সন্ধ্যা ৬:১৮ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


টানা বৃষ্টিতে স্থবির জনজীবন

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 25, 2019 , 8:32 pm
ক্যাটাগরি : পরিবেশ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন হেমন্ত। কিন্তু আকাশ থেকে ঝরছে শ্রাবণের ধারা, যেন বর্ষাকাল! সেই বুধবার রাতে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তারপর কখনও ঝিরিঝিরি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি চলছেই। এমন টানা বৃষ্টিতে জনজীবন স্থাবির হয়ে পড়েছে। আর তাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে বিভাগীয় এই শহর।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বৃষ্টি হয়েছে টানা ৪৭ ঘণ্টা। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার। আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৬৫ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার মধ্যে বৃষ্টিপাত থাকলে তাকে ভারি বর্ষণ বলা হয়। সে অনুযায়ী, রাজশাহীতে এখন ভারি বর্ষণই হচ্ছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আরও দু’একদিন।

এদিকে একটানা বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকাল থেকে শহরের অনেক স্থানে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, বর্ণালী মোড়, লক্ষীপুর এবং রাজশাহী আদালত চত্ত্বরে পানি জমেছে। এছাড়া পানি জমার খবর পাওয়া গেছে, নগরীর উপশহরের মতো অভিযাত আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে। অনেক ওয়ার্ডেই নর্দমা উপচে পানি উঠেছে রাস্তায়।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরীর অনেক ড্রেন ও নালা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার কারণে পানি জমে যাচ্ছে। এতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নর্দমার সঙ্গে মিশে একাকার বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে পথ চলতে হচ্ছে। এর ফলে তারা চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই খুব জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না।

টানা বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় শিক্ষার্থীরা অবশ্য এ দিন দুর্ভোগে পড়েননি। ছুটির দিন বলে অফিসে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি। তাই চাকরিজীবীদেরও ভিজতে হয়নি। কিন্তু সংসারের ঘানি টানতে এই বৃষ্টির মধ্যেই বের হতে হয়েছে খেটেখাওয়া অনেক মানুষকে। গায়ে পলিথিন জড়িয়ে তারা কাজে গিয়েছেন।

এমনিতেই শুক্রবার, তার ওপর বৃষ্টির কারণে এ দিন শহরের দোকানপাট খোলেনি। বৃষ্টির কারণে যানবাহনও কম। ফলে এ দিন শহর একেবারেই ফাঁকা দেখা গেছে। পলিথিন জড়িয়ে যে কিছু সংখ্যক রিকশা চলাচল করছে তারা অবশ্য বাড়িয়ে ফেলেছেন ভাড়ার পরিমাণ আগের ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে নগরবাসীর চলাচলের অন্যতম প্রধান ভরসা অটোরিকশাতেও বেড়েছে ভাড়া।

এদিকে বৃষ্টির কারণে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তাই কমে গেছে তাপমাত্রা। অনুভূত হচ্ছে শীত। বৃষ্টির মধ্যে যারা শহরে বের হয়েছেন তাদের অনেককেই শোয়েটার পরতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৪। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসার কারণে অনুভূত হচ্ছে শীত।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, সাগরে লঘু চাপের কারণে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তাপমাত্রাও কমছে। আরও দু’একদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। তারা ধারণা করছেন, এই বৃষ্টি শেষেই নামতে পারে বৃষ্টি। তাই অনেকেই এটাকে শীত নামানোর বৃষ্টি বলে আখ্যায়িত করছেন।

এসবি/এসএসকে/জেআর