সন্ধ্যা ৬:৪৫ রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯


দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লক্কড় ঝক্কড় বাস

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

  • রাজশাহীর বিভিন্ন রুটের বাসগুলোর ৮০ ভাগই চলাচলের উপযোগি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়কে শৃঙ্খলা আনার ঘোষণার পরও রাজশাহীতে চলাচল করছে লক্কড় ঝক্কড় যানবাহন। দূরপাল্লার বাসগুলো কিছুটা চলাচলের উপযোগি হলেও আন্ত:জেলা ও উপজেলার রুটগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনের বাইরের চেহারা দেখেই বোঝা যায় এগুলো চলাচলের অনুপযোগি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে জেলার ভেতরে চলাচলকারী বাসগুলোর প্রায় আশিভাগই চলাচলের উপযোগি নয়। এসবের নেই কোন ফিটনেস। এমনকি ফিটনেস দেয়ার অবস্থাতেই নেই এগুলো।

রাজশাহী শহর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও নওগাঁ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। আবার একই উপজেলা থেকে আরেক উপজেলার মধ্যেও কিছু বাস চলাচল করে। মূলত রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য যানবাহনগুলোকেই এসব রুটে চালু করা হয়। বহু বছরের পুরানো নড়বড়ে বাসগুলোর সিট, সিট কভারের যেমন ঠিক নেই ব্রেক কিংবা স্টিয়ারিং এরও নড়বড়ে অবস্থা।
বিআরটিএ এর তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় মোট ১লাখ ৩হাজার ১৩২ টি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ৯৬ হাজার ৫০। বাকি ৭ হাজার ৮২টি বড় যানবাহন। এর মধ্যে রয়েছে বাস, মিনিবাস, মাইক্রো বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও জিপ। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন বাস ও মিনি বাসের সংখ্যা ২ হাজার ৩৩২টি। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ি এসব বাস মিনিবাসের আশি ভাগই রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য। এগুলোর আবেদন করলেও রাস্তায় চলাচলের অনুমোদন দেয়ার আর উপায় নেই। সূত্র জানিয়েছে এই অযোগ্য যানবাহনগুলো মূলত জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর বিভন্ন উপজেলা এবং নওগাঁ ও নাটোরের বেশ কয়েকটি উপজেলায় রাজশাহী শহর থেকে বাস চলাচল করে। আবার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াতেও কিছু বাস চলে। এগুলো মহাসড়কে চলাচলের অযোগ্য বাসগুলোই যাত্রী পরিবহণ করে। এক্ষেত্রে ফিটনেসের বিষয়টি মাথাতেই রাখেন না কেউ। কোন মতে টেনে হিঁচড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেই খুশি। বাসগুলোর রং এরও কোন বালাই নেই। রংচটা এসব গাড়ির নোংরা সিট কভার, সিটে হাঁটু ঠেঁকে যাওয়া সাধারণ বিষয়। কোন কোন বাসের নড়বড়ে সিট বেঁধে রাখা হয়েছে দড়ি দিয়ে। অনেক বাসের জানালার কাঁচ ভাঙ্গা রয়েছে। বৃষ্টির সময় গাড়ির ভেতরে যাত্রীদের ভিজতেও হয়। তারপরও সড়কে প্রতিদিনই এসব পরিবহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব বাসের হেলপাররাও অনেক সময় গাড়ির চালকের আসনে বসে। কেউ কেউ এসব বাসকে প্রশিক্ষণ বাস হিসেবেও ব্যবহার করে।

তবে, এসব বাসের চালক ও শ্রমিকরাও লক্কড় ঝক্কড় অবস্থার কথা শিকার করেন। নাম প্রকাশ না করে একাধিক বাস শ্রমিক জানান, তারাওতো ভালো গাড়িই চালাতে চান। কেউ বা লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি চালাতে চায়? এতে তারাওতো জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলেন। কিন্তু বাস মালিকরা যদি ঠিকভাবে গাড়ি ফিট না করে দেয় তবে কী আর করার আছে। রাস্তায় আগেও সমস্যা হত, তবে এখন অনেক বেশি হয়। তারা বলছেন, রাস্তায় চলতে কেউ তাদের ধরে না। এগুলো মালিকদের ব্যাপার স্যাপার। তবে, কিছু শ্রমিক বলেন, তারাতো এসব বাসেই গাড়ি চালানো বা হেলপারি শিখে থাকেন। প্রথমেই তো কোন মালিক ভালো গাড়িতে কাজের সুযোগ দেবেন না। এসব লক্কড় ঝক্কড় গাড়িতে চলতে চলতেই নিজেদের হাত পাকানোর চেষ্টা করেন তারা।

রাজশাহী বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিয়ারার এস এম কামরুল হাসান বলেন, আমাদের জেলা ও উপজেলাগুলোতে চলাচল করা বাস বা মিনি বাসগুলোর মধ্যে মোট ৮০ শতাংশই ফিটনেস নেই। এসব বাসের অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অভিযানে নামলেই একটি বা দুইটি পরিবহণ আটকের পরই আর কেউ কোন বাস রাস্তায় নামায় না। এছাড়া যে বাসগুলো চলাচল করছে সেগুলোর কোনটিরই আর ফিটনেস প্রদানের যোগ্য নয়।

এদিকে, ফিটনেসবিহীন গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। পুলিশের মহা-পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদিদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতেও বলা হয়েছে। কিন্তু সেই আদেশের কোন বাস্তবায়ন নেই। এনিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তেমন কিছু করনীয় নেই বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশেই অবস্থিত শুভ প্রেট্রল পাম্প। সেখানে দেখা গেল বেশিরভাগ ফিটনেস ছাড়া গাড়িতেই দেওয়া হচ্ছে তেল। একই অবস্থা রাজশাহী শাহ্ মখদুম কলেজের সামনের আরেফীন ফিলিং স্টেশন এরও। আরেফীন ফিলিং স্টেশন ম্যনেজার সোলাইমান আলী বলেন, আমরা তো কাগজ চিনি না। এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক থাকতে হবে। তারা থাকলে তারা দেখে দিবে আমার তেল দিবো। তাছাড়া এখানে অনেকেই পড়ালেখাও জনে না। তারা কি করে এসব ফিটনেস দেখবে। আমার ফিটনেস দেখবো না তেল দিবো। এটি প্রশাসনকেই করতে হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার সালমা সুলতানা আলম বলেন, আমাদের সড়কে কাজ করতে পারি। কোন পাম্পে তেল দিলো আর কোনটি দিলো না সেটি আমাদের দেখার মধ্যে নেই। এছাড়া আমাদের রাস্তায় ফিটনেসসহ সব ধরণের মটরযান আইনের অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামী মাসে এটি সারা দেশে এক সাথে কার্যকর হবে তখন এটি আরও বেগবান হবে। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ বলেন, রাস্তায় ফিটনেস বিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তবে তেল দেওয়া বিষয়ে আমারা এখনও অভিযান করিনি। রাস্তায় কোন ধরণের ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল করলে তাদের ধরে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এসবি/এসএস/এআইআর