বিকাল ৪:১৮ মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯


জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রায় বাদশা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ৫, ২০১৯ , ১০:০৬ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর,সাহেব-বাজার বিশেষ
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি শুরু করেন ফজলে হোসেন বাদশা। ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি। আগে থেকেই জড়িত ছিলেন বাম রাজনীতির সঙ্গে। ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। হন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক।

প্রথম দফায় ২০১৪ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। পার্টির দশম কংগ্রেসের শেষ দিন মঙ্গলবার সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ পদেই রাখা হয়। এর মাধ্যমে নতুন মাত্রা যোগ হলো ফজলে হোসেন বাদশার জাতীয় রাজনীতিতে।

বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ফজলে হোসেন বাদশা পর পর তিনবার রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দশম এবং সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি।

ফজলে হোসেন বাদশার জন্ম ১৯৫২ সালের ১৫ অক্টোবর। ১৯৮০ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি রাকসুর ভিপি ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন তিনি। সহযোগী সংগঠন যুবমৈত্রীরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মূলদলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পলিট ব্যুরো সদস্যও ছিলেন। তারপরই পর পর দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন।

বিএনপি-জামায়াতকে রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ১৪ দল গঠনের পর ফজলে হোসেন বাদশা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় এবং জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তিনি। তার আমলেই বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে উন্নয়নের ব্যাপক ছোঁয়া লেগেছে। সংসদে উত্তরাঞ্চলের দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন নিয়মিত। বর্তমানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বে আছেন সংখ্যালঘু ও আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতির।

এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ অঞ্চলের মানুষকে উজ্জীবিত করতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। প্রাণনাশের হুমকির পরও কথা বলেছেন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক লড়াই আর সংগ্রামে অভিজ্ঞ বাদশার প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসাও রয়েছে অকৃত্রিম। রাজশাহীর মানুষ তাকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় খুশি গোটা উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, দেশের অপরাপর বাম রাজনৈতিক দল যারা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করে তাদের সঙ্গেও আমাদের ঐক্যের হাত বাড়িয়ে দেবো। একই সঙ্গে সামাজিক সংগঠনগুলোকে আমরা আহ্বান জানাবো অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার। দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে সমুন্নত রাখাই হবে আমাদের লক্ষ্য।

এসবি/আরআর