়ে রিকশা-অটোরিকশার ভাড়া। সাধারণ দিনে যেখানে রিকশা ভাড়া থাকে ১০ টাকা, বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার আদায় করা হয়েছে ২০ টাকা।

রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন রোজ হাসান। তিনি বলেন, আমি বগুড়া থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। বাড়ি ফিরবো, কিন্তু বৃষ্টির জন্য গাড়ি পেতে সমস্যা হচ্ছে।

একই কথা শোনা যায় অভিভাবক কামাল হোসেনের মুখে। তিনি বলেন, আমি নাটোর থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। মেয়েকে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দিয়ে বৃষ্টির জন্য ঝামেলায় পড়েছি। কোথায় দাঁড়াবো আর কোথায় বসবো তাই বুঝতে পারছি না। বৃষ্টির জন্য বড় সমস্যাই হচ্ছে।

একদিনের এই বৃষ্টিতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কর্মজীবি মানুষেরাও। বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পড়েছে তাদের কর্মজীবনে। নগরীর বিনোদপুর বাজারে সারাদিন কলাইয়ের রুটি ভাজতে ব্যাস্ত থাকেন রোহানা বেগম। প্রতিদিন লোকের ভীড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার আজ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় তার দোকানে।

রোহানা বেগম বলেন, বৃষ্টির জন্য আজ দোকানে বেশি ভীড় হয়নি। অন্যদিন অনেক লোক হয়। তাই টাকাও বেশি পাই। কিন্তু আজ কিছুই হলো না। এভাবে আরো দুই একদিন বৃষ্টি হলে আমার ক্ষতি হবে।

রোহানার কথায় একমত প্রকাশ করেন বিনোদপুরের ঝালমুড়ি বিক্রেতা আশিক আলী। বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পলিথিনের ব্যাগ জড়িয়ে দোকান খুললেও ভীড় দেখা যায়নি। আশিক বলেন, প্রতিদিন বিকেলে আমার দোকানে প্রচন্ড ভীড় হয়। কিন্তু আজ লোকজনই নেই। দুই একজন শুধু কিনেছে। আজ মনে হয় বিত্রিু হবে না।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার। বুধবার সবনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ৩১ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪ দশমিক শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের কারণে এই সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে এই সময়ে বৃষ্টি হওয়াটা খুব বেশি অস্বাভাবিক নয়। আরো দুই তিন দিন এ রকম হাল্কা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে ভারী বর্ষণের কোন সম্ভাবনা নেই।

এসবি/এসএসকে/জেআর